গল্প_অশরীরী সহবাস
পর্ব _১৬, ১৭
#লেখক_আরিয়ান_অভি
আমার চোখ খুলতেই দেখতে পাই ,
আমি একটি ফুলের বাগানে সুয়ে আছি। আর আমার থেকে কিছু টা দূরে আমার সেই ১০জন জ্বীন সাথি দাড়িয়ে আছে।
আমার জ্ঞান ফিরতে দেখে তাড়া আমার কাছে এসে বলে, তুমি ঠিক আছো তো।
জি আমি ঠিক আছি, আমি এক বার চারি পাশে নজর দেই। আমি দেখি চারি পাশ টা অসাধারণ সুন্দর এত সুন্দর জায়গা আমি এর আগে কখনো দেখি নি।
এত সুন্দর জায়গা আমি বলে বুঝাতে পারবো না আপনাদের।
আমার সাথি রা আমায় বলে। ঈশিতা তোমাকে আমাদের দেশটা ঘুরিয়ে দেখাযই ও আমাদের মহারাজের সাথে দেখা করে আনি।
আমি তাদের সাথে হাঁটা শুরু করলাম, জুম্মন সরদারের সাথে সাক্ষাত করার আশায় , ফুলের বাগান পারি দিয়ে আমরা একটি সুন্দর গ্রাম পথ ধরে হাঁটতে শুরু করলাম,
প্রত্যেকটা বাড়িঘর মাটি তৈরি, কিন্তু সেসব বাড়ির ভেতরে আমি কোন মানুষ দেখছিলাম না। আমি আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করি বাড়িগুলো অনেক লম্বা , এক একটা মাটির ঘর যেন দোতলার সমান।
আমি আমার সাথীদের কাছে কারণটা জানতে চাই। আমি তাদেরকে বলি আচ্ছা এ বাড়িগুলো এত লম্বা লম্বা করে তৈরি করা হয়েছে কেনো?
আমার সাথি আমাকে বলে কারণ হচ্ছে এসব বাড়ির ভিতরে যারা থাকে সকলেই তো জ্বিন। আর তারা সকলেই আমাদের মত খুবই লম্বা, তাই তাদের চলাফেরা করতে যেন কোন সমস্যা না হয়। এই কারণে তাদের, ঘর গুলো তাদেরি মত লম্বা।
ও আচ্ছা বুঝতে পারলাম, কিন্তু এত এত ঘর বাড়ি আশে পাশে কিন্তু আমি তো কাওকেই দেখতে পারছি না।
তখন আমায় আমার সাথি রা বলে। আসলে তাড়া সবাই এখন বাতাসের সাথে , অদৃশ্য হয়ে আছে।
তারা চাচ্ছে না তোমার সামনে দেখা দিতে। আর তোমাকে নিয়ে আসার আগে আমরা সকলেই আমাদের জগতের সবাইকে বলে রেখেছিলাম।
একটি মানুষ আমাদের জগতে আসছে। তাই হয়তোবা তারা চায় না কোন মানুষ তাদের দেখুক, তবে আমরা তাদের দেখতে পারছি। তারা তোমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে পরপর করে তাকিয়ে আছে,আসলে ঈশিতা, আমাদের জগতের খুব কম জ্বিনেরা বাইরে জগতের মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখে,তাই তারা মানুষদের এই প্রথম দেখছে আর তারা এভাবে অপলক দৃষ্টিতে পরপর করে তাকিয়ে দেখছে।
চলো তোমাকে আমাদের সম্রাটের সাথে দেখা করাতে নিয়ে যাই,আপনাদের সম্রাট ও কি মানুষ প্রথম দেখছে।
আমারে কথা শুনে তারাও অট্ট হাসিতে হাসতে শুরু করলো, আর আমাকে বলল পাগল নাকি সরদার মানুষ প্রথম দেখবে কেন। সে আমাদের সরদার সে পুরো পৃথিবীর খবর রাখে।
সেই গ্রামের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে আমরা একটি খুব সুন্দর ফাঁকা মাঠে এসে দাড়াই। পুরো মাঠটা খালি হলেও মাঠের মাছ বরাবর একটি সিঁড়ি সোজা আকাশের দিকে উঠে গেছে,।এটা দেখে আমি অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে আছি। মাটি থেকে আকাশ পর্যন্ত সিরি চলে গেছে কিন্তু কোন পিলার নেই কোন বিল্ডিং নেই, এটা কি করে সম্ভব, ?
