অশরীরী সহবাস (14, 15)

 


গল্প_অশরীরী সহবাস

পর্ব _১৪,15

#লেখক_আরিয়ান_অভি  

রাকিবের কথামতো বাবা বাজারে গিয়ে চারটে কালো মুরগি এক কেজি মিষ্টি আর এক হাড়ি দই নিয়ে আসে। 


চারিপাশে মাগরিবের আজান বইছে। রাকিব ভাই আমাদের বলে, যারা মহিলারা আছেন তারা একটি ঘরে নামাজ আদায় করুন আর যারা পুরুষ আছেন এই বাড়ির সকলে আমার সাথে আরেকটি ঘরে নামাজ আদায় করবেন । 


নামাজ শেষে রাকিব ভাই আমাকে বলে তুমি শুধু এই বারান্দায় দাঁড়িয়ে,থাকো আসলে ঈশিতা এখন যা ঘটবে সেটা আর, সকল মানুষদের চোখে ধরা নাও পরতে পারে কিন্তু তুমি যেহেতু একটি জ্বিনের সাথে মিলিত হয়েছো , 

তাই তুমি সেগুলো অনায়াসে দেখতে পারবে যেগুলো আমি দেখব। 


রাকিব ভাই কথা শেষ করে। বাবার বাজার থেকে আনা সকল জিনিস নিয়ে উঠানের মাঝে এসে দাঁড়ালো, 

 

আর পুরু উঠান টা ঘুরে একটি গোল দাগ দিয়ে দিল, 

দাগের মাঝখানে রাকিব ভাই একটি পার্টিতে বসে পড়ল, আর বাড়ির সকলকে বলল কেউ দয়া করে এই দাগের ভেতরে আসবেন না আর যাই হোক না কেন কেউ ভয় পাবেন না। 


এটা বলে রাকিব ভাই আবার বসা থেকে দাঁড়ালো, তারপর সে চারটি কালো মুরগিকে কিছু আয়াত পড়ে এসে গোল সার্কেলের ভেতরে ছেড়ে দিল, আমরা সকলেই খুব অবাক হয়ে দেখছিলাম সেই চারটি মুরগি খুব চেষ্টা করছিল সে সার্কেলের বাইরে আসতে কিন্তু কোন ভাবেই পারছিল না। 


তারপর রাকিব ভাই মিষ্টির প্যাকেট টা খুলে তার সামনে রেখে দিল আর দইয়ের হাড়িটাও সেখানে রেখে দিল, তারপর রাকিব ভাই আবার সেই পার্টিতে বসে অনেক জোরে জোরে কোরআন তেলোয়াত পড়তে শুরু করল, আমি যেহেতু পরান পড়েছি এই কারণে আমি জানি সে সূরা জ্বীন পড়তেছে।


মিনিট দশেক পর চারিপাশে খুব জোরে জোরে বাতাস বইতে শুরু করলো, কিন্তু এখন তো বর্ষাকাল না না কোনো বৈশাখ মাস না। তাহলে এই হঠাৎ করে ঝড় কোথা থেকে এলো, চারিপাশে অনেক জোরে জোরে বাতাস বইছিল, হঠাৎ আমরা সকলে লক্ষ্য করি আমাদের বাড়ির সামনে যে বাঁশ বাগানটা ছিল। সেই বাস বাগানের ভিতর থেকে খুব বড় বড় দুইটি কালো বিড়াল বের হয়ে এলো, কিন্তু বিড়ালটা দেখে আমরা সকলেই অনেক ভয় পেয়ে যাই। কারণ এত বড় বিড়াল, এর আগে আমরা আর কেউ কখনো দেখিনি এক একটা বিড়াল ছিল কুকুরের থেকেও বড়, বাবা-মা সকলেই অনেক ভয় পেয়েছিল।


কিন্তু তাদের থেকে বেশি ভয় পেয়েছিলাম আমি। কারণ সকালে দেখছিল দুইটি বিড়াল এগিয়ে আসছিল সে সার্কেলের দিকে, কিন্তু আমি দেখছিলাম সেদিনের সেই দুইটি ভয়ানক জ্বিন কুকুরের মত হামা ঘড়ি দিয়ে, সে সার্কেলের কাছে আসছে, তাদের জিবলা দিয়ে লালা পড়ছে, তারা দুইজনেই এক দৃষ্টিতে এসে দই আর মিষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে,। 


