অশরীরী সহবাস (3,4)

 

 

পর্ব _০৩, 4

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

তাহলে এখন কি করব আমরা

কি করে জানব সে জ্বিন টি আসলে কে? 


ঈশিতা একটা কাজ করা যায়, শোন আমি যে ক্লিনিকে জব করি সেখানে ডক্টর ফারুক নামে একজন ব্যক্তি আছে, ৫ জন ডক্টরের মত না সে একটু অন্যরকম। 


অন্যরকম বলতে তুই কি বুঝাতে চাচ্ছিস। ঠিক বুঝতে পারছি না একটু বুঝিয়ে বল তো। 


আসলে হচ্ছে সে ডক্টর হলেও সে অনেক ধার্মিক, 

তাই এসব বিষয়ে অনেক জ্ঞান আছে। তার সাথে দেখা করে, তাকে সবটা খুলে বললে হয় না। একে তো সে আমার কলিগ তারপরে সে অন্য কাউকে বলবেও না, 

আমার মনে হয় এটা ব্যটার হবে সে হয়তো আমাদের সাহায্য করতে পারে।  


ঠিক আছে তাহলে আমি কালকে ভার্সিটি থেকে সোজা তার ক্লিনিকে চলে যাব নে,তুই তোর কলিগের সাথে আগে থেকে কথা বলে রাখিস এই বিষয় কেমন।


ঠিক আছে তুই চিন্তা করিস না চল এখন ঘুমিয়ে পড়তো, আমি আছি তো। আমরা ঘুমিয়ে পড়ি আর পরের দিন সকালে আমি ভার্সিটিতে চলে যাই ঘুম থেকে উঠে আর ঋতু চলে জায় তার ক্লিনিকে।


ভার্সিটি শেষ করে আমি ঋতু আর তার কলিগের সাথে দেখা করতে যাই,হ্যালো আমি কি ভিতরে আসতে পারি,। আরে সেটা তো চলে এসেছিস আয় আয়।

মীট মাই কলিগ আজিম ভাইয়া, আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া আমি ঈশিতা, কেমন আছেন আপনি। 


ওয়ালাইকুম আসসালাম ঈশিতা আসো আসো, তোমাকে নিয়ে কথা হচ্ছিল। ঋতু আমাকে সবটাই খুলে বলেছে তোমার বিষয়। দেখো সেটা আমাদের এই জগতে কিন্তু অদৃশ্য অনেক কিছুই আছে,বিশেষ করে জ্বীন জাতি যেটাকে না মানলে নয়। শোনো অনেক ধরনের জ্বীন আছে, অনেক রকমের জ্বীন আছে আবার এদের ভিতর অনেক জাতির জ্বিন ও এই পৃথিবীতে আছে। 


তাই আমরা যদি জানতে চাই সে জ্বিন,টি আসলে কে। আর সে তোমার কাছে কেন আসে, তাহলে আমাদেরকে ঢাকার মিরপুর মাঝারে যেতে হবে, আসলে ঈশিতা সেখানে আমার পরিচিত একজন অনেক বড় হাফেজ আছে, যার কাছে আছে দশটি জ্বিন।দেখো ঈশিতা,আমরা মানুষ আমরা চাইলেই অদৃশ্য জগতের কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারব না । তবে একটি জ্বিন চাইলে আরেকটি জ্বিনের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারে। 


তাই আমাদের যত দ্রুত সম্ভব তার সাথে দেখা করে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলা দরকার, ঠিক আছে আজিম ভাইয়া তাহলে আমরা কবে রওনা করছি। 

তুমি চাইলে আগামীকাল বিকেলেই আমরা সকলে যাবো সেই মাঝারে। ঠিক আছে ভাইয়া তাহলে সে কথাই রইল চল ঋতু আমরা তাহলে এখন বাড়িতে ফিরে যাই, আল্লাহ হাফেজ ভাইয়া কালকে দেখা হবে। 


আল্লাহাফেজ আর ঈশিতা শোন একটু জানাও, 

এই নাও এটা তোমার কাছে রাখতো, এটা কি ভাইয়া এটা তো এক বোতল পানি,। এটা কোন সাধারণ প্রাণী না এটা মক্কা শরীফের জমজম কূপের পানি। 

আজকে তুমি তোমার খাটের চারিপাশে এই পানিটা ছিটিয়ে দিও , তারপরে বিসমিল্লাও আল্লাহর রাসূল এর নাম নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। 

