#আমি_বিয়ে_করব_না_কাকু
(পরের অংশ)
জীবনের অন্যতম এক ভন্ডামির বিবরণ ডায়েরিতে লিখে কলম ছাড়ল শ্রুতি। জীবনে তার ডায়েরী লেখার অভ্যাস নেই। আজ লিখল। মাঝেমধ্যে অভ্যাসের বাইরের কিছু কাজ করা ভালো।
আব্বুকে আর থামানোর উপায় নেই। তিনি বিয়ে দিয়েই ছাড়বেন। কিন্তু সংসার শ্রুতির পোষাবে না। এটা এক অবর্ণনীয় ব্যাপার। কাউকে বোঝানো যাবেনা তার অদ্ভুত জীবনধারার ব্যাপারে। সুতরাং শেষ অবধি বোধহয় বিয়ে করে ফেলতেই হবে। তবে সেটা একটু অস্বাভাবিক রকমের হলে ভালো হয়। যাতে সংসারের ঘানি না টানতে হয়।
বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। এখন এক কাপ কফি হলে ভালো হতো। কিন্তু রান্নাঘরে গিয়ে বানাতে ইচ্ছে করছে না।
রুমে ফিরে শেল্ফের বইগুলো সব নামিয়ে ঝারল। বিছানার ওপর সারি সারি ধরে সাজিয়ে সেগুলোকে বুকের সাথে আগলে ধরে বসে রইল অনেকক্ষণ। সে আদর্শ পাঠক নয়। বই পড়ার মাঝেও ভণ্ডামি আছে তার। একসাথে বিশটা বই রানিং পড়ার স্বভাব তার। অপঠিত শ-খানেক বই শেল্ফে পড়ে থাকতেও আবার নতুন বই কেনার রোগ আছে।
অনেকক্ষণ বইগুলোকে জড়িয়ে ধরে থম মেরে বসে রইল। এই ঘরটা তার। এটা ছাড়া আর কোনো ঘর তার হতে পারেনা, অথবা এই ঘর তাকে ছাড়া পড়ে থাকতে পারেনা। কিন্তু বিয়ে করলে এই সব ছেড়ে দূরে যেতে হবে তার! এই রুম, দোতলার চিলেকোঠা, তারপর ছাদটা, রুমের বেলকনি, বইয়ের তাক, এই বিছানা, নিয়মহীন স্বাধীন জীবন....শ্রুতির বুকটা চিরচির করে উঠল।
সব মেয়ের নাকি একটা বয়সের পর নিজের একটা সংসার ও স্বামীর বাড়ি নিয়ে কতরকমের স্বপ্ন আসে, তারা সেগুলো সাজায় রাতভর! শ্রুতির আসেনি। কেন আসেনি, জানা নেই। সে ভাবতেও পারেনা, তার এই ভবঘুরে জগৎটাকে ছেড়ে নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমানোর কথা।
এখন ভাবতে হচ্ছে। আব্বু-আম্মু আবেগী সব কথাবার্তা বলে। অনার্স থার্ড ইয়ার ফুরিয়ে এলো। বিয়ে আসছে রোজ, লোকে কথা বলছে তাকে নিয়ে।
অনেকক্ষণ রুমের মধ্যে পায়চারী করল, ইয়ারফোনে গান বাজছে,
আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকার চিপায়...