একটা পর্যায়ে সেই দুইটি জ্বিন সে সার্কেলের ভেতরে প্রবেশ করে, আর ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই মিষ্টি আর দইয়ের উপরে, বাড়ির সকলেই দেখছিল কালো দুটি বিড়াল সেগুলোর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে খাচ্ছে । 

শুধু আমি আর রাকিব ভাই দেখছিলাম তাদের আসল রূপ গুলো। 


সেই মিষ্টি আর দই খাওয়ার পর সেই দুইটি জ্বীন দৌড়াতে শুরু করল সেই চারটি মুরগি ধরার উদ্দেশ্যে, 

তারা সার্কেলের চারপাশে ঘুরে ঘুরে এসে মুরগী গুলোকে ধরার চেষ্টা করছিল খাওয়ার জন্য। 


তখনই রাকিব ভাই বসা থেকে দাঁড়ালো আর চারটি প্যারা হাতে নিয়ে এসে সার্কেলের চারটি পাশে কিছু আয়াত পড়ে, মাটির সাথে পুতে দিল , আর চারটি প্যারাক মাটিতে পুতার সাথে সাথে সে চারটি মুরগি সার্কেলের বাইরে চলে আসলো, কিন্তু অবাক করার বিষয় সে দুইটি জ্বিন হাজার চেষ্টা করেও সে সার্কেলের বাইরে আসতে পারছিল না, রাকিব ভাই সাথে সাথে সেখান থেকে লাফ দিয়ে সার্কেলের বাইরে চলে আসে। 


বাড়ির সকলে দেখছিল দুইটি কালো বিড়াল সে সার্কেলের বাইরে আসতে পারছে না। অনেক চেষ্টা করার পরেও যেন একটা অদৃশ্য দেয়াল তাদেরকে আটকে রেখেছে।


রাকিব ভাই সার্কেল এর বাইরে এসে তার সাথে আনা জমজমের পানি আর, আরেকটি বাঁশের বেদ হাতে তুলে নেয়, সে কিছুটা জমজমের পানি হাতে ঢেলে তারপর সেই দুইটি কালো জ্বিনের উদ্দেশ্যে উড়িয়ে মারে, পানির ছিটা যখন তাদের উপরে পড়ছিল আমি দূর থেকে দেখছিলাম তাদের শরীরে আগুন জ্বলে উঠছিল, কিন্তু বাড়ির বাকি সকলে দেখছিল, যখন পানির ছিটা এসে কালো দুটি বিড়ালের উপরে পড়ল তারা ছটফট করতে শুরু করল। 


এবার রাকিব ভাই তার সাথে আনা বাঁশের বেদ দিয়ে মাটিতে অনেক জোরে জোরে আঘাত করতে শুরু করলো। আমি দূর থেকে দেখছিলাম সেই কালো দুটি জ্বিন সে আঘাতের বারিতে বাবারে মারে বলে কান্না করছে, কিন্তু বাড়ির বাকি সকলে দেখছিল সেই কালো দুটি বিড়াল মাটিতে বারির আঘাতে লাফালাফি করছে। 


তারা এতই কষ্ট পাচ্ছিল যে তাদের চিৎকারে আমার কান ফেটে যাবে এমন অবস্থা,একটা পর্যায়ে সেই দুইটি জ্বিন আর সহ্য না করতে পেরে বলতে শুরু করল, আমাদের মারিস না আমাদেরকে ছেড়ে দে আমাদেরকে ছেড়ে দে। 


তখন রাকিব ভাই বলতে শুরু করলো তোদেরকে ছেড়ে দিব কি করে বলতো। তোরা দুইটি মাসুম ঈমানদার বেক্তির, জীবন কেড়ে নিলি। তারপরেও তোরা নিজেদের জান ভিক্ষা চাচ্ছি, আর আজকে যদি আমি না আসতাম তাহলে তো তোরা আজকে আরেকটি প্রাণ কেড়ে নিতে, কি করে ছাড়ি তোদের তোরাই বল। 


