অশরীরী সহবাস (5,6,7)



 গল্প_অশরীরী সহবাস 

পর্ব _০৫,6, 7

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

বাড়ির বাইরে আসার পর আমি সেই দুইটি লম্বা দেখতে ব্যক্তির সাথে হাঁটা শুরু করি,তবে আমার এলাকাটা অচেনা অচেনা লাগছিল। 


অচেনা লাগছে এই কারণে কারণ রাতের বেলায় আমাদের এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ির সামনে একটি করে দারোয়ান থাকে, কিন্তু আমি মানুষ তো দূরে থাক একটি কুকুরের দেখা পাচ্ছিলাম না। 


তাই নিজের এলাকাটায় নিজের কাছে অচেনা মনে হচ্ছিল আমার।


কিছুক্ষণ হাটার পর সেই দুটি ব্যক্তি আমাকে নিয়ে একটি বাস স্ট্যান্ডের সামনে এসে দাঁড়ায়, বাসস্ট্যান্ড দেখে আমি চিনতে পারি। কারণ এই বাস স্ট্যান্ড থেকেই আমি প্রতিদিন সকালে বাসে করে ভার্সিটিতে যাই। 


কিন্তু এখন বাজে রাত দুইটা। এখান থেকে বাস স্ট্যান্ডে কোন বাস আসার কথা না, তাহলে তারা আমাকে নিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছে কেনো?


তাদেরকে জিজ্ঞেস করবো এত সাহসও হচ্ছিল না। কারণ আমি অনেকটাই ভয় পেয়েছিলাম, বারবার মনে হচ্ছিল অনেক জোরে একটি চিৎকার মারি,আর মানুষের কাছে সাহায্য চাই। কিন্তু কার কাছে সাহায্য চাইবো আমি। আমি তো কারো দেখা পাইনি,আমার মনে হচ্ছিল এক দৌড় দিয়ে এখান থেকে পালিয়ে যাই। কিন্তু আমার পা যেন এখান থেকে সরতে চাচ্ছে না।

 

একি হচ্ছে আমার সাথে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, 

আমি ভয়ে চুপচাপ তাদের সাথে এসে বাসস্ট্যান্ডে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি,পাঁচ মিনিট পর আমাকে অবাক করে দিয়ে একটি বাস আমাদের স্ট্যান্ড এসে দাঁড়ায়। 


তবে একি বাসের ভেতরে তো কেউ নেই, 

শুধু বাস চালক আর একজন হেলপার বাসের ভেতরে। 

তারাও দেখতে খুব অদ্ভুত কারণ তাদের মুখগুলো ও কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।


আমার সাথে থাকার সে দুইটি ব্যক্তি আমাকে বলে চলুন বাসে উঠে পড়ুন,আরে ভয়ে ভয়ে তাদের সাথে বাসের ভেতরে উঠে পড়ি। 


বাসটি এবার রাস্তা দিয়ে চলতে শুরু করে।

আমি চারিপাশে তাকিয়ে দেখি রোডগাট পুরোপুরি ফাকা

, দেখে মনে হচ্ছিল এই পৃথিবীতে আর কোন মানুষ বেঁচে নেই, কারোন কোন মানুষ কিংবা কুকুর কোনটা দেখায় আমি পাচ্ছি না। 


কিন্তু এটা কি করে সম্ভব ঢাকা শহর সারারাত কোনো না কোনো মানুষ আশেপাশে থাকবে, রাস্তায় একটা হলেও গাড়ি চলাচল করবে কারণ এটা ঢাকা 

কিন্তু আমি কিছুরই দেখা পাচ্ছি না, এটা কি আমার স্বপ্ন নাকি আসলে আমার সাথে এগুলো ঘটছে। 


আমি লক্ষ করি বাসটি শহরের পথ ছেড়ে একটু গ্রামের পথ ধরে চলতে শুরু করলো, এটা দেখে আমার ভয় আরো দ্বিগুণ হয়ে গেল,আমি ভাবছিলাম আমার সাথে কোন খারাপ কিছু ঘটবে না তো? 


বাসটি এক ঘন্টার মত চলার পর একটি স্থানে থেমে গেল, আমি জানালা দিয়ে দেখি চারিপাশে শুধু ধান খেয়ে তার ধান খেত, আরেকটি নদীর পাড়ে এসে বাস স্টে থেমে গেছে,। 


তখন আমার সাথে থাকা সে দুইটি ব্যক্তি আমাকে বলে চলুন এবার বাস থেকে নামুন।

আমি ভয়ে ভয়ে বাসের ভেতর থেকে বাইরে চলে আসি, 

আমি পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি এই বাসটি এখানে আসার কোন রাস্তায় নেই, কারণ চারিপাশের ধান ক্ষেত কোথাও গাড়ি চলাচলের কোন রাস্তা আমি দেখছিলাম না, তাহলে আমাদের গাড়িটা এখানে কি করে এলো।