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখল। এরপর বিছানায় এসে ধপ করে শুয়ে পড়ল। ঘুমাতে পারলে ভালো লাগতো। ঘুমটা আসছে না। তাকের ওপর কাজী নজরুল ইসলামের 'মৃত্যুক্ষুধাʼ উপন্যাসটি তাকে ডাকছে। এই মন থমথমের ক্ষণে ওমন বিষণ্ন উপন্যাস পড়া ঠিক না। এই সব সময় ঝরঝরে কোনো হাস্যরসাত্মক মজার উপন্যাস পড়া ভালো। কিন্তু শ্রুতির ওটাই পড়তে মন চাইছে।
—
সেই ভদ্রলোকের নামধামও কিছু জানা নেই। তাদের নাকি কার-ও আছে। সেই কারেই নিশ্চয়ই নিতে আসবে তাকে। তার মানে ভালো টাকা পয়সাও আছে। এতে একটু আগ্রহ পেল শ্রুতি। অন্তত জীবনে অনেক বই কিনতে হলেও, অনেক টাকার দরকার।
শ্রুতি নিজের একটা অপছন্দের যেমন-তেমন জামা পরল। মুখে ফেসওয়াশ অবধি দিলো না। এমনিতেও তার নিজেকে সুন্দরী লাগেনা, তারপর কোনো রকম সুন্দর দেখানোর প্রচেষ্টা করা যাবেনা ভুলেও, বরং খারাপ দেখালে ভালো।
সে একটা পরিকল্পনা করল। লোকটা গাড়ি নিয়ে এসে দাঁড়ালে সে পা পিছলানোর নাটক করে ধপাস করে পড়ে যাবে তার সামনে। অপমাধজনক একটা ব্যাপার। তাতে লোকটার ওকে অপদার্থ মনে হতে পারে।
হর্ন বাজছে। শ্রুতি শুনেও বসে রইল। শারমিন বেগম এলেন, “ও শ্রুতি, চল চল। আইছে আওফ।ʼʼ
-“আওফ! এ আবার কী নাম?
-“ভালো নাম তো। মুনতাসীর বিল্লাহ আওফ। আয় আয়!ʼʼ
শ্রুতি এগোতে লাগল। শারমিন অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, “এইটা কী জামা পরছিস? থাপ্পর মারব একটা।ʼʼ
-“প্লিজ মারো, আম্মা। ওয়েট, থাপ্পরটা জমা রেখে ওই লোকের সামনে মারবে প্লিজ?ʼʼ
শারমিন দাঁত কিড়মিড় করলেন, “পাগল পালতেছি আমি ঘরে। কোনো গন্ডগোল করবি না খবরদার।ʼʼ
গাড়িটা সাদা, চকচকে পরিস্কার। শ্রুতির পছন্দ হলো। যাক বিয়েটা অন্তত বড়লোকের বাড়ি থেকেই এসেছে। বাই এনি চান্স বিয়ে হয়ে গেলেও সমস্যা নেই বিশেষ। তবে একটাই চিন্তা, সেই বিল্লার আবার তাকে পছন্দ না হয়ে যায়।
লোকজন ঘুরে ঘুরে দেখছে, ওদের বাড়িতে কে এসেছে কার নিয়ে! শ্রুতি গিয়ে দাঁড়াল আস্তে করে। পা কাঁপছে তার। মুশকিল হলো খুব। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি আগে হয়নি। সে সবকিছু খুব ভালোভাবে কাটাতে পারে। এখন মনে হচ্ছে শেষমেষ ভালো জায়গায় ফেঁসেছে।
ধপাস করে পড়াটা হলো না। মান-ইজ্জতের ব্যাপার, সেটা ইচ্ছা করে নষ্ট করা যায় না।
গাড়ি চলছে। শ্রুতি ভাবছে, বাপ-মায়েরা মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে এমন বেলেহাজ হয়ে যায় কেন? জীবনে কোনোদিন রেস্টুরেন্টে যেতে দেয়নি, আজ অচেনা লোকদের সাথে আলাপ করতে পাঠিয়ে দিলো আবার। এবার আজ লোকটা কথা বলতে চায় ওর সঙ্গে।