বাড়ির সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল কারণ তারা সকলে দেখছিল, রাকিব ভাই সে দুইটি কালো বিড়ালের সাথে কথা বলছে, শুধু আমি দেখলাম তাদের কথাবার্তা গুলো। 


রাকিব ভাই তাদের বলে ঠিক আছে আমি তোদেরকে ছেড়ে দেবো কিন্তু তোরা আমাকে শুধু কিছু কথার উত্তর দেয়, যদি ঠিকঠাক ভাবে উত্তর দিতে পারিস তাহলে তোদের কে ছেড়ে দেব কথা দিলাম। 


তখন সেই দুইটি জ্বিন রাকিব ভাইকে বলে তুই কি জানতে চাস প্রশ্ন কর? 


রাকিব ভাই সে দুটি জ্বিনের উদ্দেশ্যে বলে। প্রথমত আমি জানতে চাই তোদেরকে কে পাঠিয়েছে। আর তোরা কার হয়ে কাজ করিস, আর দ্বিতীয় তো আমি জানতে চাই ইয়ামিনকে তোরা কেন উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিস। আর কার কথায় উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিস 

তৃতীয় তো আমি জানতে চাই ইয়ামিন এখন কোথায় আছে আর তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কি।


তোরা যদি এই তিনটি কথার উত্তর দিস। তাহলে আমি তোদেরকে ছেড়ে দেবো নয়তো তোদেরকে আমি মেরে ফেলবো। 


আমি দেখছিলাম সেই দুইটি জ্বীন রাকিব ভাইকে বলতে শুরু করে আমাদেরকে তুই ছেড়ে দে আমরা এগুলোর উত্তর দিতে পারব না। আমরা যদি তোর এইসব কথার উত্তর দেই তাহলে আমাদেরকে সে মেরে ফেলবে। 


রাকিব ভাই সে দুটি জ্বিনকে বলে তোরা যদি এখন না বলিস তাহলে আমি তোদের মেরে ফেলব। বলবি কিনা বল এটা বলে রাকিব ভাই আবারও মাটিতে সেই বাসের বেত দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে, 


একটা পর্যায়ে এসে সে দুইটি জ্বিন আর সহ্য করতে না পেরে বলে আমাদেরকে আর মারিস না আমরা বলছি। 


তুই প্রথম প্রশ্ন করেছিস আমরা কার হয়ে কাজ করি, 

আমরা কাজ করি আমাদের মহারাজ, ভোগনাথের হয়ে, আমরা ভোগনাথের দাস, সে আমাদের মত ৪০ হাজার জ্বিনের রাজা, কিন্তু ভোগনাথের নাম যেমন তার স্বভাবও ঠিক তেমনি। সে ধর্মে হিন্দু কিন্তু সে সকল ধর্মীয় মেয়েদেরকে ধর্ষণ করত, সে প্রতি রাতে বের হয়ে যেত নতুন নতুন মেয়েদের সাথে সহবাস করতে, সুন্দরী মেয়েরা যখন গভীর ঘুমে থাকত তখন সেসব মেয়েদের সাথে সে সহবাস করতো,। 


আর যদি কোন মেয়েকে তার একান্তভাবেই অনেক ভালো লাগতো। তাহলে আমাদেরকে দিয়ে সে মেয়েকে উঠিয়ে এনে, আমাদের আস্তানার ভেতরের সে মেয়েটির সাথে সে অনেক বার সহবাস করত, তার মন যখন পুরোপুরি ভরে যেত তখন সে আমাদের কাছে সে মেয়েটিকে ছুড়ে দিত, আর বলতো তোমরা তোমাদের মন কামনা পূরণ করে এই মেয়েটিকে গভীর সমুদ্রে ফেলে দিয়ে আসো, আর আমরা এক এক করে সেই মেয়েটির সাথে সহবাস করতাম, আমরা সংখ্যায় যেহেতু অনেক তাই মেয়েটি বেশিক্ষণ আমাদের চাপ নিতে পারত না। আমরা ৫০ থেকে ৬০ জন যখন তাকে ধর্ষণ করি তারপরে সে মেয়েগুলো মারা যেত, মরে যাওয়ার পর সে মেয়েগুলোকে আমরা গভীর সমুদ্রে ফেলে দিয়ে আসতাম। 


