অশরীরী সহবাস (11,12,13)

 


গল্প_ অশরীরী সহবাস 

পর্ব _১১, 12,13

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

পরের দিন ইমাম সাহেব নিজেই আমাদের বাসায় আসলো আর আমার বাবা মাকে বললো।


আমি ঈশিতার সাথে আলাদা ভাবে কিছু কথা বলতে চাই। 

বাবা-মা, ইমাম সাহেব কে আমার ঘরে নিয়ে এল। তারপরে তারা সকলে ঘরের বাইরে চলে গেল। 


আমি ইমাম সাহেবকে একটু সালাম দেই, আর বলি হুজুর আপনি ঠিক আছেন তো আপনার শরীর এখন কেমন আছে । 


আলহামদুলিল্লাহ মা আল্লাহ পাকের অসীম রহমতে এখন আমি অনেক ভালো আছি।, তোমাকে অনেক কিছু জানানোর আছে আমার। 


আমি তখন ইমাম সাহেবকে বলি আমি , সব কিছু বুঝতে পেরেছি হুজুর, কারণ আমি গতকাল শেষ রাতে স্বপ্নে দেখেছি ইয়ামিনকে তার পরিবার নিয়ে যাচ্ছে।, যাওয়ার আগে তারা আমাকে বলে গেছে আমি যেন আর কোনোভাবেই ইয়ামিনের সাথে যোগাযোগ না করি হয়তো তারা তার বাবা-মা ছিল। 


ইমাম সাহেব আমার মুখে এসব কথা শুনে আমাকে বললো,কি বলছো তুমি এসব ঈশিতা , ইয়ামিন এতিম ইয়ামিনের পৃথিবীতে কেউ নেই, ইয়ামিন ছোট থেকেই আমার কাছে বড় হয়েছে, আর সে রাজা হয়েছে তার যোগ্যতায়, আসলে ইয়ামিন যে গোত্রের জ্বিন,সে গোত্রের এখন আর কেউ এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই, 


ইয়ামিনি ছিল সেই গোত্রের একমাত্র অবশেষ্ঠ ব্যক্তি, 

আসলে ইয়ামিনের গোত্রের সকল জ্বিন ছিল অন্যান্য জ্বিনের থেকে দশ গুণ বেশি শক্তিশালী , 

আর যেহেতু এখন ইয়ামিনের গোত্রের আর কেউ বেঁচে নেই, ইয়ামিন ছাড়া ,এই কারণে আশেপাশের সকল ভালো জ্বিনেরা তাকে তাদের মহারাজ বানিয়েছে। 


গতকাল আমি ইয়ামিন আর তার, পাঁচজন খুব কাছের জ্বিনেদের সাথে মিলে বিয়ের জন্য তোমাদের বাড়ির দিকে আসছিলাম, আমরা নদীর পাড় ধরে আসছিলাম, চারিপাশে ততক্ষণে সন্ধ্যের অন্ধকার নেমে এসেছে, 

 আমরা লক্ষ্য করলাম হঠাৎ করেই, চারিপাশে অনেক জোরে জোরে বাতাস বইতে শুরু করল আকাশে কালো মেঘ ঢেকে গেল,। 


ইয়ামিন তখন আমাকে বলল আশেপাশে কেউ আছে । 

তখনই আমরা লক্ষ্য করলাম আশেপাশের সকল বাঁশ বাগান থেকে, একদল কালো, , লম্বা লম্বা কিছু ছায়ারা বের হয়ে এলো, তাদের কারো শরীর দেখা যাচ্ছিল না, 

শুধু দেখা যাচ্ছিল তাদের, চোখ দুটো, আর তাদের সকলের চোখ দুটো ছিল আগুনে তৈরি। 


ইয়ামিন যখন আমাকে বলল ইমাম সাহেব আপনি এখান থেকে পালান, এরা হচ্ছে সকলের অগ্নি রাজ গোত্রের জ্বিন,এরা খুবই শক্তিশালী জ্বিন এরা এখানে কেন আর কি কারনে এসেছে আমি বুঝতে পারছি না, 

তখনই আমরা দেখলাম আরো হাজার হাজার কালো ছায়া আকাশ থেকে উড়তে উড়তে এসে এই মাটিতে, দাঁড়ানো শেষ ছায়া গুলোর পিছনে এসে দাঁড়ালো। 


ইয়ামিন আমাকে বলল ইমাম সাহেব আপনাকে পালাতে বলেছি আপনি এখনই পালান, ইয়ামিন তার সাথে থাকা পাঁচজন জ্বিনকে আমার সাথে করে পাঠিয়ে দিল সেখান থেকে, আর পাঁচজনকে বলল যেন আমাকে তারা রক্ষা করে । তারপর ইয়ামিন একাই ঝাঁপিয়ে পড়লেও সেসব হাজার হাজার কালো ছায়ার উপরে। 


সে পাঁচজন আমাকে নিয়ে বাতাসের বেগে সেখান থেকে ছুটে পালিয়ে আসতে শুরু করলো, 

ইয়ামিনের সাথে কি হয়েছে আমি বলতে পারব না?


