খালাতো বোন যখন পরী ( 8, 9, 10 )

খালাতো বোন যখন পরী

গল্প _খালাতো বোন যখন পরী

পর্ব (৮)

#লেখক_আরিয়ান_অভি


ঘরের ভেতরে সাদা দুইটি বাতি জ্বলছিল। অগণিত লাশ যারা কিনা আত্মহত্যা করে মারা গেছে, এক্সিডেন্টে মারা গেছে, তাদের লাশগুলো লাইন বাই লাইন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। টুকুদাশ আর আমি যখন দুম ঘরে ঢুকি, তখন আমরা দেখতে পাই লাশ কাটার স্থানে একজন ব্যক্তি টেবিলের ওপরে লাশ কাটাকাটি করছে। পরনে টুকুদাশের মতোই একটা সাদা লুঙ্গি আর একটা সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি। চাপাতি দিয়ে সে লাশের বুক কাটছিল।


টুকুদাশ এই দৃশ্য দেখে চেঁচিয়ে ওঠে আর তাকে বলে, "ক্যাডায়? ক্যাডায় ঐহানে? কে লাশ কাটে? আরে দেহি! এই, কোনতে আইছো?" এ কথা বলতে বলতে টুকুদাশ সেই ব্যক্তির পেছনে গিয়ে তার কাঁধে হাত রাখে। কাঁধে হাত রাখতেই সেই ব্যক্তি টুকুদাশের দিকে ঘুরে তাকায়। আমি ও টুকুদাশ দেখতে পাই সেই ব্যক্তির চেহারা হুবহু টুকুদাশের মতো, কিন্তু চোখের কোটরে কোনো চোখ নেই। মুখে একটা বিচ্ছিরি হাসি!


এই দৃশ্য দেখে সাহসী টুকুদাশ সেখানে জ্ঞান হারাতে বাধ্য হয়। আর ঠিক তখনই ঘরের বাতি দুইটি নিভে যায়। আমি সেই দুম ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য দরজা খোলার চেষ্টা করি, কিন্তু কোনোভাবেই দরজা খুলছিল না। মনে হচ্ছিল বাইরে থেকে দরজাটা কেউ লাগিয়ে দিয়েছে।


তখনই আবারও সেই ঘরের বাতি দুইটি জ্বলে ওঠে। আমি টুকুদাশকেও দেখতে পাচ্ছিলাম না আর তার রূপ ধরা সেই অলৌকিক লাশটাকেও দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমি অনুভব করতে পারছিলাম টেবিলে শোয়ানো সকল লাশগুলো থরথর করে কাঁপছে। আমি এই দৃশ্য দেখে অনেক ভয় পাচ্ছিলাম। কী করব বুঝতে পারচ্ছিলাম না। আমাকে যে ছয় নাম্বার তাবিজটা উদ্ধার করতে হবে! তাই আমি কাঁপা কাঁপা হাতে সকল লাশের কাছে এগিয়ে যাই।


ঠিক তখনই মৃত লাশগুলো এক এক করে উঠে বসে। তাদের প্রত্যেকের বুকের মাঝখান দিয়ে সেলাই করা, তাদেরকে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। তারা উঠে বসে কান্না করতে শুরু করে। সেই কান্নার শব্দে আমি যেন পাগল হয়ে যাব! এত ভয়ংকর একটা দৃশ্য, আমার মতে এমন দৃশ্য যেন কোনো মানুষ কখনো না দেখে। আমি কী করব এখন? এতগুলো লাশের মাঝখানে আমি সেই তাবিজটাকে কীভাবে খুঁজে পাব?