আমি ভয়ে কোন কথা বলতে পারছিলাম না।

তখন আমার সাথে থাকা সে দুইটি ব্যক্তি আমাকে বলে আসুন আমাদের সাথে।আমি দেখি সেই দুইটি ব্যক্তি ধান ক্ষেতের ভেতর দিয়ে হাঁটা শুরু করলো, কোন উপায় না থাকায় আমি তাদের সাথে ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে হাটা শুরু করলাম, তখনই আমার কানে আমি শুনতে পেলাম বাসটি আবারও স্টার্ট নিয়েছে, 

ভাবছিলাম একটি বার কি পিছনে ঘুরে দেখব বাসটি কি করে এখানে, কারণ এখানে আসাতে কোন রাস্তা নেই সে আবার কি করেই বা ফিরবে, আমি যখন পিছনে ফিরে তাকে দেখতে যাব,তখনই সে দুইটি ব্যক্তি আমাকে বলে। 


দয়া করে আপনি পিছনে তাকাবেন না তাহলে আপনি ভয় পেতে পারেন, তাদের কথামতো আমি আর পেছনে ফিরে তাকানোর সাহস করি না। 


ধান ক্ষেতগুলো পাড়ি দিয়ার পর, দূর থেকে আমি লক্ষ্য করি একটু খুব সুন্দর রাজপ্রাসাদ, দেখা যাচ্ছে চোখের সামনে, প্রাসাদের চারিপাশে মশাদের আগুন জ্বালানো, 

মশালের আগুন দিয়ে আশপাশার টা খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে রেখেছে, যেমনটা আগেরকার দিনের রাজা-বাদশাদের প্রাসাদ সাজানো হতো। 


কিন্তু এটা কি করে সম্ভব এখনকার দিনে রাজা বাদশাদের প্রাসাদ বলতে তেমন কিছু নেই, 

আর যেগুলো আছে সেগুলোতে জাদুঘর কিংবা মিউজিয়াম,হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে, 

তাহলে এত সুন্দর প্রাসাদ কোথা থেকে এলো, 

এর মানে কি এখনো এই পৃথিবীতে রাজা-বাদশারা আছে? 


সেই দুইটি ব্যক্তি আমাকে নিয়ে এসে প্রাসাদের সামনে দারায়, আমি দেখি চারিপাশে অনেক অনেক সৈনিক দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু তাদের সকলের মুখগুলো কাপড় দিয়ে ঢাকা।


সে দুইজন ব্যক্তি আমাকে নিয়ে প্রাসাদের ভিতরে ঢুকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়,। 

সেই কক্ষে প্রবেশ করার পর আমি দেখতে পাই একটি খুব সুন্দর সিংহাসনের উপরে বসে আছে, সেই স্বপ্নে দেখা জ্বিনটা যেটা কিনা আমার কাছে প্রতি রাতে আসতো । কিন্তু তার শরীরে এখন রাজাদের মতো পোশাক পরানো, মাথায় একটি রাজকীয় মুকুট। 

আমি হা করে তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।


তখন সে তার সিংহাসন থেকে উঠে দাঁড়ায়, 

আর আমার সাথে থাকা সে দুইটি ব্যক্তির উদ্দেশ্য করে বলে, তোমাদের কাজ সম্পন্ন হল। তোমরা এখন আসতে পারো আমি ওর সাথে একান্ত ভাবে কিছু কথা বলতে চাই। 


এরপর সে জ্বিনটি আমাকে বলতে শুরু করে।

ভয় পেয়ো না ঈশিতা তোমার ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই, এটা আমার দুনিয়া আর আমি এখানকার রাজা, তুমি তো আমার বিষয় জানার জন্য সেই হাফেজের কাছে গিয়েছিলে, তাই ভাবলাম অন্য কারো মুখে থেকে কেন তুমি আমার বিষয় জানবে আমি তোমাকে আমার স্বপ্ন দেখাই,কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি আমার বিষয়ে সবকিছু জানা তোমার অধিকার আছে। 


শুনো ঈশিতা, আমি যদি একটা ইশারা করি তাহলে আমার সাথি রা সে তোমার হাফেজ বন্ধুর, সাথে থাকা ১০ জন জ্বিনকে চোখের পলকেই হত্যা করবে । 

কিন্তু আমি এটা কোনদিনও চাইব না, এটার একটাই কারণ আমি তোমাকে আসলেই অনেক ভালবাসি ঈশিতা, 


আমি তোমাকে কি করে প্রথমবার দেখলাম আর তোমাকে কেনো,এত ভালবাসি এ কথাগুলো এখন আমি তোমাকে বলবো না। তুমি আগামীকাল তোমার সেই হাফেজ বন্ধুর মুখ থেকে শুনে নিও। 

তোমাকে এখানে নিয়ে আসার দুইটি কারণ, 

একটি কারণ হচ্ছে আমি চাচ্ছিলাম তুমি আমার বিষয়ে সবকিছু দেখো নিজের চোখে, আরেকটি কারণ হচ্ছে গত পাঁচ বছর আমি তোমার সাথে তোমার ঘরে রাত কাটাতাম, তাই আমি চাই অন্তত আজকের রাতটা তুমি আমাদের দুনিয়ায় আমার সাথে আমার ঘরে রাত কাটাও।