আমি তখন ইমাম সাহেবকে বলি তাহলে আপনি অজ্ঞান হলেন কি করে,?,


আসলে ঈশিতা আমাকে নিয়ে যখন সে পাঁচজন জ্বিন সেখান থেকে পালিয়ে আসছিল, আমরা যখন নদীর ঘাটে দিকে ছুটে আসছিলাম সাহায্যের জন্য। 

ততক্ষণে চারিপাশে মাগরিব শেষ হয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে।


নৌকার ঘাটে আসতেই আমি দেখতে পাই সেই নৌকার উপরে একটি কালো জুব্বা পড়ে মাথায় গামছা বেঁধে একটি লোক বসে আছে।


আমি তারা তারি এসে সেই নৌকার দিকে ছুটে যাই, সাহায্য পাওয়ার আশায়, কারণ ওই দিকেই ইয়ামিন একা ছিল, আর আমি জানি যদি অনেক মানুষজন মিলে সেখানে যায় তাহলে সে জ্বিনগুলো সেখান থেকে পালিয়ে যাবে আর আমি ইয়ামিনকে উদ্ধার করতে পারব। 


আমি যখন সে নৌকায় বসে থাকা লোকটির দিকে এগিয়ে যায় আর তাকে পেছন থেকে ডাকতে শুরু করি, এইযে মাঝি ভাই একটু সাহায্য করুন আশেপাশে যারা যারা আছে সকলকে জোরে জোরে ডাকুন, 

আমি আপনাদের এই গ্রামের মাদ্রাসার বড় ইমাম, 

আমি অনেক বড় বিপদে পড়েছি। আপনাদের সাহায্য আমার দরকার আশেপাশে যত মাঝি আছে সকলকে ডাকুন, নয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে আমাকে সাহায্য করুন। 


সেই মাঝিটা তার মাথা আমার থেকে ঘোরায়, কিন্তু সে তার শরীরটা একই জায়গায় রেখে দিয়েছিল, তার মাথাটা পুরোপুরি উল্টো ভাবে ঘুরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমি দেখতে পাই তার চোখের জায়গায় কোন চোখ নেই, মুখে আছে একটি বিচ্ছিরি হাসি, এটা দেখে আমিও নিতে পারিনা আমি সেই নদীর পাড়ে অজ্ঞান হয়ে যাই।


আমি অজ্ঞান হওয়ার আগে ঝাপসা ঝাপসা ভাবে দেখছিলাম, ইয়ামিনের পাঁচজন সেই জ্বীনসা থেকে আরও অনেকগুলো কালো ছায়া ঘিরে ধরে রেখেছে, 

আর তারা মৃত্যু চিৎকার দিচ্ছে আর বলছে আমাদেরকে মেরো না, এরপর আমার আর কিছু মনে নেই আমার যখন জ্ঞান ফিরে আমি আবিষ্কার করি আমি আমার মাদ্রাসার বিছানায় শুয়ে আছি। 


আমি তখন ইমাম সাহেবকে বলি তাহলে আমার স্বপ্নে কারা এসেছিল, আমি তো ভেবেছিলাম ওনারা হচ্ছে ইয়ামিনের বাবা-মা, কিন্তু ও তারা কে আর কেনই বা ইয়ামিনকে তুলে নিয়ে গেল, ইয়ামিনের সাথে তাদের কিসের শত্রুতা। 


ইমাম সাহেব আমাকে বলল আমি তো এত কিছু বলতে পারব না, আমার জ্ঞান ফেরার পর আমার মাদ্রাসায় থাকা সকল, জ্বিনে দের কে আদেশ করেছিলাম জানো ইরামিনের খোঁজখবর আশেপাশ থেকে নিয়ে আসে। 


কিন্তু আমার সকল ছাত্র জ্বিনেরা ব্যর্থ হয়েছে, 

কেউ কোন খবর আনতে পারেনি, আমার ছাত্র জ্বিনেরা আমাকে বলেছে, সেদিন যেসব জ্বিন দের আপনি দেখেছিলেন তারা সকলেই অনেক শক্তিশালী গোএের, এই কারণেই তারা সেখান থেকে যাওয়ার আগে আশেপাশের সকল,ঘটনা জাদুর মাধ্যমে মুছে ফেলেছে। 


আসলে ঈশিতা জ্বিনেরা, মায়ার মাধ্যমে, 

পিছনে ঘটে যাওয়া সব কিছু তারা , দেখতে পারে সেখানে কি হয়েছিল কেমন হয়েছিল তারা কোথায় থেকে এসেছিল সবকিছু তারা জানতে পারে, কিন্তু সেদিন রাত্রে যারা এসেছিল তারা তাদের শক্তির মাধ্যমে সে সকল স্মৃতি সেখান থেকে মুছে তারপরে গিয়েছে। 


আমি তখন ইমাম সাহেবকে বলি তাহলে কি আমি আমার ইয়ামিনকে হারিয়ে ফেললাম।সে কোথায় আছে কারা তাকে নিয়ে গেছে এটা কি আমরা কখনো জানতে পারবো না। 


তখন ইমাম সাহেব আমাকে বলে একটা রাস্তা আছে,

সেদিন ওই জায়গা থেকে পালানোর আগেই ইয়ামিন আমাকে বলেছিল, আমি যাদের দেখছি তারা সকলেই নাকি, অগ্নি রাজ গোত্রের জ্বিন।এই একটি নাম ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছু নেই। 


শুনেছি তা এখন আমাদেরকে এমন কাউকে খুজে বের করতে হবে, যার কাছে শক্তিশালী জ্বিন আছে।

আমার ছাত্র জ্বিনেদের শক্তি খুব কম , কারণ এখনো তারা পুরোপুরি প্রাপ্তবয়স্ক । 


তখন আমার মাথায় আসে রাকিব ভাইয়ের কথা তার কাছে তো ১০জন জ্বিন আছে সে হয় তো আমায় সাহায্য করতে পারবে। 