আমি আরো লক্ষ্য করি প্রত্যেকটা সিঁড়িতে দুই পাশে দুইজন করে পাহারাদার দাঁড়ানো। তারাও খুবই লম্বা লম্বা, তাদের সকলের হাতের ঝকঝক করছে এর ধারালো তলোয়ারে, যেটা দেখে আমার হৃদয়টা কেঁপে উঠল আমি দু পা পিছন ঘুরে আসি।
আরে ঈশিতা তুমি ভয় পেয়ো না এরা সকলেই তোমার বিষয়ে অবগত, এরা তোমার কোন ক্ষতি করবে না তুমি আসো আমাদের সাথে। সম্রাট তোমার পথ চেয়ে প্রাসাদের ভিতরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমি তাদের বলি আপনারা এই জায়গায় প্রাসাদ কোথায় দেখছেন আমি তো শুধু দেখছি এক অনেক বড় সিঁড়ি যেটা কিনা আস্তে আস্তে আকাশের মেঘের থেকে মিলিয়ে গেছে।
আমার সাথীরা আমাকে বলে তুমি আমাদের সাথে আসো দেখোই না কোথায় আছে রাজপ্রাশাদ।
আমি তাদের সাথে হাটতে হাঁটতে এসে সিঁড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াই, তারপর আমার সাথিরা সেই সিঁড়ির পাহারাদারদের খুব লম্বা করে সালাম দেয় আমিও তাদের সাথে তাদেরকে সালাম দেই।
তারা সকলেই আমাদের সালাম গ্রহণ করে, তারপর তারাও আমাদেরকে সালাম দিয়ে বলে, আপনারা কি সম্রাটের সাথে দেখা করতে চান।
আমার ১০ জন সাথীদের ভেতরে একজন এগিয়ে গিয়ে বল জি, আমরা সম্রাটের কাছে দেখা করতে চাই।
আমি লক্ষ্য করি আমার শেষ সাথী তার পাঞ্জাবি পকেট থেকে খুব সুন্দর একটি কাগজে মোড়ানো চিঠি সেই পাহারাদারদের , হাতে তুলে দেয়।
সেই দুইজন পাহারাদার যখন চিঠিটা খুলে আর চিঠির লেখাগুলো পড়ে তারপরে আমাদেরকে বলে, ঠিক আছে আপনারা যেতে পারেন।
তারপর আমার দশ জন সাথী ও আমি এই সিঁড়ি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে উপরে উঠতে শুরু করি।
প্রথমে তো শুরুতে আমার ভয় লাগছিল না। কিন্তু কিছুটা সিটির ওপরে ওঠার পর আমার অনেক ভয় লাগছিল। কারণ এখন আর মাটি দেখা যাচ্ছে না। আমার মনে হয় আমি ৫০ থেকে ৬০ তলা উপরে উঠে গেছি। কিন্তু আমি সব থেকে অবাক হচ্ছিলাম এত কম সময়ে আমি এত উপরে কি করে উঠলাম। আর আমার ক্লান্ত কেন লাগছে না। আমি এত উপরে চলে এসেছি আমার পা তো ব্যথা হয়ে যাওয়ার কথা। আমার তো শরীর ক্লান্ত হওয়ার কথা ।
আমাকে এইভাবে ভয় পেতে দেখে আমার সাথীরা আমাকে বলে, তুমি নিচের দিকে তাকিও না ঈশিতা তুমি শুধু উপরে দিকে তাকাও। দেখবে তোমার আর ভয় লাগবে না ।
আমি তাদের কথামতো শুধু উপরে দিকে তাকিয়ে এক এক করে প্রত্যেকটা সিঁড়ি পাড়ি দিচ্ছিলাম, এভাবেই আরো দশ মিনিট কেটে যায়। এখন আমার পায়ের নিচে শুধু, সাদা মেঘগুলো ওড়াউড়ি করছে, এ কেমন জায়গা চলে আসলাম আমি আমার মনে হচ্ছিল আমি আকাশে চলে এসেছি, আমার পায়ের মাটির বদলে মেঘ দেখা যাচ্ছে, এখন আর সিঁড়িগুলো দেখা যাচ্ছে না, চারিপাশে এই মেঘগুলো ওড়াউড়ি করছে।