তোর দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে ইয়ামিনকে কেন উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আসলে আমাদের জ্বিন রাজা, ভোগনাথ যখন রাতে নতুন একটি মেয়েকে ভোগ করার জন্য ও রাজ্য থেকে বের হয়, সে বাতাসে উড়তে উড়তে তখন ঈশিতার বাড়ির কাছে দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই তার নজর পড়ে ঈশিতা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে তার বুকে কোন ওড়না নেই, তখন ভোগনাথের নজর আটকে যায় ঈশিতার বুকের ওই জায়গাটায়। 


ভোগনাথের ঈশিতা এতটাই ভালো লাগে যে সে আমাদেরকে আদেশ করে যেন আমরা তাকে তুলে নিয়ে আসি,রাজার আদেশ পেয়ে আমরা ঈশিতার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করি তাকে উঠিয়ে আনার জন্য। 


এখন তুই প্রশ্ন করতে পারিস সাধারণ একটি মানুষকে উঠিয়ে আনার জন্য বিশ জনের কি দরকার,? 


আসলে আমরা ২০ জন রওনা করেছিলাম এই কারণে। কারণ সে বাড়ির দারোয়ান ঈশিতারদের বাড়ির সকল ও তাদের ফ্ল্যাটের সাথে যারা যারা আছে, তাদের প্রত্যেকের ভেতরে আমরা একজন করে, ভর করব আর তাদের গভীর ঘুমে আটকে রাখব জানো ঈশিতাকে নিয়ে আসার সময় কোনো ঝামেলা না হয়। 


কিন্তু আমরা যখন সেই বাড়িতে যাই ঈশিতাকে আনতে আমরা দেখতে পাই, ঈশিতার ঘরে একটি জ্বিন,তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।


আমরা যখন সেই জ্বিনটিকে ওই মেয়েটির থেকে আলাদা করে হত্যা করতে যাব, তখনই সে জ্বিনটি আমাদের ওপরে আক্রমণ করে বসে , আমরা বিশ জন মিলেও তার সাথে পারছিলাম না সে এতটাই শক্তিশালী ছিল, আমাদের সাথীদের ভেতরে ১৫ জনকে হত্যা করে, আমরা বাকি পাঁচজন তখন জীবন বাঁচানোর জন্য সেখান থেকে পালাই। 


আমরা ভোগনাথের কাছে এসে সকল ঘটনা খুলে বলি। 

ভোগনাথ তখন আমাদেরকে বলে তোমরা যেই জ্বিনের সাথে যুদ্ধ করেছ, সে ছিল একজন জ্বিন রাজা, আর সে কোন সাধারণ রাজা না, একে তো তার কাছে অনেক জ্বিনের বহর আছে, দ্বিতীয় তো সে একাই অনেক জ্বিনের সমতুল্য , আসলে সে শুরুতে যেই গোত্রের, লোক ছিল সে গোত্রের এখন আর কেউ বেচে নেই। আপাতত এই পৃথিবীতে, অবশিষ্ট সেই বেঁচে আছে আর সে আমাদের মত জ্বিনেদের থেকেও দশ গুণ বেশি শক্তিশালী, তার নাম হচ্ছে ইয়ামিন।


তবেই ইয়ামিন যতই শক্তিশালী হোক না কেন। ওই মেয়েকে আমার চাই, ওর রূপ দেখে আমার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। ওকে তো আমি ভোগ করবই, 

কিন্তু এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব হবে না। আমার সাহায্য দরকার, এরপর ভোগনাথ তার খুব কাছের আরেকজন জ্বীন বন্ধু যে কিনা তারই মত ও নিকৃষ্ট, 

নিশি রামের কাছে যায় , নিশি রাম ভোগনাথ কে একটি অফার করে, ঠিক আছে বন্ধু আমি বুঝতে পারছি আমরা দুজন মিলে যদি তার উপরে ঝাপিয়ে পরি সে কোনোভাবেই আমাদের সাথে পারবে না।


কিন্তু আমি তোমাকে সাহায্য করবো। কিন্তু আমার একটা জিনিস চাই, ভোগনাথ তাকে বলে তোমার কি চাই বল?