আমি ইমাম সাহেবকে বলি আমি একজনকে চিনি যার কাছে দশটি জ্বিন আছে, আমি রাকিব ভাইয়ের বিষয়ে সব কিছু খুলে বলি ইমাম সাহেবের কাছে। 


সবকিছু শুনেই ইমাম সাহেব বলে হ্যাঁ উনি পারবে, 

আমি এটা হলে তাকে এখনই কল করি। 

ইমাম সাহেব বলে না কল করার দরকার নেই আগামীকাল সকালে তুমি আর আমি মিলে ঢাকায় যাব আর মিরপুর সে মাজারে তার সাথে দেখা করব, আমি তাকে সামনাসামনি সবকিছু খুলে বলতে চাই, আর আমার বিশ্বাস আমার জ্বিন আর তার জ্বিনেদের মাধ্যমে আমরা ইয়ামিনকে উদ্ধার করতে পারব । 


ঠিক আছে ইমাম সাহেব আপনি যেমনটা বলবেন । 

কথা শেষ করে ঈমান সাহেব ঘরের বাইরে এলো, 

বাবা মা তার কাছে জানতে চাইলেও ইয়ামিন কোথায় আর সে কেন বিয়েতে আসেনি, ইমাম সাহেব বাবা মাকে বললো,আপনারা যেমনটা ভাবছেন তেমনটা না ইয়ামিন আসলে আপনার মেয়েকে ধোঁকা দেয়নি।


তাকে কিছু খারাপ লোক উঠিয়ে নিয়ে গেছে, 

তবে চিন্তা করবেন না আমি আর ঈশিতা মিলে তাকে খুব দ্রুতই উদ্ধার করব, আমার বাবা তখন ইমাম সাহেবকে বলে তাহলে আমরা পুলিশের কাছে যাই, 

আমি তখন আমার বাবা মাকে বলি আমরা যদি পুলিশের কাছে যাই তাহলে তারা ইয়ামিনকে হত্যা করবে, তুমি চিন্তা করো না বাবা আমি আর ইমাম সাহেব তাকে উদ্ধার করার রাস্তা বের করে ফেলেছি। 


তুমি শুধু আমাদের ওপর একটু বিশ্বাস রেখো আমরা কাল ঢাকায় যেতে চাই, তুমি আমার আর ইমাম সাহেবের ঢাকা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেও।

ঠিক আছে তুই আমার গাড়িটা নিয়ে যাস বললো বাবা, আর নিজেদের খেয়াল রাখবি,আর কোন সমস্যা হওয়ার সাথে সাথে আমাকে ফোন করবি।


ইমাম সাহেব আমাদের সকলের থেকে বিদায় নিয়ে মাদ্রাসা দিকে চলে গেল, যাওয়ার আগে আমাকে বলল কালকের জন্য প্রস্তুতি নাও,। 


আমি বাবা মাকে চাইলেও কিছু বলতে পারছিনা, 

কারণ বাবা-মা কোনভাবেই বিশেষ করবে না ইয়ামিন যে একটা জ্বিন।সেদিন রাতে এশারের নামাজ পড়ে আমি ঘুমাতে যাই, মাঝরাতে আমার ঘুমটা ভেঙে যায়, 

কেউ একজন আমাদের বাসার উঠানে বসে মরা কান্না কাঁনছে , ঘুম ভাঙার পর আমি উঠে বসি।


এত রাতে মরা কান্না কে কাঁদছে, 

আমি আমার ঘরে দরজাটা খুলে বাইরে বের হই কিন্তু আমি যা দেখি তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না?


তারপর ______


গল্প_ অশরীরী সহবাস 

পর্ব _১২

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

আমি দরজা খুলতে দেখতে পাই। আমাদের বাড়ির উঠানের মাঝে একটি মরার খাটিয়া রাখা।


আর সেই মরার খাটিয়ার মাঝখানে একটি কাফনে মোড়ানো লাশ শোয়ানো, আছে।

আর সেই মরার খাটিয়ার দুপাশে দুটি খুব লম্বা লোক দাঁড়িয়ে আছে, যারা উল্টোদিকে তাকিয়ে ছিল, আমি শুধু তাদের পিছন দিক গুলো দেখতে পারছিলাম, মুখ দেখতে পারছিলাম না। 


আমি এগুলো দেখে বরফের মত জায়গায় জমে গেলাম, আমার গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছিল না । 

তখনই আমি লক্ষ্য করি, কোথায় থেকে দুইজন মহিলা দৌড়াতে দৌড়াতে আমার কাছে এসে দাঁড়ালো, 

তারা বোরকা পড়া ছিল তাদের মুখগুলো বোরখার পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই দুটি মহিলা আমার দুহাত ধরে টানতে টানতে আমার ঘরের সামনে থেকে নিয়ে সেই লাশের খাটিয়ার সামনে এনে ছুড়ে মারল। 


ঠিক তখনই এই চারিপাশে বাতাস বইতে শুরু করল। আর লাশের, উপরে থাকা কাফনের কাপড়টা উড়ে গেল সে বাতাসে, তখন আমি লাশের মুখটা দেখতে পাই।


আমি দেখতে পাই এটা তো ইমাম সাহেব,

যার মুখের একটি পাস, ভারী কিছু দিয়ে থেতলে দেয়া হয়েছে, সেখানকার মাংসগুলো ঝুলে আছে।

এই দৃশ্য দেখার পর আমি ভয়ে সেখান থেকে দু পা পিছনে আসি।


তখন সেই দুটি লম্বা লোক আমার দিকে না ঘুরে। তাকিয়েই বলতে শুরু করে, এটা তো শুধু শুধুমাত্র,