আমি এগুলো দেখে অনেকটা ভয় পেয়ে গেছি। আমার মনে হচ্ছে আমি এখনই এখান থেকে, নিচে পড়ে মারা যাবো। আমি আর সাহস করে সামনের দিকে আগাতে পারছিলাম না। আমি সেখানেই বসে পড়ি কিন্তু অবাক করার বিষয় আমি যখন বসি, আমি নিচের দিকে পরি না। মনে হচ্ছিল আমি মেঘের উপরে বসে পড়েছি।
ভয় পাওয়ার কোন দরকার নেই ইশিতা,,
তোমাদের দুনিয়াতে যেমন তোমরা চলাফেরা করার জন্য মাটির উপর থেকে হাঁটাচলা করো। তেমনিভাবে আমাদের দুনিয়াতে আমরা মেঘের উপর দিয়ে হাঁটাচলা করি, তোমার ভয় নেই তুমি এখান থেকে পড়ে যাবে না চলো সামনে দিকে আগাই।
আমি মনে মনে সাহস সঞ্চয় করি। কারণ আমাকে যে করেই হোক সম্রাটের সাথে দেখা করতে হবে।
এভাবেই আরো পাঁচ মিনিট আমি মেঘের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটি খুব সুন্দর রাজপ্রাসাদের সামনে এসে দাঁড়াই। চারিপাশে মেঘগুলো আর প্রতিটা দেয়ালে খুব দামী দামী হীরা রত্ন লাগানো।
আর ইটের বদলে সোনা দিয়ে তৈরি করেছে প্রাসাদ,
দূর থেকে দেখছিলা আমি হিরে গুলোর আলোতে জ্বলজ্বল করছে সেই রাজপ্রাসাদ।
রাজপ্রাসাদের চারিপাশে অনেক অনেক পাহারাদার জ্বীন দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেখে সে পাহারাদারদের ভেতরে একজন পাহারাদার আমাদের দিকে এগিয়ে আসে, সেই পাহারাদার আমাদেরকে বলে আপনাদের জন্য সম্রাট অপেক্ষা করছে আসুন।
আমরা তার সাথে প্রাসাদের ভেতরে প্রবেশ করি,
প্রাসাদের ভিতরে প্রবেশ করে আমার মনে একটা অন্যরকম শান্তি কাজ করছিল। আমার মনে হচ্ছিল আমি সারা জীবন যদি এখানে থেকে যেতে পারতাম,
কতইনা সুন্দর এই জায়গাটি।
সেই পাহারাদার আমাদেরকে নিয়ে খুব সুন্দর একটি রুমে প্রবেশ করে। রুমের ভেতর প্রবেশ করার পর আমরা সকলে দেখতে পাই রুমের একটি পাশে খুব সুন্দর একটি জায়নামাজ আছে এর ওপরে বসে আছে সম্রাট, তার চোখ বন্ধ হাতে একটি রত্ন দিয়ে তৈরি, তবছি, সে জিকির করছে আর আল্লাহ পাকের এবাদত করছে।
আমরা রুমে ঢোকার পর সকলে মিলে সম্রাট কে সালাম দেয়, আমাদের সালামের শব্দ শুনে সম্রাট এবার, তার জায়নামাজ থেকে উঠে দাঁড়ায়। আর আমাদের দিকে ঘুরে তাকায়, আমি দেখতে পাই খুব সুন্দর একটি মায়াবী মুখ। সম্রাটের এখন অনেক বয়স হয়েছে, কিন্তু সে বৃদ্ধ হলেও তাকে দেখতে মাশাল্লাহ খুব সুন্দর লাগছে, সে একটি মুচকি হাসি দিয়ে আমাদের সালামের উত্তর নেয় তারপরে আমার কাছে এসে বলে?