নিশি রাম, ভোগনাথ কে বলে আমরা যখন ওই মেয়েটিকে উঠিয়ে নিয়ে আসব, তুমি আর আমি একই সাথে তার সাথে সহবাস করব, আমিও সেই রূপের স্বাদ নিতে চাই।


ভোগনাথ বলে ঠিক আছে তুমি যেমনটা বলবে তেমনটাই হবে এখন আমাকে সাহায্য করো সেই জ্বিনটিকে হত্যা করতে। 


সেদিন যখন ইয়ামিন তার মাত্র ১০ জন জ্বিন সাথীকে নিয়ে বিয়ে করতে আসছিল, মাঝপথে শিবনাথ ও নিশি রাম,তার অনেক অনেক জ্বীন সাথীদের নিয়ে তাদের উপরে ঝাপিয়ে পড়ে, ইয়ামিন কোনভাবেই প্রস্তুত ছিল না তার পরেও সে তার যথেষ্ট শক্তি দিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করেছে । কিন্তু আমরা সংখ্যায় এত এত ছিলাম যে ইয়ামিন আমাদের সাথে পেরে ওঠেনি সে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল, আর মাটিতে পড়ে গিয়েছিল


তখন নিশিরাম, ভোগনাথ কে বলে এই শালাকে হত্যা করা যাক, কিন্তু ভোগনাথ বলে না ওকে এখন মারবো না ও ওই মেয়েটির জন্য আমার 15 জন, গোলামকে হত্যা করেছে। 


ওকে আমরা এখন বন্দি করে নিয়ে যাব। তারপর ওই মেয়েটির যত আপন মানুষ আছে সকলকে এক এক করে হত্যা করব, এরপর ওই মেয়েটিকে তুলে এনে ওর সামনে আমি ও তুমি ওকে ভোগ করব , তারপর আমাদের সকল গোলামের মাঝে ছুড়ে মারবো আমাদের গোলামেরা সেই মেয়েটিকে ছেরে খাবে ও শুধু দু চোখে দিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখবে আর নিযে নিজে কষ্ট পাবে। 


তোর তিন নাম্বার প্রশ্ন ছিল ইয়ামিন এখন কোথায়, 

তাহলে শোন ইয়ামিন এখন আছে সাদা পাহাড়ি এলাকায়। 


সাদা পাহাড়ি এলাকার সেটা আবার কোথায়?গল্প_অশরীরী সহবাস 

পর্ব _১৫

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

কি হলো চুপ করে রইলি কেন বল সাদা পাহাড়ি এলাকা আসলে কোথায়? 


তখন সেই দুটি জ্বিন রাকিব ভাইয়াকে বলে। সাদা পাহাড়ি এলাকায় আসলে, এখান থেকে অনেকটা দূরে, 

সুন্দরবনের নদী ধরে গেলে, সেখানে পৌঁছাতে আরো একদিন সময় লাগে, সাদা পাহাড়ি এলাকাটা সুন্দরবনের অনেকটা ভিতরে ও শেষের দিকে, সাদা পাহাড়ি এলাকাটা কিছুটা বাংলাদেশের কিছুটা চায়না ও কিছুটা ইন্ডিয়াকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। 


আর সেখানে রাজত্ব চলে, নিশিরামের,এখন তো আমাদের সম্রাট ভোগনাথ তো সেখানে আছে। ও তার বাকি সকল সাথীরা সেখানে আছে।


রাকিব তখন সে দুটি জ্বিনের কাছে জানতে চাইলো সেখানে কতগুলো জ্বিন আছে এখন? 