তুই ইয়ামিনের সন্ধান যতদিন না থামাবি ততদিন তোর আপন মানুষগুলোকে আমরা কেড়ে নেব, কেড়ে নেব তোকে যারা সাহায্য করবে, মৃত্যুর খেলা শুরু হয়ে গেছে, এই খেলা থেকে বাঁচতে হলে তোকে ইয়ামিনকে ভুলে যেতে হবে, তোকে ভুলে যেতে হবে যে তোর জীবনে এই ইয়ামিন নামে কেউ ছিল, আর যদি তুই তারপরেও, কারো থেকে সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করিস তাহলে তার দশা ঠিক এই ইমামের মতই হবে।


কথা শেষ করার পর সেই দুইটি ব্যক্তি আমার দিকে ঘুরে তাকায়, কিন্তু তাদের শরীর জায়গাতেই দাঁড়িয়েছিল শুধু মাথা গুলো ঘুরে গেছে, আমি দেখছি তাদের চোখের জায়গায় কোন চোখ নেই, চোখের মনি পুরোপুরি ফাঁকা, আর পুরো মুখের মাংসগুলো যেন গলে গলে পড়ছে। 


এই দৃশ্য দেখার পর আমি সেখান থেকে দৌড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করি, তখন সে দুটি মহিলা আমাকে ধরে ফেলে, আর মহিলা দুটো তাদের মুখের কাপড় সরিয়ে ফেলে, আমি দেখতে পাই মহিলা দুটোর মুখগুলো, সুই সুতা দিয়ে সেলাই করা,। 


আমি আর এই বিষয়টা বেশিক্ষণ নিতে পারি না আমি অনেক জোরে একটা চিৎকার দেইই।,আর সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই।


পরের দিন যখন আমার জ্ঞান ফিরে আমার বাবা-মা চাচা দাদা সকলে আমার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, 

দাদু আমার কাছে জানতে চায় তুই মাঝরাতে এমনটা কেন করলি 


আমি দাদুকে বলি কি করেছি আমি? 


দাদু আমাকে বলে তুই মাঝ রাতে ঘরের বাইরে এসে, 

উঠানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছিলি আর বলছিলি ওদেরকে সরাও আমাকে মেরে ফেলবে, তোর চিৎকার শুনে যখন আমরা সকলে ঘরের বাইরে আসলাম দেখার জন্য কি হয়েছে। 


আমরা যখন তোর শব্দ শুনে ঘরের বাইরে আসি। আমরা দেখতে পাই উঠানের মাঝে একটি পাশে দাঁড়িয়ে, আকাশের দিকে তাকিয়ে, কাউকে বলছিস ওদেরকে সরাও ওদেরকে নিয়ে যাও। 


তোর বাবা-মা যখন তোর কাছে যায় আর তোর শরীরে স্পর্শ করে, তখনই তুই তাদেরকে দুই হাতে উঁচু করে দুই পাশে ছুড়ে মারিস। আমি বুঝতে পারছিলাম তোর ভিতরে কিছু একটা প্রবেশ করেছে।


তখন তুই সকলকে পুরুষকণ্ঠে বলতে শুরু করলে।

তোদের মেয়েকে আটকা ও যেন ইয়ামিনের খোঁজে না বের হয়, ইয়ামিন কোন মানুষ না সে একটা জ্বিন,

তোদের মেয়ে একটি জ্বিনকে ভালবাসে। আর ওই জ্বিনটার সাথে তোরা ওকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলি। 

আর সেই জ্বিনটাকে আমরাই বন্দি করে রেখেছি এটার পেছনে একটি কারণ আছে, কিন্তু তোর মেয়ে আমাদের পথের কাটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তোদের কারণে বেচারা ইমাম অকালে প্রাণ হারালো, তোর মেয়ে যদি এখনো না থামে তাহলে তোর বাপ, সেও কিন্তু প্রাণ হারাবে। 


এটা বলে তুই পাগলের মতো হাসতে শুরু করলি

আমি সাথে সাথে ঘরের ভেতর থেকে জমজমের পানি এনে তোর শরীরের ছিটাই, আর আয়তুল কুরসি পড়ে তোকে বারবার ফু দিতে শুরু করি।

পানির ছিটা পেতে তুই চিৎকার করতে শুরু করলি, 

আর আমাকে বলতে শুরু করলি তোর বোধহয় মরার ইচ্ছে জেগেছে তাই না, পূরণ হবে তোর আশা পূরণ হবে তুই আর বেশি দিন বাঁচবি না, এটা বলেছি অনেক জোরে একটি চিৎকার মেরে সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলি,তারপর আমরা সকলে তোকে ধরাধরি করে ঘরে নিয়ে আসি। 


দেখ ঈশিতা আমরা চাই তোর সাথে কি হচ্ছে সবকিছু তুই আমাদের বল, কারণ আমরা বুঝতে পারছি সে জ্বিনটি তোর উপরে শুধু শুধু ভর হয়নি,দেরি হয়ে যাওয়ার আগে তুই আমাদেরকে বল আসলে কি ইয়ামিন একটি জ্বিন।


দাদুর কথার উত্তরে আমি কিছুই বলছিলাম না। শুধু চুপ করে গতকালকে দৃশ্যগুলো ভাবছিলাম।

আমাকে চুপ থাকতে দেখে দাদু আমাকে বলল, 

ইমাম সাহেব আর বেঁচে নেই, গতকাল রাতেই তাকে কেউ বা কারা হত্যা করেছে, খুব ভারি একটি পাথর দিয়ে তার মুখের একটি পাস থেতলে দেয়া হয়েছে , 