আশা করি আজকে তোমার তেমন কোন সমস্যা হবে না। 


ঠিক আছে ভাইয়া আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ তাহলে আমরা আজকে আসি,ঠিক আছে আল্লাহ হাফেজ দেখে শুনে যেও। 


দিনের শেষে রাতের অন্ধকার নেমে আসে যতই রাত হচ্ছিল ততই যেন একটা অজানা ভয় আমাকে গ্রাস করছিল, আমি আজিম ভাইয়ের কথামতো সেই বোতলের কিছুটা পানি আমার খাটের চারিপাশে ছিটিয়ে দেই। 


তারপর ঋতুকে জড়িয়ে ধরে কোন ভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করি।রাত যখন গভীর তখন আমি গভীর ঘুমে ছিলাম তখন আমি একটি খুব অদ্ভুত ধরনের স্বপ্ন দেখি।


  

আমি দেখি সেদিন রাতে স্বপ্নে দেখা সেই, জ্বিনটি আমার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে অনেক চেষ্টা করছে আমার কাছে আশার কিন্তু অদৃশ্য কোন শক্তি তাকে আমার কাছে আসতে দিচ্ছে না।


 সে আমার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রাগে ফুসফুস করছে, আর আমাকে বলছে তুমি কাজটি মোটেও ঠিক করোনি আমি কেন তোমার কাছে আসতে পারছি না তুমি কি করেছো বলো তো। তুমি কেন বুঝতে পারছ না আমি তোমার কোন ক্ষতি করতে চাই না আমি তো শুধু তোমাকে ভালোবাসি, ভালোবাসা কি পাপ নাকি আর আমি তোমাকে জড়িয়ে না ধরে ঘুমাতে পারিনা। 


ঈশিতা তুমি কেন করছ আমার সাথে এরকম কেন আমাকে এত কষ্ট দিচ্ছ বলতে পারো, এটা বলে সে আবারো আমার কাছে আসার চেষ্টা করে কিন্তু যখনই সে আমার খাটের সামনে আসে, দূরের ছিটকে পড়ে যায় আরেক পাশে কি হচ্ছে সে বুঝতে পারছে না। 

সে জিদ্দে আমার দরজার সামনে দেওয়াটাই অনেক জোরে জোরে ঘুসি মারতে শুরু করে।


আমি দেখছিলাম তার হাত ফেটে রক্ত বের হচ্ছে ।আমি স্বপ্নের মাঝেই তাকে বলতে শুরু করি এমনটা করবেন না আপনার কষ্ট হবে আপনার হাত কেটে রক্ত বের হচ্ছে দেখুন। 


তখন সে আমাকে বলে তোমার সাথে না ঘুমাতে পারাটা এর থেকেও অনেক বেশি কষ্টের।এর ভেতরে এই চারিপাশে ফজরের আজান দিতে শুরু করে আর সে অদৃশ্য হয়ে গেল আমার চোখের পলকে। যাওয়ার আগে সে আমাকে বলে দয়া করে কালকে তুমি এমনটা করো না তোমার কাছে আমাকে একটু আসতে দিও দয়া কর আমার প্রতি। 


তখনই আমার স্বপ্নটা ভেঙে যায় আমি ঘুম থেকে অনেক জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠি।এই ঈশিতা কি হয়েছে কি হয়েছে বল আমাকে কিরে তুই এভাবে আবার দাঁড়া দাঁড়া পানি নিয়ে আসি তোর জন্য, ইনি এই পানিটা খা তো।এখন বলতো কি হয়েছে তোর?


ঋতু আজ কেও না আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি জানিস। আমি রিটকের স্বপ্নের বিষয়ে সব কিছু বর্ণনা করি, স্বপ্ন শুনে ঋতু আমাকে বলে।


আরে ওটা তো একটা স্বপ্ন স্বপ্নকে নিয়ে এত কেন ভাবছিস তুই। এসব কথার মাঝে আমার চোখের নজর গিয়ে পড়ে আমাদের দরজার সামনে দেয়ালটায়। 

দেয়ালটায় নজর যাওয়ার পরে আমি আরেকটা চিৎকার দেই, কিরে কি হলো কি হলো আবার তোর। 


ঋতু ঋতু উইজে ওই দিকটায় দেখ। ঋতু যখন ওই পাঁচটায় দেখে তারও পুরো শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়।

একি এটা কি করে সম্ভব?