সেই দুইটি জ্বিন বলল সেখানে এখন সর্বমোট, ৮ লাখ জ্বিনের সংখ্যা, যারা কিনা প্রতিনিয়ত পাহারা দিচ্ছে চারিপাশ, তুই সেখানে একা গিয়ে কিছুই করতে পারবে না শুধু শুধু নিজের প্রাণ হারাবি। 


তখন রাকিব ভাইয়া তাদেরকে বলে আমার জীবনকে নিয়ে তোদের ভাবতে হবে না। তোরা বরং তোদেরকে নিয়ে ভাব তোদের সাথে এখন আমি কি করব,আমার জীবনের মালিক তো আল্লাহ। আল্লাহ যদি চায় তোদের মত কাফেরদের হাতে আমার মৃত্যু হবে তাহলে হোক। 


তখন সেই দুটি জ্বিন রাকিব ভাইয়াকে বলে। আমাদের সাথে কি করবি মানে তুই তো কথা দিয়েছিলি যে আমরা সঠিকভাবে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিলে তুই আমাদেরকে ছেড়ে দিবি।


তখন রাকিব ভাইয়া তাদেরকে বলে তোরা কি করে ভাবলি যে তোদেরকে আমি ছেড়ে দেবো। আর হ্যাঁ আমি তোদের কথা দিয়েছি। কথার খেলাপ করার জন্য, 

আমি জানি এতে আমার অনেক গুনা হবে। কিন্তু তোদের মত কাফেরদের আমি হত্যা করলে সেখান থেকে দুটি কিছুটা সওয়াব পাব, তোরা দুইটি নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিস সব থেকে বড় বিষয় সে দুইটি মানুষ ছিল আল্লাহ পাকের বান্দা। 


এটা বলার সাথে সাথেই আমি দেখছিলাম। রাকিব ভাইয়ের সেই বদলের সবটুকু পানি সে দুইটি জ্বিনেদের দিকে ছুড়ে মারে, আর তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটি কাঠি ম্যাচ খুলে সেখান থেকে একটি কাঠি বের করে , তারপর সে ম্যাচের ভেতর থেকে একটি কাঠি দিয়ে সেটাতে আগুন জ্বালিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে মারে। 


আমি এতদিন দেখে এসেছি আগুনে পানি পরলে আগুন নিভে যায় ভাই। কিন্তু এই প্রথম দেখলাম পানি কাজ করছে পেট্রোলের মত, আগুন পড়ার সাথে সাথেই তারা দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করল, আর মৃত্যু চিৎকার দিতে দিতে সেখানে ছাই হয়ে পড়ে গেল। 


বাড়ির বাকিরা দেখছিল সেই বিড়ালদের ওপরে বোতলের পানিগুলো ঢেলে দিয়ে রাকিব ভাই আগুন জ্বালিয়ে দিল। আর তারা ধাক্কাতে ধাক্কাতে সেখানেই আগুনে পুরে মরে গেল। 


তারপর রাকিব ভাইয়া বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গর্ত করে সে দুইটি মৃত বিড়ালকে সেখানে দাফন করে।

রাকিব ভাই আবার বাসায় আসার পর সকলে তার কাছে জানতে চায় কি ঘটে গেল এগুলো।

রাকিব ভাই বাসার সকলকে বলল আমি আমার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি আর আপনারা যে দুইটি বিড়ালকে দেখলেন, তারাই ছিল আসলে বিড়াল রুপে সে দুটি জ্বিন যারা কিনা আপনার বাবা ও গ্রামের ইমামকে হত্যা করেছে। 


রাকিব ভাই হাঁটতে হাঁটতে আমার কাছে আসে। আর আমাকে বলে আমার বিশ্বাস যে ঈশিতা তুমি সকল কিছু দেখেছ যেগুলো আমি দেখেছি, আমি রাকিব ভাইকে বলি হ্যাঁ রাকিব ভাই। আমি সবকিছু দেখেছি, ও শুনেছি তাদের আসল রূপও তাদের সাথে আপনার কথা বলা সব কিছু। 


কিন্তু রাকিব ভাই আমরা এখন সাদা পাহাড়ি এলাকায় গিয়েই বা কি করব সেখানে তো ১০ লাখ জ্বিনের বহর, 