খুব ভয়ানকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। । 

সবাই চেষ্টা করছে তার খুনিকে ধরার। 


দাদুর মুখে এসব কথা শুনে আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল, তার মানে আসলে সেই খারাপ জ্বিনগুলো ইমাম সাবেব কে হত্যা করল।


ইমাম সাহেবের মৃত্যুর কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে পানি টলটল করে বেয়ে পরছিল, আমার মনে পড়ে যাচ্ছিল সে দিনগুলো ইমাম সাহেব আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিল, ঈশিতা মা তোমার সাথেই ইয়ামিনের বিয়ে আমি দেব, সে খুবই ভালো একজন ব্যক্তি ছিল, খুব সৎ ও ঈমানদার একজন ব্যক্তি ছিল। 

আর তাকে সেই ভয়ানক দেখতে জ্বিনগুলো হত্যা করল। 


আমি হাউমাউ করে কান্না শুরু করলাম । 

বাবা-মা আমাকে এসে শান্ত করল আর আমাকে বলল বর্তমান কি হয়েছে, আর আসলে কি ইয়ামিন জ্বিন।

দয়া করে তুই আমাদের কাছ থেকে আর কিছু লুকাস না, তোর যদি কিছু হয় তাহলে আমরা কি নিয়ে বাঁচবো বল। 


আমি বাবাকে বলি হ্যাঁ বাবা ইয়ামিন আসলে একটি জ্বীন, কিন্তু বাবা বিশ্বাস করো সে খুব ঈমানদার একজন জ্বিন,। আর সে এখন অনেক বড় একটা বিপদে আছে, তাকে কিছু ভয়ানক দেখতে জ্বিন উঠিয়ে নিয়ে গেছে, আর ইমাম সাহেব আর আমি তাকে মুক্ত করার জন্য রাস্তা খুজছিলাম,। 


কিন্তু বাবা গতকাল সেই জ্বিনগুলো ইমাম সাহেবকে হত্যা করেছে, আমি বাবা মাকে সবকিছু খুলে বলি গতকাল রাতে কি কি হয়েছে আর ইয়ামিন আসলে কে । 


সবটা শুনে বাবা-মা আমাকে বলে তুমি আর ইয়ামিনের কথা মুখেও আনবে না, তোমাকে আমি 

এখনই ঢাকায় নিয়ে যাব , অনেক হয়েছে বাস আমরা আমাদের মেয়েকে হারাতে পারবো না। 

তুমি ব্যাগ পত্র গুজ কর আমরা আজি রওনা করব ঢাকায়। 


দাদু তখন আমার বাবাকে বলল ঠিক আছে তোরা চলে যাস, তবে আজ না আগামীকাল যাস আজকে তো বিকেল হয়ে আসল, এখন যাওয়াটা ঠিক হবে না আগামীকাল সকাল সকাল রওনা করিস। 


আমি দাদুকে বললাম দাদু তুমি অন্তত বোঝার চেষ্টা করো। 


দাদু আমাকে বলল দেখ ঈশিতা, আমি তোর দাদু হলেও সব সময় তোর সাথে বন্ধুর মতোই চলাফেরা করেছি, তুই যখন যে আবদার করেছিস আমি রেখেছি । 


কিন্তু আজকে আমি বলছি তোর বাবা-মা যেটা বলছে একেবারে ঠিক। হ্যাঁ আমি মানছি ইয়ামিন নাকি ভালো জ্বিন, আর আমি তোদের বিয়েতে ওমত করছি না। 

কিন্তু ইয়ামিনকে যারা তুলে নিয়ে গেছে তারা খুবই ভয়ানক, তারা কিন্তু মোটেও ভালো জ্বিন না। 

তারা যেকোনো সময় যেকোনো জিনিস করে ফেলতে পারে, চোখের পলকে তারা আর তোদের জীবন নিয়ে নিতে পারে, তাই আমি বলছি ঈশিতা তুই ইয়ামিনকে ভুলে যা দাদু,আর তোর বাবা-মা যা বলছে তুই শোন তোর ভালো হবে আমাদের সকলের ভালো হবে,।

তোর যদি একটা কিছু হয়ে যায় তাহলে এই দাদু কাকে নিয়ে বাঁচবে বল। 


আমি কিচ্ছু বলি না আমি চুপ করে কান্না করছিলাম কি বা বলবো, বাবা-মা যেটা করছে আমার ভালোর জন্যই তো করছে।


কিন্তু বাবা-মা এটা বুঝতে চাচ্ছে না আমি ইয়ামিনকে ছাড়া ভালো থাকবো না, আমি তিলে তিলে মরে যাব। 

আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই, এখন বাবা মার সাথে ঢাকায় যাই আর, ঢাকা যাওয়ার পর, ঋতুর সাহায্যে আবারো রাকিব ভাইয়ের সাথে দেখা করব, আর আমার বিশ্বাস রাকিব ভাই কিছু না কিছু অবশ্যই করতে পারবে, সে আমার ইয়ামিন কে আমার কাছে ফিরিয়ে আনতে পারবে।


বিকেল ফুরিয়ে রাত নেমে এলো, 

আগামীকালই আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করবো। 

 আমি গতকাল রাতে খুব ভয় পেয়েছি এ কারণে আজকে আমার মা আমার সাথে ঘুমিয়েছে। 


রাত যখন গভীর হয়ে যায় আমি একটা খুব ভয়ানক স্বপ্ন দেখি, কিন্তু স্বপ্ন টা ভাঙ্গার পর আমি বুঝতে পারি এটা কোন স্বপ্ন ছিল না।


আমি আমার জীবনের অনেক বড় একটা জিনিস হারিয়ে ফেললাম?