=================================================
আমি জানি আপনারা অনেকেই হয়তো, আগামীকালকের গল্পটার জন্য অপেক্ষা করছিলেন,
কিন্তু আমি একটি খুব জরুরী কাজে দেশের বাড়িতে গিয়েছিলাম, এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে গল্পটা লেখার সময় হয়নি, তাই আমি ভাবছি যেহেতু আমি আপনাদের মনে কষ্ট দিয়েছি তাই আজকে, একসাথে দুইটি পর্ব দেবো, তবে আপনাদের একটি ছোট্ট কাজ করতে হবে, আপনারা যদি এই গল্পটি রাত সাতটার আগে, ৫০টি শেয়ার আর ২০০ টি কমেন্ট করে ফেলেন, তাহলে আমি যতই কষ্ট হোক না কেন আরেকটি পর্ব লিখে রাত ৭ টার ভেতরেই এইপেজে আপলোড করে দেব ,তাই আপনারা যদি চান, পর্ব ১৭ আজকের ভিতরেই পড়তে, তাহলে গল্পটি আপনি শেয়ার করুন ও সুন্দর করে একটি কমেন্ট করে দেন।
আমার বিশ্বাস আপনারা রাত ৭:০০ টার আগেই,
কমেন্ট ও শেয়ার করে ভরে ফেলবেন।
আমি আরিয়ান আজ আপনাদের থেকে বিদায় নিলাম
আল্লাহ হাফেজ,💞💞গল্প_অশরীরী সহবাস
পর্ব_১৭
#লেখক_আরিয়ান_অভি
আমি তোমার কথা শুনেছি তোমার সাথীদের মুখে,
তুমিই তো ঈশিতা তাইনা।
জি সম্রাট আমিই ঈশিতা আমি আপনার কাছে একটি সাহায্যের জন্য এসেছি, একমাত্র আপনিই পারেন আমাকে সাহায্য করতে।
না না মা এ কথা বলো না, সবার উপরে মহান আল্লাহ তাআলা আল্লাহ পাক যদি চায় তাহলে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারবো, আর হয়তো আল্লাহ পাক চাই আমি তোমাকে সাহায্য করি, এখন তুমি আমাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু বল।
আমি সম্রাটকে সবকিছু খুলে বলি,
সবটা শুনে সম্রাট আমাকে যা বলে সেটা শুনে তো আমি অবাক হতে বাধ্য হই।
সম্রাট আমাকে বলে তুমি যে জ্বিনটার কথা বলছো ইয়ামিন, ইয়ামিনকে তার সম্পর্কে তোমাদের কোন ধারনাই নেই, তুমি হয়তো বা শুনেছো সে একাই দশটি জ্বিনের সমান, এটা তোমাদের ভুল ধারণা আসলেই ইয়ামিন 10 টি জ্বিনের সমান শক্তিশালী না, সে আমাদের মত ১০০০০ জ্বিনের থেকেও শক্তিশালী,
সে হচ্ছে অগ্নি বংশের একমাত্র জ্বিন, তার বংশধররা যারা ছিল তারা সকলে মারা গেছে, কেন মারা গেছে কি কারনে মারা গেছে আর কিভাবে মারা গেছে এটা সম্পর্কে আমিও জানি না, তবে এখনো যদি তার বংশধরদের কথা কোন জ্বিন শুনে তাহলে তাদের আত্মাকেঁপে ওঠে।
আসলেই ইয়ামিনের বংশধরের ভিতরে যারা ছিল। তারা ছিল খুবই ভয়ানক ও নিষ্ঠুর, তাদের প্রধান কাজই ছিল ও অন্যান্য জ্বিনেদের ধ্বংস করা, তাড়া সকলে মিলে সকল জ্বিন জগৎগুলোকে আস্তে আস্তে ধ্বংস করে ফেলছিল, তাদেরকে কেউ আটকাতে পারছিল না কারণ তারা এক একজন ছিল দশ হাজার জিনের থেকেও শক্তিশালী,।
তারা ভাল খারাপ সকল জ্বিনেদের কে হত্যা করছিল এক এক করে, সকল জ্বিন রাজা সম্রাটদের তাদের পায়ে নত হতে বাধ্য করছিল।