শহরের কাছাকাছি এসে আওফ বলল, “তোমার কোনো পরিচিত রেস্টুরেন্ট আছে, সেরকম কোথাও যেতে চাও?ʼʼ
-“না।ʼʼ
-“ঠিক আছে। তাহলে আমি যেখানে নিয়ে যাব, সেখানেই যাবে তো!ʼʼ
শ্রুতি একবার তাকাল, জবাব দিলো না।
রেস্টুরেন্টটা ভালো। বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। লোকজন খুব বেশি বা কম না, মোটামুটি আছে। তারা রুফটপের পাশে একটা টেবিলে বসল। আওফের খালুর ভাইয়ের রেস্টুরেন্ট এটা। সবাই চেনে জানে তাকে। আওফ দুটো টিস্যু নিয়ে তুলে নিয়ে গম্ভীর মুখে জিজ্ঞেস করল, “তোমাকে আজকে কিছুটা নার্ভাস লাগছে। সেদিন এইরকম লাগেনি।ʼʼ
-“আজ আমি নার্ভাস, সুতরাং লাগাটাই স্বাভাবিক।ʼʼ
-“কথাবার্তা তো ভালোই গুছিয়ে বলো। আবার বলো, বই পড়ো না, শুধু কেনো। বড়ফুপি বলল, তোমার ঘরে নাকি একগাদা বই।ʼʼ
-“হ্যাঁ, আছে টুকটাক। তো বই পড়লে লোকে কথা গুছিয়ে বলে?ʼʼ
আওফ মাথা নাড়ল, “হ্যাঁ, বাক্য-শব্দের ভান্ডার হয়ে যায় তারা। আর সেইরকম সাহিত্যিক টাইপের চিন্তাভাবনা আর কথাবার্তা বলার ট্রাই করে।ʼʼ
-“আপনি কি উপহাস করছেন আমায়?ʼʼ
আওফকে দেখে অসন্তুষ্ট মনে হচ্ছিল, গোমরা মুখে বলল, “নাহ। কী খাবে?ʼʼ
শ্রুতি মাথা নাড়ল, “আপনি খান। আমি খাব না।ʼʼ
-“ড্রিংক টাইপের কিছু নাও। নার্ভাসনেস কেটে যাবে।ʼʼ
-“এখন আর লাগছে না ওমন।ʼʼ
-“হ্যাঁ, দেখে বোঝা যাচ্ছে।ʼʼ
সেজান আজ শুধু দেখছে অদ্ভুত মেয়েটাকে। সে খুব অবাক হয়েছিল, কোনো পাত্রপক্ষের সামনে ওমন সব অদ্ভুত কথাবার্তা কোনো মেয়ে বলতে পারে বলে ধারণা ছিল না তার। পাশে বসে আছে ইয়ামিন। সে সেজানের কানে কানে বলল, “কী বুঝতেছিস?ʼʼ
-“কিছুই না। তুইও বুঝবি না। আরেকটু বস, যেসব কথা বলবে, কানটান লক হয়ে যাবে। অদ্ভুত মেয়ে মানুষ। আবোল-তাবোল কথা বলে খালি।ʼʼ
কফি এলো। মগ এগিয়ে নিয়ে মগের ওপরে বৃত্তের মতো আঙুল ঘোরাচ্ছিল শ্রুতি। তার মুখটাও গম্ভীর। মাথা নিচু। কয়েক সেকেন্ড দেখল আওফ, এরকম এক পরিস্থিতিতে কোনো ছেলেরই মুড ঠিক থাকে না। তবু নরম করে জিজ্ঞেস করল, “তোমাকে কি বাড়ি থেকে চাপ দিচ্ছে বিয়ে করার জন্য?ʼʼ
মাথা তুলল শ্রুতি, “ঠিক চাপ নয়। তবে বোঝেন তো, অনিবার্য একটা ব্যাপার। এড়িয়ে যাবার পথ নেই।ʼʼ
-“এড়িয়ে যাবার পথ থাকলে বিয়ে করতে না?ʼʼ
শ্রুতি আলতো হাসল, “মনেহয় না।ʼʼ
আওফ ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, “প্রেম করেছ কয়টা?ʼʼ
-“একটা মনেহয়।ʼʼ
টেবিলের বাকি তিনজন চুপ। অকপট স্বীকারক্তি। সেই জবাবটাও আবার ভেজালমার্কা। ইয়ামিন খোঁচা মারল সেজানকে, “কীসব বলে রে!ʼʼ সেজান ইয়ামিনকে ইশারা করল, “দেখতে থাক। সামনে আরও কী কী হয়!ʼʼ