তারপর ______


Next______

গল্প_অশরীরী সহবাস 

পর্ব _১৩

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

মাঝরাতে আমি স্বপ্ন দেখছিলাম? 

আমার দাদুকে সেদিনের দেখা ভয়ংকর সে দুইটি জ্বিন

তার ঘর থেকে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে এলো।


তারপর দেখি ওই দুইটি জ্বিনের একটি জ্বিন তার জামার নিচে থেকে, একটি ধারালো চাপাটি বের করল তারপরে, তার সাথে থাকা আরেকটি জ্বিন আমার দাদুকে এক লাথি দিয়ে মাটিতে সরিয়ে দিল , আর তার হাত পা চেপে ধরল, । 


আরেকটা জ্বিন এক লাফ দিয়ে আমার দাদুর বুকের উপরে উঠে বসলো, তারপর তার হাতে থাকা সে ধারালো চাপাটি দিয়ে আমার দাদুর, বুকে অবরোধ কোপাতে শুরু করল। 


আমি স্বপ্নের মাঝে কান্না করছিলাম আর চিৎকার করে বলছিলাম তাকে ছেড়ে দাও, মেরো না তোমরা মেরো না আমার দাদুকে। কিন্তু আমার কথা তারা শুনছিল না।


 তারা অবারো আমার দাদুর শরীরের উপর নির্যাতন করা শুরু করল।


কয়েক সেকেন্ডের ভেতরেই আমার দাদুর ভিতর থেকে প্রাণ পাখিটা বের হয়ে চলে গেল।

সেই দুটি জ্বিন যখন বুঝতে পারল আমার যাদু মারা গেছে তখন তারা তার বুকের উপর থেকে উঠে, 

আমার দাদুকে কয়েকটা লাথি মারলো,আর বলল বলেছিলাম না তোকে মরতে হবে তুই খুব দ্রুতি মারা যাবি,এটা বলার পর তারা আমার উদ্দেশ্যে বলল। 


একে একে দুইটি প্রাণ গেল এখনো কি তুই ইয়ামিনকে বাঁচাতে চাস,মনে রাখিস এরপর কিন্তু তোর বাবার পালা তারপর তোর মার তারপর তো চাচা চাচির, 

এটা বলতে বলতে সেই দুইটা জ্বিন হাসতে হাসতে বাড়ির বাইরে চলে গেল। 


আমার স্বপ্নটা ভেঙে গেল। আমি ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠি আর অনেক জোরে জোরে কান্না করতে শুরু করি।,

মা আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। আর বলছিল কি হয়েছে তুই কান্না করছিস কেন কি হয়েছে।

তখন চারিপাশে ফজরের আজান দিচ্ছিল আমি মাকে বলি মা দাদু আর নেই দাদুকে ওরা মেরে ফেলেছে। 


মা বলে তুই হয়তো কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছিস।

আমি মার কোন কথাই শুনি না আমি দরজা খুলে এক দৌড়ে দাদুর ঘরে চলে যাই, দাদুর দরজার সামনে গিয়ে আমি ডাকাডাকি শুরু করি কিন্তু দাদু দরজা খুলছিল না, আমার এত জোরে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে বাড়ির সকলে বাইরে চলে আসে, এবার সবাই খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছিল কারণ দাদু এখনো দরজা খুলছে না। 


আমার বাবা চাচা মিলে দাদুর ঘরে দরজাটা ভেঙে ফেলে। আর আমরা সকলেই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করি, 

ঘরের ভেতর প্রবেশ করে দেখি পুরো ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে, আর দাদু মাটিতে শুয়ে আছে, দাদুর পাঞ্জাবিটা ছেঁড়া, আমি এই অবস্থা দেখে আরো জোরে জোরে কান্না করতে শুরু করি। মা আমাকে ধরে ফেলে দাদুর কাছে জেতে দেয় না।


বাবা চাচা দাদুর সামনে গিয়ে দাদুর শ্বাস চলছে কি না দেখতে যেতেই বুঝতে পারে দাদু আর বেঁচে নেই। 

তখন বাবা চাচা চাচি সকলেই কান্না করতে শুরু করে,

আমার দাদুর বুকের উপরে,ভয়ংকর কিছু আঁচড়ের দাগ, 

দাগগুলো দেখে মনে হচ্ছিল বাঘ বা সিংহ এমন কিছু ভয়ঙ্কর, প্রাণী তার বুকে আচর মেরেছে , সেখানকার মাংসগুলো ফেটে দুভাগ হয়ে গেছে, আর আমার দাদুর চোখ দুটো অনেক বড় বড় হয়ে আছে দেখে মনে হচ্ছে হয়তোবা সে কিছু দেখে অনেক ভয়ে মারা গেছে। 


সবাই কান্না করতাছে , চাচা চলে যায় গ্রামের মসজিদে মাইকিং করতে, সকাল দশটায় জানাজার নামাজের, সময় নির্ধারিত হয়, আমি খুব ভেঙ্গে পড়েছিলাম। আজকে আমার জন্য আমার দাদু মারা গেল, আমার দাদুকে খুব সুন্দর ভাবে গোসল করিয়ে, কাফনের কাপড় পরিয়ে যখন জানাজার জন্য নিয়ে যাবো, তখন বারান্দায় আমার চাচি মা সকালে খুব কান্না করছিলাম, আমি দেখতে পাই তখনই আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে রাকিব ভাই, রাকিব ভাইয়ের চোখ দুটো পানিতে টলটল করছে, দেখে বোঝা যাচ্ছে সে কিছু একটা নিয়ে খুব আফসোস করছে, রাকিব ভাই আমার কাছে না এসে সোজা চলে গেল দাদুর খাটিয়ার কাছে।