কিন্তু কথায় আছে না জুলুমকারীর বিচার উপরওয়ালা একদিন না একদিন করে, তাদের সাথে কি হয়েছে কিভাবে তারা ধ্বংস হলো, এটা সম্পর্কে আমরা কেউ না জানলেও একটা কথা বিশ্বাস করি। যে তাদের সাথে আল্লাহপাক কিছু একটা করে দেয়, হয়তোবা তাদের পাপের খরা পূরণ হয়ে এসেছিল তাই উপরওয়ালা তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণ শাস্তি দিয়েছে।
আমি জানিনা ইয়ামিন কি করে বেঁচে আছে,
কিন্তু ইয়ামিনকে ছোট থেকেই বড় করেছে সেই ইমাম,
সেই ইমাম তাকে নিজের ছেলের মতোই বড় করেছে তাই সে তার ভিতরে কোন অহংকার সৃষ্টি হতে দেয়নি,
এবং ইয়ামিনকে বুঝতেও দেয়নি যে সে কতটা শক্তিশালী, ছোট থেকেই মাদ্রাসায় বড় হওয়ার কারণে ইয়ামিনের ভেতরে খুব ইসলামের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, ধীরে ধীরে সেও তৈরি হয় একজন আল্লাহ পাকের, গোলাম হিসেবে, সত্য কথা বলতেই ইয়ামিন যে কত শক্তিশালী এটা সম্পর্কেই ইয়ামিন সঠিকভাবে জানে না, কিন্তু কেউ যদি তাকে অনেকটা রাগিয়ে দেয় তাহলে, নিজের পুরু শক্তিই ব্যবহার করতে পারবে।
দেখো মা ঈশিতস আমার তো অনেক বয়স হয়েছে এখন তোমাদের সাথে যুদ্ধে যেতে পারবো না।
তবে আমার জ্বিন সৈনিকদের ভেতরে ৫ লক্ষ জিন আমি তোমাদেরকে উপহার দিব, তারা তোমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে,
তুমি বিশ্বাস রাখতে পারো মা। আমার সৈনিকরা আমার ছেলে কখনো পালাবে না, হয়তো তারা বিজয় লাভ করবে নয়তো তারা সেখানেই মৃত্যুবরণ করবে।
কিন্তু ঈশিতা মা, ওদের কাছে ১০ লক্ষ্য জিনের একটা বহর আছে, আর আমাদের কাছে আছে ইয়ামিনের তিন লক্ষ্য জ্বিন আর আমার পাঁচ লক্ষ্য জ্বিন।
সর্বমোট 8 লক্ষ জন, আমাদের যদি এই যুদ্ধে বিজয় লাভ করতে হয় তাহলে সর্বপ্রথম ইয়ামিনকে বন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করতে হবে।
তারপর তাকে এতটাই রাগাতে হবে যে তার পুরো শক্তি সে ব্যবহার করতে পারে, আর একটি কাজ তোমাকে করতে হবে। হ্যাঁ তুমি পারবে তাকে এতটা রাগাতে যেন সে সকল বাধা পার হয়ে, তোমাকে বাঁচানোর জন্য সকলের সাথে যুদ্ধ করার জন্য তার পুরো শক্তি ব্যবহার করে।
আমি সম্রাট কে বলি। কিন্তু সম্রাট আমি কি করে কাজ করবো।
সম্রাট আমাকে বলে তুমি নিজে থেকে সেই নিশিরাম ও, ভোগনাথের হাতে ধরা দেবে।তারা ইয়ামিনের সম্পর্কে জানে কিন্তু তারাও জানে না সে কতটা শক্তিশালী, তারা তোমাকে তুলে নিয়ে ইয়ামিনের সামনে ভোগ করার চেষ্টা করবে, যখন তারা তোমার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়বে আর তোমার সাথে, নোংরামি করার চেষ্টা করবে তখন ইয়ামিন, এটা কোনভাবেই নিতে পারবে না।
কারণ ইয়ামিন তোমাকে অনেক ভালোবাসে অনেক,
আর সে যখন এটা সহ্য করতে পারবে না। আর তার রাগ বাড়তে থাকবে তখনই সে তার শক্তির, উৎস খুঁজে পাবে, সে যখন বুঝতে পারবে তার শরীরে অনেক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে আর সে আসলে কি, তখন সে নিজের শক্তির মাধ্যমে নিজেকে মুক্ত করে তাদের উপরে ছাপিয়ে পড়বে।