ভয় পাওয়ার কোন দরকার নেই ঈশিতা তুমি যেমনটা ভাবছো আমার তেমনটা কোন উদ্দেশ্য নেই, 

তোমাকে তো আমি সেদিন রাতে তোমার স্বপ্নে এসেও বলেছি, তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে ঘুমাতে আমার একটা অভ্যাস হয়ে গেছে, আমি শুধু তোমাকে জড়িয়ে ধরে একটা শান্তির ঘুম দিতে চাই,তোমার যখন সকালবেলা ঘুম ভাঙবে তুমি তোমার দুনিয়ায় তোমার খাটে নিজেকে আবিষ্কার করবে। 


অনেক রাত হয়ে গেছে চলো আগে আমরা খাওয়া-দাওয়া করি তারপর আমরা ঘুমাতে যাব। 


সেই জ্বিন তার কথা শেষ করে আমার হাত ধরে সে কক্ষের বাইরে নিয়ে এলো, তারপর সে প্রাসাদের খাবারের কক্ষে আমাকে নিয়ে যায়। 

আমি দেখি কক্ষের ভেতরে অনেকগুলো দাস-দাসী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তাদের সকলের মুখগুলো ঢাকা কাপড় দিয়ে, তারা সবাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। 


সেই জ্বিন টি খাবারের টেবিলের একটি চেয়ারে আমাকে বসিয়ে। তার পাশের চেয়ারে সে নিজে বসে পরলো, আমি দেখতে পাচ্ছি টেবিলের ওপরে অনেক ধরনের সুস্বাদু খাবার দিয়ে সাজানো, কিন্তু আমি কিছু খেতে পারছিলাম না। 


তখন সেই জ্বিন টি আমাকে বলে, কি হলো ইশিতা খাবারগুলো খাও, ভয় পেয়ো না এগুলো সব কিছুই হালাল খাবার,দাঁড়াও আমি তোমাকে প্লেটে করে বেড়ে দিচ্ছি। 


তখন সে জ্বিন টি একটি খাবারের প্লেট হাতে নিল আর কিছুটা পোলাও কিছুটা মাংস আর নানান ধরনের কিছু, মাছ ভাজা সবজি আমার প্লেটে তুলে দিলো।

আমি ভয়ে ভয়ে কিছুটা খাবার মুখে তুলি,প্রথম কিছুটা খাবার খাওয়ার পর আমার মুখে এতটাই ভালো লাগে যে আমি প্লেটের সবগুলো খাবার নিমিষে শেষ করে ফেলি,আমি এত সুস্বাদু খাবার এর আগে আর কখনো খাইনি। 


খাওয়া-দাওয়া শেষ করার পর, সেই জ্বিন টি খাবারের কক্ষ থেকে আমাকে বের করে নিয়ে আসে, তারপর তার শোয়ার কক্ষে আমাকে নিয়ে যায়।

 

আমি তার সাথে সে পক্ষে প্রবেশ করার পর। দেখি খুব সুন্দর করে একটি রুম সাজানো, খুব দামি দামি জিনিস দিয়ে রুমটি সাজিয়ে রেখেছে, দেখে আমার বুঝতে বাকি রইল না এটা যে একটা রাজাদের রুম,।


সে আমাকে বলল কি হল এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন চলো ঘুমাতে যাই, আমি এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তার মুখের উপর কোন কথা বলতে পারছিলাম না। 

আমি সেই ঘরের পালঙ্কের উপরে শুয়ে পরি একটি পাশে, কিছুক্ষণের ভেতরে সেও আমার পাশে এসে শুয়ে পড়ে। 


তারপর সে তার দুটি হাত আমার শরীরে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে, আর আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে। 

যখন আমাকে ধরেছিল আমার হার্টবিট বেড়ে গিয়েছিল, বুকের বা পাঁচটা যেন খুব ধপ ধপ করে কাঁপছে, এটা যেন একটা অন্যরকম অনুভূতির।

কিন্তু মনের ভেতরে একটা চাপা ভয় রয়ে গেল, 

আমি ঘুমিয়ে পড়লে আবার সে আমার সাথে অন্য কিছু করবে না তো,কিন্তু একটা বিষয়ও ভাবছিলাম, 

তার যদি খারাপ কোন মতামত থাকতো তাহলে সে আমাকে এত সুন্দরভাবে অতিথি আপ্যায়ন করত না, 

সে হয়তো বা সত্যিই আমাকে ভালোবাসে,

এগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম। 


আমার ঘুম ভাঙ্গার পর আমি যা দেখি সেটা দেখে তো আমি খুব অবাক হই?