তারপর বাড়ির সকলকে বলল মৃত ব্যক্তিকে এতক্ষণ বাড়ির উপরে রাখা ঠিক না। চলুন তাকে জানাযার জন্য নিয়ে যাই, তারপর রাকিব ভাই আমার বাবা চাচা সকলে মিলে যাদের খাটিয়াটা তাদের কাঁধে করে আমাদের স্কুল মাঠে নিয়ে গেল, সেখানেই জানাযার নামাজ হবে, আজকে আমার দাদুর শেষ বিদায়।


 কিন্তু আমার দাদু শেষ বিদায় টা খুব ভয়ানকভাবে হলো, 

হয়তো আল্লাহপাক তার মৃত্যুটা এভাবেই রেখেছিল। কিন্তু আমার দাদুর হত্যার বদলা আমি অবশ্যই নেব, 

আমি শুধু মনে মনে বলছিলাম হে আল্লাহ আমাকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দান করুন, আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আমার দাদুর সাথে যারা এরকম করেছে তাদেরকে যেন আমি উপযুক্তের শাস্তি দিতে পারি। 


জানাযা শেষ করে আমার দাদুকে কবরস্থ করা হলো, 

কবর দেওয়ার পর চাচা বাবার সাথে রাকিব ভাই আমাদের বাড়িতে এলো, আর সকল গ্রামবাসি যার যার বাড়িতে চলে গেল , আমি যে রাকিব ভাইয়ের সাথে কথা বলবো সে অবস্থায় ছিলাম না। 


রাকিব ভাই আবার বাড়িতে ফিরে সোজা দাদুর রুমে চলে গেল, সেখানে ৫ মিনিট বসে থাকার পর রাকিব ভাই সে ঘরের বাইরে এলো, আর আমার বাবাকে এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম চাচা, আমাকে হয়তো আপনারা চিনতে পারেন নেই। আমি কে এটা হয়তো আপনারা জানেন না।


আমার নাম রাকিব আমাকে ঈশিতা খুব ভালো করে চেনে, আমি ওর এক বড় ভাই বলতে পারেন, 

গতকাল রাতে ঈশিত আমাকে ফোন করেছিল আর ইমাম সাহেবের সাথে যা যা ঘটেছে সবকিছু বলেছিল। 

আসলে চাচা আমার সাথে ১০ টি জ্বিন আছে, 

যাদের সাহায্যে আমি টুকটাক কবিরাজি চিকিৎসা করি। 


তারা আমাকে মধ্যরাতে এসে বলেছিল ঈশিতার দাদুকে তারা মেরে ফেলেছে, আর একদিন পরে মানে আজকে রাতে আপনাকে তারা মেরে ফেলবে, তার এক দিন পর আপনার ভাই ঈশিতার চাচাকেও তারা মেরে ফেলবে।


আমার বাবা রাকিব ভাই কে বলে কিন্তু কেন। আমরা কি করেছি আমার বাবা কি করেছিল কেন তারা আমাদের মারছে?


রাকিব ভাই আমার বাবাকে বলল কারণ হচ্ছে আপনারা ইয়ামিনের সম্পর্কে জেনে গেছেন, 

আর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যারা যারা ইয়ামিনকে চিনে বা তার সম্পর্কে জানে তাদের কাউকে তারা বাঁচিয়ে রাখবে না।

 তাই তারা সর্বপ্রথম ইমাম সাহেবকে হত্যা করেছে তারপর আপনার বাবাকে তারপর আপনাকে। আপনার ভাইকে আপনার মেয়েকে আপনার স্ত্রীকে সকলকে তারা মারবে এক এক করে। 


কিন্তু ভয় পাবেন না চাচা আল্লাহপাক আমাকে যতটুকু জ্ঞান দিয়েছে আমি সবটুকু লাগিয়ে দেবো আপনাদেরকে বাঁচানোর জন্য, আমি জানি এ কাজটি করার জন্য এখন উপযুক্ত সময় না কিন্তু তারপরও আজকের ভেতরে এই কাজটা করতে হবে। 

চাচা আপনি এখনই বাজারে যাবেন তার পরে চারটি লোহার প্যারাক, , চারটি কালো মুরগি, ১ কেজি মিষ্টি, আর বড় দেখে একটি দইয়ের হাড়ি, এগুলো কিনে নিয়ে আসবেন।


যারা ইয়ামিনকে তুলে নিয়ে গিয়েছে আর যারা ইমাম সাহেবও আপনার বাবাকে হত্যা করেছে সে দুটি জ্বিন এখনো এই বাড়ির আশেপাশে আছে।

আমি আজকের ভেতরে সে দুটি জ্বিনকে বন্দি করব। আর আপনাদের বাড়িটাও বন্ধ করে দেবো। 


যেন তাদের কোন সাথী আপনাদের ওপরে আর আক্রমণ না করতে পারে, আর সেই দুইটি জ্বীনকে আমি হত্যা করব না। শুধু তাদেরকে বন্ধু করবো আর তাদের উপরে অত্যাচার করে জানার চেষ্টা করব আসলে ইয়ামিন কোথায়, আর কেনই বা ইয়ামিনকে তুলে নিয়ে গিয়েছে তাড়া।,তাদের সাথে ইয়ামিনের কি শত্রুতা আমি সকল কিছু জানার চেষ্টা করব।