তখনই আমার খালামণির কথা আমার মনে পড়ে। সে বলেছিল, যদি আমরা এই তাবিজগুলো একসাথে না করতে পারি, তাহলে আমার বাবাকে আর কখনোই বাঁচাতে পারব না। বাবার সাথে কাটানো সেই মধুর স্মৃতিগুলো আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি আমার বুকের ভেতর থাকা সকল ভয় তখন দূর করে ফেলি। আমি সিদ্ধান্ত নিই, যে করেই হোক এই লাশগুলোর মাঝখান থেকে আমি সেই তাবিজটা উদ্ধার করবই করব। আমি এগিয়ে যাই সেই ভয়ংকর লাশগুলোর মাঝখানে।


লাশগুলো আমার কোনো ক্ষতি করছিল না, শুধু তারা কান্না করছিল। আমি এক এক করে প্রতিটি লাশের পিঠে চেক করতে থাকি। কয়েকটা লাশ চেক করার পর আমি দেখতে পাই একটি লাশের পিঠে সেই তাবিজটা, কালো সুতোয় বাঁধা সেই তাবিজটা! আমি সেই তাবিজটা আমার হাতে তুলে নিই। তারপর এগিয়ে যাই সেই দরজার দিকে।


তাবিজটা হাতে নিতেই যে লাশগুলো এতক্ষণ বসে ছিল, সেই লাশগুলো এক এক করে দাঁড়িয়ে আমার দিকেই এগিয়ে আসতে শুরু করে। আমি দরজার কাছে এসে আবারও সেই দরজা খোলার চেষ্টা করি, কিন্তু কোনোভাবেই সেই দরজাটা আমি খুলতে পারছিলাম না। তখনই আস্তে আস্তে সকল লাশ আমাকে ধরার জন্য আমার দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করে।


উপায় না পেয়ে আমি তখন চোখ বন্ধ করে দুই হাত কানে চেপে আযান দিতে শুরু করি। আযানের শব্দে সকল লাশগুলো আবারও সেই টেবিলে গিয়ে শুয়ে পড়ে আর সেই দরজাটা নিজে থেকেই খুলে যায়। পবিত্র মহান আল্লাহ তাআলা আজকে আমাকে সাহায্য করেছে। আমি আর দেরি না করে সেই ঘর থেকে বের হয়ে আসি।


বের হয়ে এসে আমি দারোয়ানের কাছে ছুটে যাই আর তাকে বলি, "আমার চাচা টুকুদাশ অজ্ঞান হয়ে সেই ঘরে পড়ে আছে, আমাকে সাহায্য করুন।" দারোয়ান আমার সাথে আবারও সেই ঘরে আসে, কিন্তু এখন সকল পরিবেশ একেবারে শান্ত হয়ে গেছে। আমি আর দারোয়ান মিলে টুকুদাশকে সেই ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসি। তারপর তাকে নিয়ে তার বাড়িতে চলে যাই।


তার জ্ঞান ফিরে আসে। আমি তার হাতে আরও ১০,০০০ টাকা তুলে দিই আর তাকে বলি, "এই কাজের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি ভালো কোনো কবিরাজ দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক করে নেবেন, কেননা গতকাল রাতে আপনি অনেক বেশি ভয় পেয়েছেন।"


কথাটা বলে আমি আবারও দিনাজপুরে আমার খালামণির বাড়িতে ফিরে আসি। খালামণি আমার হাতে ছয় নাম্বার তাবিজটা দেখে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করে আর আমাকে বলে, "আমি এইখানে বসে ধ্যানে সবকিছু দেখতে পাচ্ছিলাম, কীভাবে তোকে সেই মৃত লাশগুলো ঘিরে ধরেছিল।


আমি তো ভেবেছিলাম তোকে তারা মেরে ফেলবে। কিন্তু সঠিক সময়ে তুই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিস। তুই যদি আযান না দিতিস, তাহলে সেই লাশগুলো তোকে মেরে ফেলত। উপরওয়ালা তোকে সাহায্য করেছে। দে, ওই তাবিজটা আমার হাতে দে।"


আমি ছয় নাম্বার তাবিজটা খালামণির হাতে তুলে দিই। খালামণি বলে, "আর মাত্র একটা দিনই বাকি আছে। আজকে রাতেই তোকে সাত নাম্বার তাবিজটা উদ্ধার করতেই হবে সেই তান্ত্রিকের কাছ থেকে।"


আমি খালামণিকে বলি, "কিন্তু খালামণি, সেই তান্ত্রিক একা না। তার কাছে তো তার পোষা অনেক জ্বীন থাকবে। তারা কি আমাকে সেই তাবিজটা উদ্ধার করতে দেবে?"