তারপর ______


Next______

 গল্প _অশরীরী সহবাস 

পর্ব _০৬, 7

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

ঘুম থেকে উঠে দেখি কেউ একজন আমাকে জরিয়ে ধরে আছে। আমি ভয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই।


ঠিক তখনি কেউ একজন চিৎকার দিয়ে উঠে। ও আল্লাহ রে গেলাম রে। আমি ঘুরে তাকিয়ে দেখি নিচে পরে আছে আমার বান্ধবী ঋতু। আমি বুজতে পারি ভয়ে আমই আমার বান্ধবীকে খাট থেকে ফেলে দিয়েছি।কিন্তু এটা কি করে সম্ভব আমি তো গত কাল রাজ বাড়িতে ছিলাম।


আমি খাট থেকে নেমে আমার বান্ধবীকে নিচ থেকে তুলি। সরি সরি রে বান্ধবী,সে আমার কাছে জানতে চায়। এই অদ্ভুত আচরণের কারন্টা কি। আমি ঋতুকে সব টা খুলে বলি গত কাল আমার সাথে জা জা হয়েছে।


সব শুনে ঋতু আমাকে বলে এটা কোনো ভাবেই সম্ভব না। কারন আমি রাতে অনেক বার ঘুম থেকে উঠেছি ওয়াসরুমে জাওয়ার জন্য।কিন্তু তোকে তো দেখলাম খাটে গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে আছিছ। তাহলে তুই কেনো বলছিস যে তুই ঘরে ছিলি না। আর তোকে দুজন লোক সেই রাজ বাড়িতে অই জ্বিনটির কাছে নিয়ে গেয়েছিলো। আর তুই সেখানেই রাত্র জাপন করেছিস। 


আমি কিছুই বুজতে পারছি নারে দোস্ত কি হচ্ছে আমার সাথে এগুলা।তোর এই সব প্রশ্নের উওর দিতে পারবে রাকিব ভাই।চল দোস্ত আমরা এখনি মাজারের উদ্দেশে রওনা করি। দারা আমি এখনি আজিম ভাইয়া কে এক টা কল দিচ্ছি। 


ভাইয়া গাড়ি নিয়ে আমাদের কে রিছিভ করবেন। আমি ভাইয়াকে কল দি তার ১০ মিনিট পর ভাইয়া আমাদের বাসার সামনে আসে আমাদের রিছিভ করতে। তারপর আমরা ৩ জন রওনা করে দি মাজারের উদ্দেশে। গাড়িতে বসে ছিলাম আমার মনে অনেক প্রশ্ন উদয় হচ্ছিলো। গত কাল রাতে তো আমি দেখে ছিলাম আমার ঘরে ঋতু নেই।


আর সেই দুই লোক আমাকে ঘরের বাইরে রাজবাড়িতে নিয়ে গেলো। কিন্তু ঋতু তো বলছিলো আমি তো ঘরেই ছিলাম তা হল্র গত কাল রাতে আমার সাথে এত কিছু কি করে হলো। 


এই সকল কিছুর উওর আমাকে জানতে হবে। এগুলো ভাবতে ভাবতে গাড়ি টা মাজারের ভিত্রে এসে দাড়ালো। গাড়ি থেকে নামতেই দেখতে পাই রাকিব ভাই আমাদের গাড়ির সামনে এসে দাড়িয়ে আছে। আমাদের দেখে সে বল্লো আমি জানতাম তোমরা আসবে। আমি তোমাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম তোমরা আসো আমার সাথে। তারপর আমরা রাকিব ভাইয়ার সাথে তার রুমে প্রবেশ করি। আমি রাকিব ভাইকে সব টা খুলে বলতেই জাবো তার আগে রাকিব ভাই আমাকে বলে। 


তোমাকে কিছু বলতে হবে না আমি জানি তোমার সাথে গত কাল রাতে কি কি হয়েছে। তুমি তো জানতে চাও এগুলো কি করে হলো। শুনো ঈশিতা সেই দুই জন জ্বিন তোমাকে না বরং তোমার শরীরের ভিতর থেকে তোমার আত্মা কে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তোমার শরিরের ভেতর থেকে আলাদা করে তাদের সাথে করে সেই রাজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ছিলো। 


==========================================


এই কারণেই তোমাকে ঋতু দেখেছিল তুমি গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে আছো, আর ঐদিকে তুমি রাজবাড়ীতে ছিলে। 

শুনো ঈশিতা, আমি আমার সাথীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি সে আসলে কে তার নাম কি আর সে কোথায় থাকে, সে হচ্ছে ৩ লাখ শক্তিশালী জ্বীনেদের রাজা । 

তার নাম হচ্ছে ইয়ামিন শেখ, 


একটা কথা সত্য সে যদি চাইত তাহলে অনায়াসেই আমার দশ জন সাথীকে হত্যা করতে পারতো, কিন্তু সে এমনটা করেনি কারণ, সে চাচ্ছিল আমি তার বিষয়ে সব কিছু তোমাকে বলি। 


ঈশিতা, মহারাজ ইয়ামিন শেখ তোমাকে আসলেই মন থেকে অনেক ভালোবাসে। তোমার মনে আছে আজ থেকে আরো পাঁচ বছর আগে তুমি গ্রামের বাড়িতে তোমার বাবা মার সাথে ঘুরতে গিয়েছিলে।


আর বিকেল বেলায় তোমার মামাতো বোনের সাথে সেই গ্রামের নদীর পাড়ে হাটতে বের হয়েছিলে।