, আমি জানি আপনার বাবা মারা গেছে আজকে এই বাড়িতে কাজটি করা আমার মোটেও ঠিক হবে না, কিন্তু চাচা আজকে যদি না করি তাহলে আজ রাতে আপনাকে আমি বাঁচাতে পারবো না, কারণ সেই দুইটি জ্বীন যে করেই হোক আজকে রাতে আপনাকে হত্যা করবে, এটা যদি তাদের প্রাণও চলে যায় তারপরেও আপনাকে তারা হত্যা করার থেকে বিরত থাকবেনা। তাই চাচা যা করার আজকের রাতের আগেই করতে হবে। আপনি আর সময় নষ্ট না করে বাজারে চলে যান।


আর হ্যাঁ আমি জানি হয়তো এই কাজটি করতে দেখে গ্রামের আশেপাশে সকলেই আপনাদেরকে অনেক খারাপ বলবে, বলবে বাবা গতকাল মারা গেছে আর আজকেই বাড়ির উপরে ভন্ডামি শুরু করেছে, কিন্তু চাচা কারো কথা মাথায় নেবেন না, এ পরিবারটা আপনার আপনার দায়িত্ব আপনার পরিবারের সকলকে রক্ষা করা । 


আমার বাবা বলল ঠিক আছে বাবা তুমি যা বলবে তাই হবে। আমি এখনই বাজারে যাচ্ছি আর তোমার কথা মত সবকিছু কিনে নিয়ে আসছি আজকেই যা করার করবা।, আমি আমার নিজের মৃত্যু নিয়ে ভাবি না কিন্তু আমি মরার পর ঈশিতা ও ঈশিতার মার কি হবে বলো, 

আল্লাহপাক তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে আমাদের সাহায্য করতে। আর তুমি তার আদেশ মোতাবেক এখানে এসেছো,এটা বলে বাবা বাজারে চলে গেল সকল জিনিস আনার জন্য।  


বাড়ির সকলের মনে একটা ভয় ঢুকে গেল কি হবে এখন, একে তো আমার দাদু মারা গেল তারপর এই খবর। প্রতি একদিন পরপর নাকি বাড়ির একজন মারা যাবে, সবাই অনেক ভয়ে আছে,

সবার মনে একটাই প্রশ্ন এই অল্প বয়সে এই ছেলেটা কি পারবে এ বাড়ির সকলকে রক্ষা করতে? 


আমি বারান্দার একটি চেয়ারের উপরে চুপটি করে বসে ছিলাম আর নীরবে খুব কান্না করছিলাম, 

আর একা একা বলছিলাম আমার জন্যই দাদা মারা গেল। আমার জন্যই সব দোষ আমার, আমি যদি ইয়ামিনকে বিয়ে না করতে চাইতাম তাহলে ইমাম সাহেবও আমার দাদু কোনদিন মারা যেত না, সবটা আমার ভুল সবটা আমার জন্যই হয়েছে। 


রাকিব ভাই আস্তে আস্তে হাঁটতে হাঁটতে আমার কাছে এসে দাঁড়ালো, তারপর আমাকে বললো ঈশিতা দেখো তুমি হয়তো আফসোস করছো আর ভাবছো এসব কিছু তোমার জন্যই হয়েছে। 


কিন্তু সেটা কিছুই কিন্তু আমাদের হাতে নেই আল্লাহ পাক যার মৃত্যু যেভাবে লিখে রেখেছে সেভাবেই হবে, 

এখানে তোমার কোন দোষ নেই তোমার নিয়তি তো যা লেখা আছে তাই হচ্ছে, আমাদের উচিত সব সময় আল্লাহ পাকের উপরে বিশ্বাস রাখা, যতই বড় বিপদ আসুক না কেন। তার থেকে সাহায্য চাওয়া, দেখো আল্লাহ পাকের ইশারাতেই আমি আজকে তোমাদের বাড়িতে, আল্লাহ পাক হইত চাচ্ছে আমার মাধ্যমে তোমাদের এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে, 


আর তুমি শুধু শুধু ইয়ামিনের দোষ দিও না এখানে ইয়ামিনের কোন দোষ নেই, সে তো তার অনেক সাথীকে হারিয়েছে সেদিন রাতে , তার সাথে যে কয়টা জ্বিন ছিল, তাদের সকলকে তারা মেরে ফেলেছে,ইয়ামিন ও হয়তো সে বন্ধু অবস্থায় থেকে অনেক আফসোস করছে যে তার কারণেই তার বাকি সাথীদের তারা হত্যা করলো।


আমি তখন রাকিব ভাইয়াকে প্রশ্ন করি।আচ্ছা রাকিব ভাইয়া তারা কারা ছিল আর কেন ইয়ামিনকে উঠিয়ে নিয়ে গেল। আর কেনইবা আমার দাদু আর ইমাম সাহেবকে হত্যা করলো? 


রাকিব ভাই আমাকে বলল সবটাই জানতে পারবে আজকে মাগরিবের, আযানের পরপর দিয়েই আমি যে করেই হোক সে দুইটি জ্বীনকে বন্দী করব , তারপর তাদের মুখ থেকেই জেনে নেব কেন তারা এমন করল।


তারপর ______


Next______


আল্লাহ হাফেজ 💕💕

Post a Comment

0 Comments