আসলে আমরা দুজন দেখছিলাম আমাদের ওই দেওয়াটা একেবারে একজন বারবার খুশি মেরেছে এ কারণে দুই এক দিক কেটে গেছে আর রক্ত দিয়ে সে জায়গাটা ভরে আছে। আমি বলেছিলাম না সেটা স্বপ্ন না এটা আসলেই ঘটেছে। 


 

আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এসব জিনিস দেখে। আচ্ছা ঈশিতা তুই শান্ত হও আজকেই তো আমরা যাচ্ছি মাজারে আমরা সব কিছু জানতে পারবো চল আমার সাথে। 


আমরা বাসা থেকে বের হয়ে আজিম ভাইকে কল করি।হ্যাঁ ঈশিতা বলো কি হয়েছে?


ভাইয়া এখনই আমাদের মাজারে যেতে হবে। 

কিন্তু কেন ঈশিতা আমাদের তো কথা হয়েছিলো আমরা বিকেলে যাব। নানা ভাইয়া অনেক বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে, আমাদের আর দেরি করা ঠিক হবে না আমাদের এখনই যাওয়া উচিত। 


কি হয়েছে বলোতো? 

আমি ভাইয়াকে ফোনে সব কিছু খুলে বলি, স্বপ্ন শুনে ভাই আমাকে বলে। 


ঠিক আছে তুমি আর ঋতু ও আমার বাড়ি দিকে চলে আসো তো এখান থেকে রওনা করছি।

ঠিক আছে ভাইয়া আমি আর ঋতু এখনই আসছি। 

আমরা দুইজন আজিম ভাইয়ের বাসায় যাই সেখান থেকে সকালের নাস্তা করে তারপরে রওনা করি মাজারের উদ্দেশ্যে। 


মিরপুর আস্তে আস্তে আমাদের দুই ঘন্টার মত সময় লাগে,মাজারের সামনে এসে, আমরা তিনজন দাঁড়াই আজিম ভাই আমাদেরকে বলে তোমরা দুইজনে এখানে দাঁড়াও আমি ভিতরে গিয়ে আমার বন্ধুকে নিয়ে আসছি। 


আজিম ভাইয়া মাজারের ভিতরে চলে যায়। আমি আর হৃদয় সেখানেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। কিছুক্ষণ পর আজিম ভাইয়া তার সাথে করে, একটি খুব সুন্দর লোককে নিয়ে আসে।, যার পরনে ছিল সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি মাথায় টুপি সাদা দাড়ি, দেখে আমাদের আর বুঝতে বাকি রইল না এই হচ্ছে আজিম ভাইয়ের বন্ধু সে হাফেজ। 


 সে আমাদেরকে একটি সালাম দিয়ে বলে আমার নাম রাকিব,।আমরা তার সালামের উত্তর নিয়ে আমাদের নামটাও তাকে বলি। 


রাকিব ভাই আমাদেরকে বলে আপনারা তিনজন আমার সাথে আসেন তো। আমরা তার সাথে হাঁটা শুরু করি সে আমাদেরকে নিয়ে মাজারের ভেতরে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। 


আমি কক্ষে প্রবেশ করে দেখি ঘরটা খুব সাজানো গোছানো, আর খুব সুন্দর মিষ্টি আতরের ঘ্রাণ রয়েছে সে ঘরে। রাকিব ভাই আমাদেরকে বলে এই ঘরের ভেতরেই আমি আমার জ্বিন সাথীদের সাথে কথা বলি আর তাদের সাথে দেখা করি। 


আপনি এখন আপনার সাথে যা যা ঘটেছে সবকিছু আমাকে বলবেন, দেখুন ঈশিতা আপনারা হয়তো তাদেরকে দেখতে পারছেন না। কিন্তু আমার সাথে এখানে আরও দশটি জ্বিন দাঁড়িয়ে আছে যারা বাতাসের সাথে অদৃশ্য হয়ে আছে। 


আপনি এখন যা যা বলবেন আমার সাথে তারাও খুব মন দিয়ে সেগুলো শুনবেন। আর তারা তাদের মত করে চেষ্টা করবে আজকে রাতের ভেতরেই সেই জ্বিনটার বিষয়ে সবকিছু জানার। আর আগামীকাল সকালে আপনারা আবারও এখানে আসবেন আমি আপনাদেরকে সবকিছু খুলে বলবো তারা কি কি জেনেছে সেই জ্বিন টার বিষয় । 


আমি রাকিব ভাইয়াকে সব কিছু খুলে বললাম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, সবকিছু শুনে রাকিব ভাইয়া খুব অদ্ভুত ধরনের একটা প্রশ্ন করল আমাকে?