কিন্তু আমাদের কাছে তো মাত্র 10 জন জ্বিন আছে। 

আমরা সেখানে গেলে আমাদের পাশাপাশি আমাদের দশ জন সাথীকে ও তারা হত্যা করবে

তার থেকে ভালো রাকিব ভাই আপনি ফিরে যান আমার নিয়তিতে যা লেখা আছে তাই হোক। 


রাকিব ভাই আমাকে বলে এত অল্প সময়ে হার মানলে হবে, আল্লাহপাক যখন আমাকে এখানে পাঠিয়েছে অবশ্যই কোন না কোন উপায় আছে, দেখো ঈশিতা আমাদের কাছে বর্তমান , দশটি জ্বিন না বরং তিন লাখ দশটি, জ্বিন আছে।


তুমি ভুলে যাচ্ছ যে ইয়ামিন ছিল একজন রাজা, 

আর তার প্রচার সংখ্যা ছিল তিন লাখ। 

কিন্তু তারপরেও আমরা তাদের থেকে সংখ্যায় অনেক কম, তাই আমাদেরকে এখন সাহায্য করতে পারে, 

জুম্মন সরদার।


আমি রাকিব ভাইয়াকে বলি রাকিব ভাইয়া জুম্মন সরদার সে আবার কে?


রাকিব ভাই আমাকে বলে জুম্মন সরদার হচ্ছে আমার১০ জন সাথীদের, সম্রাট, তার কাছে আছে আট লাখ জিনের বহর, কিন্তু সে কখনোই তার রাজ্যের বাইরে অন্য কারো সাহায্য করার জন্য এতগুলো জ্বিন নিয়ে এগিয়ে আসবে না। 


তাই আমি চাই তুমি আমার দশজন সাথিকে নিয়ে আজকে রাতেই তাদের দেশে যাবে, আর যে করেই হোক জুম্মন সরদারকে তুমি অনুরোধ করে বলবে যেনো আমাদের সাহায্য করে।


আমি যতটুকু জানি জুম্মন সরদার খুবই ভালো ও ঈমানদার একজন জ্বিন সম্রাট, সে তোমাকে খালি হাতে ফেরাবে না। 


ঠিক আছে রাকিব ভাই আমি আজকে রাতেই আপনার সাথীদের সাথে যাব, আর যে করেই হোক তার হাতে পায়ে ধরে কান্না করব। তারপরেও আমি তাকে আমাদের সাহায্য করার জন্য নিয়ে আসবো। 


রাকিব ভাই বাবা মা বাড়ির সবাই কে বুঝিয়েছে যেনো আমায় যেতে দেয়া হয় জুম্মন সরদারের এলাকায়। 

প্রথমে তো বাবা - মা কোন ভাবেই রাজি হয় না।

রাকিব ভাই তাদের বলে দেখেন চাচা, আজ কে যদি আমরা তাদের না আটকাই কাল কে তার গোলামেরা আপনাদের সবার সামনে থেকে আপনার মেয়ে ঈশিতা কে, তুলে নিয়ে জাবে আপনারা কেও আটকাতে পারবেন না তাদের। 


বাবা বুঝতে পারলো যে হে রাকিব ভাই ঠিকিই বলছে আজ কিছু না করলে কাল আমরা তাদের কখনই আটকাতে পারবো না, বাবা বলে ঠিক আছে ঈশিতা তুই যাবি তবে মা তুই ছাড়া এই বাবা টার আর কেও নেই নিজের খেয়াল রাখবি, আমি তোর মা চাচা চাচি সবাই নামাজ পড়ে জায়নামে বসে তোর জন্য দোয়া করবো। 


দেখতে দেখতে রাত ১২" টা বেজে যায় , 

আর আমার যাওয়ার সময় হয়ে জায়, আমি রাকিব ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে জাই, রাকিব ভাই আমায় নিয়ে আমার দের গ্রামের চার রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়ায়, আর আমাকে বলে ঈশিতা এখন আমি আমার দশ জন সাথীকে তোমার সাথে দেখা করাতে পারব, তুমি এখন তাদের দেখতে পারবে।


এটা বলে রাকিব ভাই অদৃশ্য সেই তার দশজন সাথীর উদ্দেশ্যে বলে আপনারা সকলে ঈশিতাকে দেখা দিন।