আর আমাদের সকল সৈনিকরা সাদা পাহাড়ির আশেপাশেই থাকবে, তারা যখন বুঝতে পারবে ইয়ামিন তার শক্তির মাধ্যমে মুক্ত হয়ে গেছে। আর সেই কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে, তখনই আমাদের আট লক্ষ জ্বিন তাদের ওপরে ঝাপিয়ে পড়বে, দেখবে আমাদের জয় নিশ্চিত, কারণ আমাদের ৮ লক্ষ জ্বিনের সামনে থাকবে ইয়ামিন, যাকে তখন হারানো অসম্ভব।
ঠিক আছে সম্রাট আপনি যেমনটা বলবেন তেমনটাই হবে, আমি ইয়ামিনের জন্য এতোটুকু করতেই পারি, কারন আমিও যে তাকে অনেকটা ভালবাসি, তাছাড়া আমাকেও তো প্রতিশোধ নিতে হবে আমার, দাদুর হত্যার প্রতিশোধ, সেই নিষ্পাপ, ইমাম সাহেবের প্রতিশোধ, যে কিনা আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিল, আমি নিজে দাঁড়িয়ে তোমাদের বিয়ে দেবো মা।
আমি নিজের কান্না ধরে রাখতে পারি না। আমার চোখ বেয়ে অঝোরে, অশ্রু ঝর ছিল, সম্রাট আমার কাছে এসে আমার চোখের পানিটা তার হাত দিয়ে পৌঁছে দেয়, আর আমাকে বলে উপরওয়ালা যা করে ভালোর জন্যই করে। তার উপরে বিশ্বাস রাখো উপরওয়ালার সবকিছু ঠিক করে দেবে, তুমি আমার সাথে আসো মা।
আমিও আমার সাথীরা মিলে সম্রাটের সাথে প্রাসাদের বাইরে আসি, বাইরে আসার পর আমি চারিপাশে কিছুই দেখতে পাই না কিন্তু সম্রাট আমাদের থেকে একটু এগিয়ে গিয়ে, অনেক জোরে বলতে শুরু করে, তোমরা সকলে কোথায় আমার সাথীরা, যুদ্ধের সময় হয়েছে কাফেরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর, সময় হয়েছে নিষ্পাপ মেয়েদের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার,জেই কাফেরেরা,প্রতিনিয়ত মেয়েদের সাথে সহবাস করে তাদের জীবন কেড়ে নিয়ে ছুড়ে মেরেছে। ওই গভীর সমুদ্রে, ওদের পাপের খরা পূরণ হয়েছে, তোমরা কোথায় দেখা দাও।
তখন আমি দেখতে পেলাম আকাশ জুড়ে,
অনেক অনেক , লম্বা জ্বিনেদের আগমন ঘটছে, সকলের হাতেই যুদ্ধের তলোয়ার, সকলের পরনে যুদ্ধের পোশাক, সবাই আস্তে আস্তে প্রাসাদের সামনে এসে দাঁড়ালো আর একসাথে বলতে শুরু করল, কসম আমাদের জানের মালিকের ঐসব কাফেরদের ধরে ধরে, মাঝ খান দিয়ে দু টুকরো করে ফেলে দেব, হয়তো তাদের পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেব, নয়তো নিজেরা এই পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব, শুধুমাত্র সাহায্য চাই ওই উপরওয়ালার,এটা বলে সেসব সৈনিকরা আস্তে আস্তে আবার অদৃশ্য হয়ে গেল, যাওয়ার আগে সকলে মিলে আমার উদ্দেশ্যে বললো,বোন আমার তুমি তোমার কাজ কর আমরা সঠিক সময়ে দেখা দেবো।
তারা যাওয়ার পর সম্রাট আমাকে বলে এবার তোমার পালা, আমি সম্রাট কে বলি, আমি কি করে ধরা দেব,
আর আমি যদি নিজে থেকে ধরা দেই তাহলে যদি তারা বুঝে যায় এটা কোন চাল?