তখন তোমার চোখে পড়েছিল।

 নদীর মাঝ বরাবর খুব সুন্দর কিছু পদ্ম ফুল, তুমি সেই ফুলগুলো নিজের হাতে নিতে চেয়েছিলে, তখনই তোমার চোখে পড়েছিল ঘাঁটে একটি নৌকা। আর নৌকার মাঝে একটি খুব সুন্দর পাঞ্জাবি পরা লোক বসে আছে, তুমি ভেবেছিলে সেটা হয়তো বা একটি মাঝি, তাই তুমি তার কাছে অনুরোধ করেছিলে যেন তোমাকে সেই মাঝ নদীতে নিয়ে যায় আর সে পদ্ম ফুল উদ্ধার করতে সাহায্য করে। 


অবাক করার বিষয় সেই ছিল, মহারাজ ইয়ামিন শেখ, সে মানুষরূপে সে গ্রামে গিয়েছিল। কারণ সেই গ্রামের বড় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক তার খুব কাছের বন্ধু।

সে ওই শিক্ষকের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল, 

আর সেই শিক্ষকের কাছ থেকে সে কোরআন শিক্ষা শিখেছিল, সে খুবই ইমানদার একজন জ্বিন রাজা, সে তোমাকে প্রথমবার দেখেই তোমার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। 


সে তোমাকে নিয়ে মাছ নদীতে গিয়ে সেই পদ্মফুল তোমাকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছিল, বিনিময়ে তুমি তাকে বিশটা টাকা উপহার দিয়েছিলে মনে আছে। 

আমি বলি হ্যাঁ মনে আছে কিন্তু তাকে তো দেখে খুব সাধারণ মানুষের মতো মনে হচ্ছিল,আমি তো কোনোভাবেই ধরতে পারিনি সে একটি জ্বিন ছিল। 


সেদিনের পর থেকে এসে তোমার পিছু লাগে আর তোমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা শুরু করে, সেটা তার সাথীদের মাধ্যমে খুব সহজেই তোমার বাড়ির ঠিকানা উদ্ধার করে, সে শুরুতে তোমার বাড়ির বাইরে জানালা দিয়ে তোমাকে দেখত, কিন্তু সে তোমাকে এতটাই ভালোবাসতো যে দূর থেকে দেখে তার মন ভরতো না। আস্তে আস্তে সে তোমার কাছে আসতে শুরু করে। 


আরেকদিন রাতে সে সাহস করে তোমার খাটে তোমার পাশে ঘুমিয়ে পড়ে, এমনিভাবে এসে তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে শুরু করে প্রতি রাতে, তুমি গভীর ঘুমে থাকার কারণে এগুলো কোনভাবেই বুঝতে পারতে না, 

তেমনি ভাবে একদিন রাতে খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল, 

দেখো ঈশিতা একটা কথা আমাদের মানতে হবে। 


মানুষ হোক কিংবা জ্বিন,সকলের ভেতরেই উপরওয়ালা, যৌবন চাহিদা দিয়ে রেখেছে, এই কারণে সে না চাইতেও সেদিন তোমার সাথে সহবাস করেছিল, আর ঠিক তারপরের দিনই তোমার মা, 

তোমার বিছানায় রক্ত দেখে তোমাকে এই বিষয়টা জানিয়েছিল, আর আস্তে আস্তে তুমি সে জ্বিনটা সম্পর্কেও সবকিছু খোঁজখবর নিয়ে ফেলেছ। 


তুমি কি জানো গতকাল রাতে আমার ১০ জন জ্বিনের সাথে তার খুব শক্তিশালী দুইজন জ্বিন আমার কাছে এসেছিল, সেফটি হুশিয়ার বার্তা আমাকে দিয়ে গেছে, 

আরেকটি কথা তোমাকে জানাতে বলেছে এটা তোমার জানা খুব দরকার। 


আমি রাকিব ভাইয়াকে বলি কি কথা রাকিব ভাইয়া,

বলেন আমাকে কি জানাতে বলেছে সে?


তারপর ______


Next______


এই গল্পের পরবর্তী পর্ব আগামীকাল আমার এই নানা ভাইয়ের গল্প পেজে আপলোড দেওয়া হবে। যারা এখনো আমার এই পেজটিকে ফলো করেননি সবাই ফলো করে রাখবেন পরবর্তী পর্বগুলো সবার আগে পড়ার জন্য । 


আমি আরিয়ান আজ আপনাদের থেকে বিদায় নিলাম 

আল্লাহ হাফেজ।


আসসালামু আলাইকুম 💕অশরীরী সহবাস 

গল্প_অশরীরী সহবাস 

পর্ব _০৭

#লেখক_আরিয়ান_অভি 

রাকিব ভাই চুপ কেনো কথা বলেন, সে আপনাকে কি বলতে বলেছে। 


সে,টার লোকদের মাধ্যমে আমাকে জানিয়েছে আমি যদি তোমার আর কোন সাহায্য করি, কিংবা তোমার আর তার মাঝে আসার চেষ্টা করি, তাহলে সে দ্বিতীয়বার এই দুঃসাহস মেনে নেবে না। আমাকে উপযুক্ত শাস্তি সে দেবে, তাই আমার জন্য ভালো আমি যেনো তোমাদের মাঝে না আসি। 