খালামণি তখন আমাকে বলে, "তোর কাছেও তো তোর খালাতো বোন অহনা পরী আছে। অহনা পরী তোর সাথে যাবে। সে জ্বীনগুলোর সাথে যুদ্ধ করে হলেও তোকে সাহায্য করবে।"ল


আমি তখন আমার খালামণিকে বলি, "কিন্তু খালামণি, অহনা পরীকে যদি সেই জ্বীনগুলো আঘাত করে? সে যদি এই কাজ করতে গিয়ে সেই জ্বীনগুলোর সাথে না পারে? কেননা সে একা আর সেই জ্বীনগুলো অনেক।"


খালামণি তখন আমাকে বলে, "আমি তো এটাই চাই, তারা আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলুক।"

আমি খালামণির মুখে এই কথা শুনে খুব বেশি অবাক হই আর তাকে বলি, "কী বলছ? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তোমার মেয়ের গায়ে সেই জ্বীনগুলো আঘাত করবে আর তুমি এটাই চাও?"


খালামণি তখন আমাকে বলে, "তুই বুঝবি না আমি কেন এই কথা বলছি, কিন্তু পরে ঠিকই বুঝতে পারবি। এখন তুই প্রস্তুত হয়ে নে, কেননা রাতেই তোকে যেতে হবে সেই তান্ত্রিকের বাসায়।"


দেখতে দেখতে চারিপাশে বিকেল গড়িয়ে রাত নেমে আসে। রাতের খাওয়া-দাওয়া করার সময় মা আমার হাত ধরে আমাকে বলে, "আমি ভাগ্য করে তোর মতো একটা ছেলে পেয়েছি, যে কিনা তার বাবাকে বাঁচাতে সবকিছু করছে।


আমি আমার মাকে বলি, "মা, বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসে আর তার কারণেই তো আমি এই পৃথিবীতে আসতে পেরেছি। তোমাদেরকে রক্ষা করতে গিয়ে যদি আমার মৃত্যুও হয়, তাহলেও সেই মৃত্যুটাকে আমি হাসিমুখে গ্রহণ করব। তুমি চিন্তা করো না মা, যেহেতু আমরা ছয়টি তাবিজ উদ্ধার করতে পেরেছি, তাহলে শেষের তাবিজটা অবশ্যই আমি আর আমার খালাতো বোন উদ্ধার করবই করব।"


মধ্যরাতে আমার খালা তার মেয়েকে নিয়ে আমার ঘরে আসে আর আমাকে বলে, "অভি, সময় হয়ে এসেছে। তোর খালাতো বোন এখন তোকে নিয়ে সেই তান্ত্রিকের বাড়িতে যাবে। অহনা মা আমার, আমি জানি এই কাজটি কত বিপজ্জনক। সেই তান্ত্রিক অনেক শক্তিশালী আর তার সাথে অনেক জ্বীন আছে, তারা তোমাদের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু আমার এটা বিশ্বাস, তুমি তোমার জীবন বাজি রেখে হলেও সেই তাবিজটা উদ্ধার করবে।"


অহনা পরী তখন তার মাকে বলে, "মা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি আমাকে এই কাজটা করতে বলেছ, আমি অবশ্যই এই কাজ করব। এই কাজে যতই বিপদ থাকুক না কেন, আমি এই কাজটা অবশ্যই করব। তুমি চিন্তা করো না, আমি আর অভি ভাইয়া সেই সাত নাম্বার তাবিজটা উদ্ধার করবই করব।"

কথাটা বলে অহনা পরী তার হাত দুইটি আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়।

গল্প_খালাতো বোন যখন পরী

পর্ব (৯)

#লেখক_আরিয়ান_অভি

সকল পাঠকদের জানাচ্ছি যে আমার এই পেজটি বিক্রি করে দিয়েছি অন্য ব্যক্তির কাছে

খুব তাড়াতাড়ি সে এই পেজটি চালাবে

তাই যারা আমার লেখা গল্প পড়তে পছন্দ করেন

তারা এখনই আমার নতুন পেজটাকে ফলো দিয়ে রাখুন সেই পেজে এই গল্প আসবে এখানে আর আসবে না এটা আমার নতুন পেজের লিংক এখানে টাচ করেন👇

লেখক রোমান্টিক =আরিয়ান অভি

ধন্যবাদ ❤️


অহনা পরী তার হাত দুইটি আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। আর আমাকে বলে, "অভি ভাইয়া, চলো তাহলে।" আমি অহনা পরীর হাত দুইটি ধরে ফেলি।


তারপর চোখ বন্ধ করে ফেলি। কয়েক মিনিট পর চোখ খুলতেই আমি দেখতে পাই আমরা এখন একটা গভীর জঙ্গলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমি অহনা পরীকে বলি, "আমরা এখানে কেন এসেছি?