সম্রাট আমাকে বলে তোমাকে একটি কাজ করতে হবে,
আজকে রাতে নিজেকে এত সুন্দর করে সাজিয়ে তুলবে, আরেকটি খুব সুন্দর শাড়ি পড়ে বিছানার উপরে শুয়ে পড়বে, তখন ভোগনাথ আর নিশিরাম তোমাকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হবে।
তখন তাদের মাথায় শুধু তোমাকে ভোগ করার ইচ্ছে জাগবে, তাদের মাথায় আসবে না এটা কোন চাল হতে পারে।
ঠিক আছে সম্রাট তাহলে এমনটাই হোক,
আল্লাহ তোমার সহায় হোক মা, যে পথে এসেছ সেই পথেই ফিরে যাও,আমি সম্রাটের পায়ে ছুঁয়ে তার থেকে দোয়া নিয়ে নেই , সম্রাট আমাকে বলে আমি যদি পারতাম তাহলে তোমাদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম ,।
আপনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করতে পারলে কি হবে সম্রাট আপনি তো আপনার সমস্ত দিয়েই আমাকে সাহায্য করছেন, আপনার কাছে আরেকটি সাহায্য চাই আমি আপনি, মোনাজাতে আমাদের সকলের জন্য দোয়া করবেন।
আমিও আমার সাথীরা সম্রাটের থেকে বিদায় নিয়ে আবার সেই সিঁড়ির পথ ধরে আস্তে আস্তে মাটিতে নেমে আসি। মাটিতে আসার পর সে গ্রামের পথ ধরে আবার
হাঁটতে হাঁটতে এসে ফুল বাগানে দাঁড়াই।
বরাবরের মতোই আমার সাথীরা আমাকে এসে গোলাপ ফুলটি হাতে তুলে দেয়, আমিও ফুলটি হাতে নেই, আগের মতই আমার মাথাটা ঘুরতে শুরু করে আর চারিপাশে ঝাপসা ঝাপসা দেখতে শুরু করি। আমি কিছুক্ষণের ভেতরেই আমি জ্ঞান হারিয়ে সেখানেই পড়ে যাই।
আমার জ্ঞান ফিরতেই আমি চোখ মেলে দেখতে পাই। রাকিব ভাই আমার সামনে দাঁড়ানো, আর ঠিক তার পেছনে আমার সেই ১০ জন সাথি,রাকিব ভাই আমাকে বলে আমার সাথীরা আমাকে সবকিছু বলেছে, আমিও যাবো তোমাদের সাথে যুদ্ধে।
কিন্তু রাকিব ভাই আপনি তো সাধারণ মানুষ আপনি কি করে সেসব জ্বীন দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন।
রাকিব ভাই আমাকে বলে তারা যুদ্ধ করবে তাদের যাদু শক্তির মাধ্যমে আর আমি যুদ্ধ করবো কুরানের সাহায্যে,
আমি পবিত্র কোরআন থেকে কিছু আয়াত পড়ে সে সব, জ্বিনেদের দুর্বল করার চেষ্টা করব কারণ কাফের জ্বিনেরা কখনোই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত সহ্য করতে পারে না,।
চলো তোমাকে এখন বাসায় নিয়ে যাই। আর সম্রাটের কথা মত তুমি নিজেকে তৈরি করো, একটা সুন্দর শাড়ি পরে নিজেকে সাজাও যেন তারা কোনভাবেই তোমার থেকে চোখ সরাতে না পারে।