তারপর ______

গল্প_ অশরীরী সহবাস 

পর্ব _০৪

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

সবকিছু শুনিয়ে রাকিব ভাইয়া খুব অদ্ভুত একটা আমাকে প্রশ্ন করল?


কিছু মনে করবেন না ঈশিতা আমি আপনার কাছে কিছু কথা জানতে চাই ।


জি রাকিব ভাইয়া বলেন। কি জানতে চান আমার কাছে। তুমি বলছো সে তোমার সাথে সহবাস করছে। আমি জানতে চাই সে কি একা তোমার সাথে মিলিত হয়েছে। না কি তার সাথে আরো কেও ছিলো।


না না রাকিব ভাই সে একাই ছিলো, কিন্তু আপনি এই প্রশ্ন কেনো করছেন ? 


আসলে ঈশিতা, দল বেঁধে যদি কোন জ্বিন কোন মানুষের মেয়েকে ধ*র্ষণ করে কিংবা তার সাথে সহবাস করে। তাহলে তার জীবনের ঝুঁকি আছে তাদেরকে সে মেয়ের উপর থেকে ছাড়ানো অনেক কষ্টকর। 


কিন্তু কোন জ্বিন যদি একা তার সাথে সহবাস করে তাহলে ধরে নিতে হবে, সেই জ্বিন আসলে সে মেয়েটাকে ভালবাসে, আর সে জ্বিন,তার অজান্তেই সে ওই মেয়েটার সাথে সহবাস করেছে,যেমনটা তোমার সাথে হয়েছে। 


এর মানে আমরা ধরে নিতে পারি। সে জ্বিনটি তোমার কোন ক্ষতি করতে চায় না। সে তোমাকে অনেক ভালোবাসে এই কারণেই তোমার সাথে, সে দেখা করতে আসে। আর এতদিন যাবৎ তোমার সাথে ছিল। 


ঠিক আছে আমাকে একটা রাত সময় দাও।

আর কষ্ট করে আগামীকাল তোমরা তিনজন আবার এসো আমার কাছে, আমার জ্বিন সাথিরা সবকিছু জেনে আমাকে জানাবে। আর আমি তোমাদেরকে বলতে পারব আসলে সে জ্বিনটা কে আর কেনই বা তোমার সাথে সে থাকে। 


আমরা রাকিব ভাইয়ের থেকে বিদায় নিয়ে এসেই মাজার থেকে আবার যার যার বাড়িতে ফিরে আসি।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিকেল শেষ হয়ে রাত নেমে আসে।


একটা অজানা ভয় আমার মনে বাসা বেধেছে, 

একটি জ্বিন আমাকে ভালবাসে,আপনারা নিজেরা একটু অনুভব করে দেখুন, অদৃশ্য কেউ আপনাকে ভালোবাসে। আর প্রতি রাতে আপনার কাছে সে আসে।

আপনার অজান্তে এসে আপনার শরীরকে স্পর্শ করে।

আপনার সাথে সে সহবাস করে।ভাবতেই খুব ভয় লাগছে তাই না, তাহলে আমার অবস্থাটা একটু বুঝার চেষ্টা করুন,কিভাবে রাতগুলো কাটাচ্ছি আমি। 


রাত নেমে এলেই , মনের মাঝে ভয় নেমে আসে, 

যদি পারতাম সারারাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতে। তাহলে আমি প্রতিরাতেই না ঘুমিয়ে পার করে দিতাম। কারণ ঘুমালে যদি সে আসে আর আমার শরীরের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে।রাকিব ভাইয়া বলল সে আমার কোন ক্ষতি করতে চায় না, তাহলে কেনো সে আমার অনুমতি ছাড়া আমার সাথে এগুলো করল । 


কি,রে ঈশিতা, একা একা কি ভাবছিস,ঘুমাবি না অনেক রাত হয়ে গেল তো। হ্যাঁ ঘুমাতে তো হবে চল ঋতু ঘুমিয়ে পড়ি, এক মিনিট জমজমের পানির বোতল টা কোথায় ঋতু।