আমি দেখতে পাই আস্তে আস্তে তারা দৃশ্যমান হতে শুরু করে, দশটি খুব লম্বা লম্বা লোক আমার চোখের সামনে এখন দাঁড়ানো, তারা সাধারণ মানুষের থেকে দ্বিগুণ লম্বা, তাদের মুখে খুব সুন্দর মায়াবী হাসি,সকলেই খুব সুন্দর করে সাদা জুব্বা পড়া সকলের চোখের কিনারা দিয়ে সুরমা দেওয়া, মাথায় আছে খুব সুন্দর পাগড়ি। 


আমি তাদের ১০ জনকে খুব সুন্দর করে সালাম দেই আসসালামু আলাইকুম, ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু।


তারা আমার সালামের উত্তরে বলে অলাইকুম আসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ, 

তুমি কোনভাবেই ভয় পেয়ো না ঈশিতা আমরা তোমার সাথে আছি,আর আমাদের সরদার জুম্মন ভালো একজন জ্বিন সওদাগর, সে তোমার কোন ক্ষতি করবে না হয়তো তোমাকে সাহায্য করবে কিংবা তোমাকে খুব সুন্দর ভাবে তোমার বাড়িতে ফিরিয়ে দেবে, এখন এটা তোমার ওপরে নির্ভর করছে তুমি তাকে কিভাবে বোঝাবে তোমার পুরো বিষয়টা। 


আমি দেখলাম সে ১০ জনের ভেতর থেকে একজন আমার কাছে এগিয়ে আসলো। তারপরে তার পেছন থেকে খুব সুন্দর একটি সবুজ রঙের গোলাপ ফুল নিয়ে এলো, সবুজ রঙের গোলাপ ফুল এর আগে আমি আর কখনো দেখিনি।


সে আমাকে বলল এই ফুলটি তুমি যখন তোমার নাকের কাছে নেবে সাথে সাথে তুমি অজ্ঞান হয়ে যাবে, 

আর যখন তোমার জ্ঞান ফিরে আসবে তুমি চোখ খুলতেই আমাদের রাজ্যে তোমাকে আবিষ্কার করবে, 

দেখো আমাদের জগৎটা এখান থেকে অনেকটা দূরে। আর আমরা তোমাকে যেভাবে নিয়ে যাবো সেটা দেখলে তুমি অনেক ভয় পাবে, তাছাড়া আমরা চাই না যে মানুষদের ভেতরে কেউ আমাদের জগৎ সম্পর্কে কিংবা সেখানে যাওয়ার রাস্তা সম্পর্কে জানুক,

এখন এটা তোমার হাতে তুমি যদি আমাদেরকে বিশ্বাস করো তাহলে এই ফুলটি তোমার নাকের কাছে নিতে পারো।


আমি রাকিব ভাইয়ের কাছে গিয়ে বলি। ভাইয়া আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি জ্বীন সম্রাট জুম্মনকে বোঝাতে পারি।


তোমার জন্য দোয়া করি বোন তুমি যেনো সফল হয়ে ফেরো।


আমি সেই গোলাপ ফুলটি আমার হাতে তুলে নেই। তারপরে আমার নাকের কাছে নিয়ে আসি,গোলাপের ঘ্রানটা আমার নাকে নেওয়ার সাথে সাথেই আমার মাথা ঘুরতে শুরু করে চোখগুলো আস্তে আস্তে বন্ধ হতে শুরু করে,আমি এক মিনিটের ভিতরেই অজ্ঞান হয়ে সেখানে পড়ে যাই।


তারপর ______


Next______


এই গল্পের পরবর্তী পর্ব আগামীকাল আমার এই নানা ভাইয়ের গল্প পেজে আপলোড দেওয়া হবে। যারা এখনো আমার এই পেজটিকে ফলো করেননি সবাই ফলো করে রাখবেন পরবর্তী পর্বগুলো সবার আগে পড়ার জন্য । 


আমি আরিয়ান আজ আপনাদের থেকে বিদায় নিলাম 

আল্লাহ হাফেজ 💕💕


তারপর ______


Next______


আমি আরিয়ান আজ আপনাদের থেকে বিদায় নিলাম 

আল্লাহ হাফেজ 💕

Post a Comment

0 Comments