আর আমার সাথীরা যতটুকু আমাকে জানিয়েছে নিশিরামও, ভোগনাথ সব সময় দূর থেকে তোমার উপরে নজর রাখছে, কিন্তু ভয় নেই তারা কোনভাবেই বুজতে পারবে না যে আমরা সম্রাটের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম, কারণ তোমাকে বাড়ির বাইরে থেকে আনার সময় আমি চারিপাশ, পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে বন্ধ করে ফেলেছিলাম যেনো দূর থেকে ও তোমার উপর কেউ নজর না রাখতে পারে।
কিন্তু এখন বাড়িতে গিয়ে আমি সেই বন্ধ দরজাটা খুলে দেবো, কারণ তারা যেন তোমাকে দূর থেকে দেখতে পারে আর তোমার এই সৌন্দর্যর রূপ দেখে তারা পাগল হয়ে যায়।
আমি আমার সাথীদের সাথে বাড়িতে আসি,
রাকিব ভাই ততক্ষণে পরিবারের সকলকে সবকিছু খুলে বলছে,রাকিব ভাই সবাইকে এটাও বলে আমাকে কান্নাকাটি করবেন না তাহলে তারা বুঝে যাবে এটা আমাদের একটা চাল একটা পরিকল্পনা।
আমি বাড়িতে এসে সোজা চলে যায় গোসলখানায়। আর সুন্দরভাবে গোসল করে ঘরে চলে আসি,ঘরে আসার পর আমি আমার আলমারিতে রাখা সেই নীল শাড়ি টা বের করি,এত শাড়ি থাকতে আমি নীল শাড়িটাই পড়তে চাচ্ছি এই কারণে, কারণ এই নীল শাড়িটা পড়ে আমি ইয়ামিনের সাথে অনেক ভালো সময় কাটিয়েছি, আর সে কাফের গুলো যখন আমাকে তুলে নিয়ে ইয়ামিনের চোখের সামনে সহবাস করতে যাবে , তখন সে আরো রেগে যাবে, তখন তার মনে পড়বে এই শাড়ি পরানো অবস্থায় সে আমার সাথে কত ভালো সময় কাটিয়েছে , সে যেন খুব তাড়াতাড়ি রেগে যায় এই কারণেই আমি এই শাড়িটা বেছে নিয়েছি।
আমি এই শাড়িটা পড়ে খুব সুন্দর করে সেজে বিছানার উপরে নিজেকে হেলিয়ে দেই,আর অপেক্ষা করতে থাকি। কখন সেই কাফের গুলো আসবে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে, মধ্যরাতে পুরো বাড়ির চারিপাশে অনেক হাঁটাচলা শব্দ আমার কানে আসে , আমি ঘুমাইনি আমি শুনতে পাচ্ছিলাম অনেক মানুষ যখন একসাথে হাটে এমন শব্দ আসছে, তখনই কেউ একজন আমার দরজায় একটা লাথি মারে , এক লাথিতে আমার দরজাটা ভেঙে দুভাগ হয়ে যায়, তখনই আমি দেখতে পাই?
তারপর ______
Next______
আপনারা আপনাদের কথা রেখেছেন আমি আমার কথা রাখলাম , বলেছিলাম যদি ৭:০০ টার আগে ৫০ টা শেয়ার আর ২০০কমেন্ট হয়ে যায় তাহলে আমি এই গল্পের নেক্সট পার্ট আজকেই লিখে আপলোড করব।
আমি আমার কথা রেখেছি।ধন্যবাদ আপনাদের সকলকে আমাকে এত ভালোবাসা দিয়ার জন্য।
এই গল্পের পরবর্তী পর্ব আগামীকাল আমার এই নানা ভাইয়ের গল্প পেজে আপলোড দেওয়া হবে। যারা এখনো আমার এই পেজটিকে ফলো করেননি সবাই ফলো করে রাখবেন পরবর্তী পর্বগুলো সবার আগে পড়ার জন্য ।
আমি আরিয়ান আজ আপনাদের থেকে বিদায় নিলাম
আল্লাহ হাফেজ 💕💕

0 Comments
ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য 😊 আপনার কমেন্ট আমাদের উৎসাহ দেয়।