দেখো ঈশিতা, আমি আর তোমার কোন ধরনের সাহায্য করতে পারবো না, কিন্তু তুমি একটি জায়গায় গেলে এই বিষয়ে অনেক সাহায্য পাবে, 


আপনি কোথায় যেতে বলছেন আমাকে, আর আপনি যে টা পারেননি সে টা অন্য কেও কি করে পারবে।

সে তো অনেকগুলো জ্বিনেদের রাজা,তার বিরুদ্ধে কি কোন হাফেজ বা আলেম যেতে চাইবে। 


শোন ঈশিতা একজন হাফেজ আছে যে কিনা তোমাকে সাহায্য করতে পারে, আর মহারাজ ইয়ামিন ও তার বিরুদ্ধে যাবে না, যেখান থেকে এ গল্পে শুরু হয়েছে সেখানেই শেষ হবে,তোমাকে যেতে হবে তোমার দাদা বাড়ির গ্রামে, সে,খানকার সব থেকে বড় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের সাথে তোমার দেখা করতে হবে। 


একাজ তোমাকে একাই করতে হবে তোমার সাথে আজিম কিংবা ঋতু কেউ যাবে না, সব,থেকে ভালো হয় তুমি যদি আগামীকাল সকালেই তোমাদের গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করতো। কিন্তু আমি এটা বলতে পারি সে তোমার কোন ক্ষতি চায় না সে তোমাকে পাগলের মত ভালোবাসে।


ঠিক আছে রাকিব ভাইয়া আমি কালি যাব আমাদের গ্রামে, আমি জানি সে আমাকে অনেক ভালোবাসে, 

কিন্তু এটা কি করে সম্ভব সে তো আমাদের মত মানুষ না 

কিন্তু রাকিব ভাইয়া একটা কথা ঠিক আমি না তার প্রতি অনেক,টা দুর্বল হয়ে গেছি, আমি আমার গ্রামের সেই মাদ্রাসায় যাব আর সেখানকার ইমামের সাথে দেখা করব।


 কিন্তু আমি মহারাজ ইয়ামিন কে আমার পিছু ছাড়াবো এই কারণে না, আমি জানতে চাই সে কি আসলেই সারাজীবন আমার সাথে থাকতে চাই কিনা। 


কিন্তু রাকিব ভাই আমি একটা কথা কোনভাবেই বুঝতে পারছি না, আপনি তার বিরুদ্ধে যেতে চাচ্ছেন না কিন্তু আপনি বলছেন সেই হাফেজ সাহেব পারবে, কে সেই হাফেজ, আর কেনই বা সে তার বিরুদ্ধে যাবে।


আসলে ঈশিতা, সেখানকার ওই প্রধান হাফেজ হচ্ছে তার ওস্তাদ, একটা সময় মহারাজ ইয়ামিন সেই মাদ্রাসায় পড়ালেখা করত মানুষ রূপে আর একটা কথা কি জানো তোমাদের দাদা বাড়ির সকলে মহারাজ ইয়ামিনকে চেনে,কিন্তু কেও জানে না সে একটি জ্বিন সবাই জানে সে এতিম আর ছোট থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছে।


আর সব থেকে মজার বিষয় তো এটা তোমার দাদা চাচা সকলেই তাকে চেনে, কারণ যখন মহারাজ ইয়ামিন মানুষ রূপে সেই গ্রামে ছিল, অনেকবার মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের সাথে তোমাদের দাদা বাড়িতে মিলাদ মাহফিলে জন্য গিয়েছিল, তোমার দাদা বাড়ির সকলে তাকে চেনে। 


কিন্তু সে গ্রামের সকলেই জানে ইয়ামিন এখন আর মাদ্রাসায় নেই সে পড়াশোনা শেষ করে অন্য এক গ্রামে একটি অনেক বড় মাদ্রাসা শিক্ষক, মাঝে মাঝেই মহারাজ ইয়ামিন মানুষ রূপে তোমাদের গ্রামে যায় তার ওস্তাদের সাথে দেখা করতে তেমনিভাবে তোমার সাথে ও তার দেখা হয়েছিল।


শুধু ওই গ্রামের মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানে যে ইয়ামিন একটা জ্বিন, আর প্রধান শিক্ষকের সাথে মহারাজ ইয়ামিনের খুব ভালো সম্পর্ক, মহারাজী আমিন তার ওস্তাদকে বাবার মত করে দেখেন তাই বলেছি সে আর যাই হোক, সেই হাফেজের বিরুদ্ধে যাবে না, 

এখন একমাত্র সেই তোমাকে সাহায্য করতে পারে। 


ঠিক আছে রাকিব ভাই তাহলে আজকে আমরা আসি আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার এই ঋণ আমি কখনো পরিশোধ করতে পারবো না, ভালো থাকবেন আপনি আমি আগামীকাল যাবো আমাদের গ্রামে।