আওফ কপাল জড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, “ব্রেক-আপ কেন হলো?ʼʼ
-“হয়ে গেল।ʼʼ
-“কেন?ʼʼ
-“আমি এক্সপেরিমেন্টাল মানুষ। ছোটবেলা থেকে বহু এক্সপেরিমেন্ট করেছি। তো বয়স যখন প্রেমের এলো, তখন সেইমতো একটা এক্সপেরিমেন্ট করার সাধ জাগল। একটা প্রেম করলাম।ʼʼ
একটু ক্ষোভ ঝারল যেন সেজান, “আর ছেলেটাকে ছ্যাঁকা দিয়ে দিলেন?ʼʼ
শ্রুতি কফিতে এক চুমুক দিয়ে কাপ নামিয়ে আরাম করে বলল, “না।ʼʼ
-“না মানে? ছেলেটা নিশ্চয়ই আপনাকে খুব ভালোবেসেছিল, কিন্তু আপনি তো বিজ্ঞানী মানুষ, গবেষণা করেন সবকিছু নিয়ে। প্রেম নিয়েও করতেছিলেন, কিন্তু তার তো মন ঠিকই ভেঙেছে।ʼʼ
-“না ভাঙেনি। মনটা মূলত আমার ভেঙেছিল।ʼʼ
সেজান মুখ গোমরা করল, “আবার কথা প্যাঁচাচ্ছেন কিন্তু আপনি।ʼʼ
-“না, প্যাঁচাচ্ছি না। আপনি অধৈর্য হচ্ছেন।ʼʼ
সেজান গম্ভীর মুখে বলল, “আচ্ছা বলেন।ʼʼ আওফ চুপচাপ বসে রইল।
শ্রুতি বলল, “এক্সপেরিমেন্ট করতে করতে আমি মনেহয় সত্যি তার প্রেমে পড়ে গেছিলাম।ʼʼ
সেজান রাগলো, “মনেহয়? মানে আপনি শিওর না? নিজের অনুভূতি নিজে বোঝেন না? উফফ, মেজাজ খারাপ করবেন না। সোজা কথা বলেন।ʼʼ
শ্রুতি কফিতে আরেকটা চুমুক দিয়ে বলল, “আমার এক সময় তার সাথে কথা না বললে ভালো লাগতো না, খুব অস্থির হয়ে পড়তাম, কষ্ট লাগতো খুব। এরপর একসময় মনে হলো, তার প্রতি আমার ভালোবাসা মহাকাশের মতো বিস্তৃত, যার কোনো সীমা নেই।ʼʼ
সেজান একটু নরম হলো, “ওও। তাহলে ছ্যাঁকাটা আপনিই খেলেন!ʼʼ
-“না।ʼʼ
সেজান ভ্রু জড়িয়ে ফেলল। আওফও খুব আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। ইয়ামিন কিছুই না বুঝে শুধু বুঝতে চেষ্টা করছে। শ্রুতি চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে বলল, “আমি যখন ক্লাস নাইনে, তখন আমার এক মামাতো ভাই আমাকে পছন্দ করতো। আমি তার প্রোপোজাল এক্সেপ্ট করিনি। এরপর সে যখন জানল আমার মতো খাঁটি নিরামিষ প্রেম করছে, তখন তার কষ্ট হলো। তার এই কষ্ট দেখে আবার তার খালাতো ভাইয়ের কষ্ট হলো। সেই কষ্টে তার খালাতো ভাই আবার আমার বয়ফেরেণ্ডকে আমার সম্বন্ধে আজেবাজে কথা বলল।ʼʼ
-“আজেবাজে কথা কেমন?ʼʼ
-“যেমন ধরুন, তার খালাতো ভাই যা চেয়েছিল, আমি নিরামিষ বলে হয়নি, সে-সবই কল্পনা করে বলেছিল।ʼʼ
-“যেমন?ʼʼ
-“যেমন, আমি আর তার খালাতো ভাই নাকি দুজন প্রেম করে ধরা খেয়েছিলাম, এরপর আমার পরিবারের সাথে তাদের পরিবারের একটা হেস্তনেস্ত হয়ে গেছে। এইসব।ʼʼ
সেজান মাথা চেপে ধরে বসে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বলল, “তারপর আপনার বয়ফেরেণ্ড চলে গেল?ʼʼ
-“হ্যাঁ।ʼʼ