পানির বোতলটা তো এই খাটের পাশেই ছিল কোথায় বলতো, সকালে তো এখানেই রেখে গেলাম এখন কোথায় যেতে পারে,ঘর তো আমরা লাগিয়ে গিয়েছিলাম এমনটা তো নয় চোর এসে নিয়ে গেছে। 


আমি আর ঋতু মিলে এক ঘন্টা যাবত। আমাদের ফ্ল্যাটের প্রত্যেকটা কোনায় কোনায় সেই জমজমের পানির বোতলটা খুঁজি,কিন্তু অবাক করার বিষয় আমরা সেই বোতলটার কোন দেখাই পাই না, যেন রাতারাতির ভিতরই সে বোতলটা ঘর থেকে উধাও হয়ে গেল। 


ঋতু এবার কি হবে বলতো এবার আমরা ওকে কি করে আটকাবো।


ঈশিতা ভয় পাস না তো। কিছু হবে না আমি তো আছি, 

চল ঘুমিয়ে পড় আমিই তোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। দেখবি তোর ঘুম চলে আসবে। 


ঋতু আমার মাথায় হাত বোলাতে শুরু করল। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজের অজান্তেই। হঠাৎ করে একটি সালামের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল।


চোখ খুলে দেখি আমার সামনে খুব লম্বা দুজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে, যাদের চেহারাটা ঠিক দেখা যাচ্ছে না। তাদের চেহারা গুলো কাপড় দিয়ে ঢাকা। 

সে দুইটি লম্বা অদ্ভুত দেখতে ব্যক্তি আমাকে বলে?


আপনাকে আমাদের সাথে আসতে হবে। আপনার জন্য মহারাজ অপেক্ষা করছে। আমি লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠে বসি, শুরুতে ভেবেছিলাম এগুলো আমার স্বপ্ন। কিন্তু আমি মিনিটের ভিতরে বুজতে পারি। এগুলো সব কিছু বাস্তবে ঘটছে। আমি যখন ঋতুকে ডাকতে যাব তখন দেখি আমার পাশে কেউ নেই। 


আমি অনেক জোরে ঋতুর নাম ধরে চিৎকার করি কিন্তু ঋতু পুরো ফ্ল্যাটে নেই।


তখনই সেই লম্বা দুজন ব্যক্তি আমাকে বলে, 

এটা হচ্ছে মায়ার দুনিয়া এখানে আপনার বান্ধবী নেই। 

দয়া করে আপনি নিজে থেকে আমাদের সাথে আসুন নয়তো আমাদের জোর করে আপনাকে নিয়ে যেতে হবে। 


কারা এরা কেন এসেছে এখানে, আর কোথাকার মহারাজের কথা বলছে তারা,কি হচ্ছে আমার সাথে কিছুই বুঝতে পারছি না,তখনই সেই লম্বা দুটি অদ্ভুত দেখতে লোক আমাকে এক ধমক দিয়ে বলে । 


কি হলো উঠুন খাট থেকে আসুন আমাদের সাথে।

আমি ভয়ে খাট থেকে নেমে ধারাই আর তাদের সাথে হাঁটা শুরু করি। 


তারা আমাকে নিয়ে বাড়ির বাইরে চলে আসে কোথায় যাচ্ছিল। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু যখন আমি, 

 বাড়ির ভেতর থেকে বাইরে আসছিলাম তখন দারোয়ান বা অন্য কাউকে আমি দেখিনি।

আশেপাশের সবকিছুই চেনা কিন্তু যেন অচেনার মত লাগছে, সবটাই যেন মায়ার একটি দুনিয়া।


কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তারা আমাকে?


তারপর ______


Next______


এই গল্পের পরবর্তী পর্ব আগামীকাল আমার এই নানা ভাইয়ের গল্প পেজে আপলোড দেওয়া হবে। যারা এখনো আমার এই পেজটিকে ফলো করেননি সবাই ফলো করে রাখবেন পরবর্তী পর্বগুলো সবার আগে পড়ার জন্য । 


আমি আরিয়ান আজ আপনাদের থেকে বিদায় নিলাম 

আল্লাহ হাফেজ।


আসসালামু আলাইকুম 💞💕

Post a Comment

0 Comments