ঠিক আছে তুমি তোমার নিজের খেয়াল রেখো , 

আর তোমাকে কাছে থেকে তো সাহায্য করতে পারবো না তাই দূর থেকে চেষ্টা করবো তোমাকে সাহায্য করার জন্য, 

কিছু জানার থাকলে আমাকে ফোন দিও আমি চেষ্টা করবো তোমাকে ফোনের মাঝে সবকিছু বোজানোর, 


 রাকিব ভাইয়ের থেকে বিদায় নিয়ে আমরা তিনজন সেই মাজার থেকে বের হয়ে আসি।


আজিম ভাইয়া আমাদেরকে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেয়, 

আমি আর ঋতু আমাদের ফ্লাটে উঠে আসি,ঋতু আমাকে বলে, 


ঈশিতা কি করবি তুই এখন, তুই কি যাবি তোদের গ্রামে,

হে রে আমি কাল সকালেই রওনা করবো, তুই দয়া করে আমার বাবা-মাকে কিছু বলিস না। 


ঠিক আছে তুই চিন্তা করিস না আমি আঙ্কেল আন্টিকে কিছু বলবো না কিন্তু আমার টেনশন হচ্ছে তুই আসলে কি করতে চাচ্ছিস,তুই কি আসলেই সে জ্বিন টার প্রেমে পড়ে গেলি না,কি,। 


তুই কি ভুলে গেলি ও তোর সাথে সহবাস করেছে, যে,টা তোর স্বামীর অধিকার ছিল তারপরও ওকে এত সম্মান করিস কি করে। 


হ্যাঁ এটা ঠিক ও আমার অনুমতি ছাড়া আমার শরীরের সাথে খেলা করেছে, কিন্তু ঋতু তুই যদি গতকাল আমার সাথে ওদের রাজ্যে যেতে পারতি, তাহলে দেখতি ও আমাকে কতটা সম্মান করেছে তুই জানিস আমি ওর সাথে ঘুমিয়েছি, কিন্তু ও শুধু আমাকে জড়িয়ে ধরেছে অন্য কিছুই করেনি।


 আর গত পাঁচ বছর ধরে ও আমাকে দেখেশুনে রাখছে প্রতি রাতে আমার সাথে ঘুমাচ্ছে ও চাইলে এ সুযোগটা অনেক আগেই নিতে পারত,আর অনেকবার নিতে পারত,কিন্তু ও এমনটা করেনি যা হয়েছে একটা এক্সিডেন্ট ছিলো সে রাতে।


আমি আগামীকাল যাব, আর মহারাজ ইয়ামিনের বিরুদ্ধে একটা নালিশ করব, সেই হাফেজের কাছে আমি আমার সাথে যা যা হয়েছে সব কিছুর অধিকার চাইবো, ঈশিতা তুই কি করতে চাচ্ছিস আমি এখনো বুঝতে পারছি না, তোর বুঝতে হবে না এখন রান্না করি চল । আমরা সেদিনের মতো রান্না করে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি , সেদিন রাতে আমার সাথে আর কিছু ঘটে না । 


পরের দিন আমি খুব সকাল সকাল উঠে বাস,ইস্টানে চলে আসি,তারপর এখান থেকে সোজা রওনা করি আমাদের গ্রামের উদ্দেশ্যে, আমাদের গ্রাম বরিশাল বিভাগে,আমি আমার দাদুকে একটা ফোন দেই আর বলি দাদু আমি আসতেছি তোমাদের বাড়িতে,দাদু আমার মুখে এই কথা শুনে অনেক অবাক হয় আমাকে বলে তুমি হঠাৎ করে আসতেছিস যে আর তোর বাবা মা 

তো কিছু জানালো না আমাদের।


আসলে দাদু আমি বাবা-মা কে না জানিয়ে আসতেছি, 

অনেকদিন তোমাদের দেখি না তাই আসতেছে আর কি, তুমি তো তোমার ছেলেকে চেনো সে কোনভাবেই একা একা আসতে দেবে না আমাকে কিন্তু এখন তো আমি অনেকটা বড় হয়েছি না,কি। তুমি কিন্তু বাবা আমাকে ম্যানেজ করে নিবে দাদু।


ঠিক আছে ঈশিতা তুই দেখেশুনে এসিস আমি তোকে আনার জন্য বাস ইস্টানে লোক পাঠিয়ে দিচ্ছি।

অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার মাই ডিয়ার দাদু।


২"ঘন্টা পর আমাদের বাসটি ঢাকার বুক চিরে গ্রামের পথ দিয়ে চলতে শুরু করলো, তার এক ঘণ্টার ভেতরেই বাস টি আমাদের গ্রামে পৌঁছিয়ে গেল। 


পাঁচ বছর পর আবার পারা দিলাম আমাদের এই গ্রামে। এই পাঁচ বছরে একবারও আর গ্রামে আশা হয়নি, বাবার চাকরি আর আমার পড়াশোনার জন্য চেষ্টা করার পরও আসতে পারিনি,কিন্তু আজকে আমি একাই আসতে বাধ্য হলাম শুধু তার জন্য। 


 