-“কীভাবে চলে গেল?ʼʼ
-“সে বলল, 'আমি তোমাকে ভালো রাখতে পারব না, তুমি আমার কাছে ভালো থাকতে পারবে না। তুমি সুখী মেয়ে, আমি তা না। পেটে ভাত না থাকলে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়।ʼ তো আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'যদি জানালা আঁটকে রাখি? আমরা বরং তাহলে জানালা আঁটকে রাখব।ʼʼ
ইয়ামিন এত্ত জোরে হেসে উঠল, উপস্থিত সকলে একযোগে তাকাল ওদের দিকে। সেজান ঠোঁট চেপে হাসছে। শ্রতি কফিতে চুমুক দিয়ে খুব হতাশ স্বরে বলল, “আমি দুঃখের কথা বলছি আর আপনারা হাসছেন, আপনাদের তো কোনো ম্যানার্স নেই দেখছি।ʼʼ
আওফ কপালে হাত চেপে ধরে বসে ছিল। সে বলল, “এরপর কী হলো?ʼʼ
শ্রুতি বলল, “সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, 'তুমি বুঝতে পারছো না। আমার বাড়িতে ভীষণ ঝামেলা চলছে। সিগারেট খেতে খেতে আমার ফুসফুসে ফুঁটো ধরা পড়েছে। আমি আর বেশিদিন বাঁচব না। তোমার এত বড় ক্ষতি আমি করতে পারব না।ʼʼʼ
সেজান অবাক, “ফুসফুসে ফুঁটো?ʼʼ
-“হ্যাঁ। তো আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'সিগারেট খান কত বছর আপনি? সে বলল, 'দুই বছর।ʼ আমি বলেছিলাম, 'আমি সিগারেট টানা আশি বছরের বুড়োকেও বেঁচে থাকতে দেখেছি। আচ্ছা, আপনি কি অটিস্টিক? মানে আপনার ফুসফুসে কি অটিজম আছে?ʼʼ
সেজান দুই ঠোঁটে হাত চেপে ধরে হেসে ফেলল। ইয়ামিন দিশেহারা হয়ে বলল, “এরপর?ʼʼ
-“আমাকে ব্লক করল সব জায়গা থেকে।ʼʼ
ইয়ামিন হাসতে হাসতে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। আওফ তখনও চুপচাপ দেখছে ওদের কাণ্ড। সেজান হাসি চাপলো কোনোমতো, “ওওহ, আপনি তাহলে ছ্যাঁকা খেলেন? আলটিমেটলি আপনার এক্সপেরিমেন্ট অবশেষে সফল হলো।ʼʼ
-“না। হলো না।ʼʼ
-“হলো না?ʼʼ
-“জি, না। হলো না। কারণ সে চলে যাবার দুই সপ্তাহ পর আমি টের পেলাম, তার চেহারাটা অবধি আর মনে করতে পারছি না আমি কোনোভাবেই।ʼʼ
ইয়ামিন থম মেরে অনেকক্ষণ বসে থেকে বলল, “আমাকে প্লিজ বোঝাবেন, আপনাদের মধ্যে ছ্যাঁকাটা আসলে কে খেয়েছে?ʼʼ
শ্রুতি ক্লান্ত স্বরে বলল, “আমি।ʼʼ
সেজান গম্ভীর স্বরে বলল, “আপনি ছ্যাঁকা খাওয়ার লোক? আপনি হলেন একটা ডাকাত।ʼʼ আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে দুহাত উচু করে তুলে ধরে মাথা নাড়ল, “আর আমি আজ বুঝলাম আর স্বীকারও করতেছি, আপনি আসলেই ভণ্ড, তাও যে-সে ধরণের ভণ্ড না, খাঁটি ভণ্ড।ʼʼ
~তেজস্মিতা মুর্তজা
[আবার এর পরের অংশ কখনও টুকুশ করে দিয়ে দেব।]
0 Comments
ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য 😊 আপনার কমেন্ট আমাদের উৎসাহ দেয়।