বাস থেকে নামতেই দেখতে পেলাম আমাদের গ্রামের খুব পরিচিত একজন ভ্যানওয়ালা চাচাকে দাদু পাঠিয়েছে। 

আমিও ভ্যানে চলে বসলাম ভ্যান চলছে আমাদের দাদা বাড়ির উদ্দেশ্যে, ২০ মিনিটের ভেতরেই ভ্যানটি আমার দাদার বাড়িতে পৌঁছায়। 


দাদুর দাদি চাচা চাচি সকলে আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়, পাঁচ বছর অনেক লম্বা একটা সময়,

দাদা বাড়িতে দুপুরে অনেক মজা করে খাওয়া দাওয়া করি সকলের সাথে। , আমার এই দাদা বাড়িতে সব থেকে কাছের বন্ধু হচ্ছে আমার চাচাতো বোন তানিয়া।


আমি তানিয়াকে সবকিছু খুলে বলি সেই জ্বিন রাজা ইয়ামিনের সম্পর্কে, আর তাকে অনুরোধ করি যেন আমাকে গ্রামের সবথেকে বড় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয়। 


আমার বোন তানিয়া একটি ছেলের সাথে প্রেম করতো 

তার বাড়িও এই গ্রামে, তার নাম রানা, রানা ভাইয়া আমাদেরকে বিকেল বেলা নিয়ে যায় এ গ্রামের সবথেকে বড় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করাতে, আমি আর তানিয়া চাচা চাচীকে বলি আমরা বাইরে ঘুরতে যাচ্ছি  


আমি মাদ্রাসার সামনে এসে দেখি এটা একটা অনেক বড় মাদ্রাসা, পুরো বরিশাল বিভাগের অনেক অনেক জেলায় আমাদের এই মাদ্রাসার নাম ছড়িয়ে আছে। 


মাদ্রাসার ভেতরে অপেক্ষা কক্ষে আমি আর তানিয়া অপেক্ষা করতে থাকি , আর ওইদিকে রানা ভাইয়া চলে যায় প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করতে। 

১০ মিনিট পর রানা ভাই আমাদের কাছে এসে বলে, 

চলো আমার সাথে দোতলায় যেতে হবে, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে, সে দেখা করার জন্য রাজি হয়েছে আমি বলেছি তুমি তার সাথে খুব দরকারি কিছু কথা বলতে চাও,।


আমি রানা ভাইয়াকে বলি সে এত অল্পতেই রাজি হয়ে গেল, রানা ভাই আমাকে বলে কেনো জানি,না তাকে যখন তোমার বিষয়ে বললাম সে বললো সে চলে এসেছে,ঠিক আছে নিয়ে আসো তাকে সে যেভাবে বলছিলো আমার মনে হচ্ছিল সে মনে হয় তোমাকে আগে থেকে চিনে এমনটাই মনে হচ্ছিল আমার।


আমি তানিয়া রানা ভাইয়া দোতালায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যাই,কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে আমি দেখতে পারি একটি বৃদ্ধ লোক, বয়স আনুমানিক ৬০ ৬৫ হবে, খুব লম্বা পাকা দাড়ি আর খুব সুন্দর একটি সাদা জুব্বা পড়া , কপালের মাঝখানে একটি কালো দাগ, মাথায় টুপি, আমরা সকলেই তাকে খুব লম্বা ভাবে সালাম দেই । 


সে আমাদের সালামের উত্তর নিয়ে হাসিমুখে বলে, রানা তুমি আর তানিয়া একটু বাইরে গিয়ে বসো দরজাটা, হালকা বিরিয়ে দিও, আমি ওর সাথে একান্ত ভাবে কিছু কথা বলতে চাই, রানা ভাইয়া আর তানিয়া হাফেজ সাহেবের কথা মত বাইরে গিয়ে বসলো। 


হাফেজ সাহেব আমাকে বললো মা ভয় পেয়ো না আমি যে তোমার দাদার বয়সি, তুমি আসো এখানটায় এই চেয়ারটায় বস।


আমি তার কথা মতো চেয়ারে গিয়ে বসি।


এরপর হাফেজ সাহেব আমাকে বলে আমি জানি তুমি কে আর কি কারনে এখানে এসেছো, আসলে ঈশিতা মা,আমার এই মাদ্রাসায় এখনো ৫০০,জ্বিনের সন্তানরা, মানুষ রূপে, পড়াশোনা করে,তাদের ভেতরেই একজন এসে আমাকে তোমার বিষয়ে সব কিছু বলেছে।


তুমি জ্বিনেদের রাজা ইয়ামিন জ্বিনের সম্পর্কে জানতে এসেছো তাই তো,।


আমি তাকে বলি না না আমি তার সম্পর্কে যথেষ্ট জানি, আমি আপনার কাছে আমার সাথে যা যা হয়েছে তার বিচার চাইতে এসেছি,আপনাকে সঠিক বিচার করতে হবে। 


কি হয়েছে তোমার সাথে আর কিসের বিচার চাইতে এসেছো আমাকে বল মা?


তারপর ______


Next______

 💕💕

Post a Comment

0 Comments