অহনা পরী বলে, "এইতো, আরেকটু সামনেই সেই তান্ত্রিকের বাড়ি। তান্ত্রিক এই গহীন জঙ্গলেই তার তন্ত্র সাধনা করে। তার কাছে ভয়ঙ্কর কিছু জ্বিন আছে যাদের মাধ্যমে সে অন্যান্য মানুষদের ক্ষতি করে; কালো জাদু করে, বান মারে, তাদের জীবন কেড়ে নেয়। আজকে আমরা সেই তান্ত্রিকের সাথেই যুদ্ধ করবো।"


আমি অহনা পরীকে তখন বলি, "দেখো, তুমি আমার খালাতো বোন। তুমি এই কাজে আঘাত পেলে আমি খুব কষ্ট পাবো। তাই এখন আমি চাচ্ছি তুমি এখান থেকে চলে যাও। আমি একাই সেই তান্ত্রিকের সাথে যুদ্ধ করবো।"


আমার মুখে এই কথা শুনে অহনা তখন আমাকে বলে, "আমি জানি ভাইয়া, তুমি পারবে সেই তান্ত্রিকের সাথে। কিন্তু অভি ভাইয়া, তুমি সেই জ্বিনগুলোর সাথে কোনোভাবেই পারবে না। কেননা তারা খুবই শক্তিশালী। আর এই কারণেই আমার সাহায্য তোমার প্রয়োজন। আর তাছাড়া তোমার বাবা আমার খালুজান, তাকে বাঁচানো আমার দায়িত্ব। আমি এখন পিছনে সরে আসতে পারবো না। চলো ভাইয়া, যা হবে দেখা যাবে। একসাথে আমরা দুজন মোকাবেলা করবো।"


অহনা পরীকে আমি বোঝাতে পারি না কেন আমি তাকে বাধা দিচ্ছি। কেননা আমি তাকে এখন অনেক ভালোবাসি। আমি চাইবো না তার কোনো ক্ষতি হোক। কিন্তু অহনা পরী সে তো আমাকে সাহায্য করবেই করবে। সে নাছোড়বান্দা। একে তো তার মায়ের আদেশ, দ্বিতীয় কারণ আমার বাবা তার খালুজান—তাই সে এই কাজটি করতে চাচ্ছি।


আমি উপায় না পেয়ে অহনা পরীর সাথেই সেই তান্ত্রিকের বাড়ির কাছে যাই। তান্ত্রিক তার ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। তার উঠোনে দাঁড়িয়ে আমি চিৎকার করে বলি, "হে ভয়ঙ্কর তান্ত্রিক! অনেক মানুষদের ক্ষতি করেছিস, অনেক মানুষকে হত্যা করেছিস, বের হয়ে আয়!


আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন। হয়তো তোর হাতে আমি মৃত্যুবরণ করবো, নয়তো আমার হাতে তুই মৃত্যুবরণ করবি। বের হয়ে আয়!"

কথাটা শুনতেই তান্ত্রিক তার ঘর থেকে বের হয়ে আসে। আমি দেখতে পাই তার পরনে লাল একটা ধুতি আর সাদা একটা সেন্টু গেঞ্জি। হাতে অনেকগুলো তাবিজ, আর গলায় ঝুলছে সেই সাত নাম্বার তাবিজটা—কালো সুতায় বাঁধা। যেই তাবিজটা উদ্ধার করতেই আজকে আমি এইখানে।


তান্ত্রিক আমাকে দেখে হাসতে হাসতে আমাকে বলে, "আমি জানি তুই কে, আর কেন এখানে এসেছিস। এটাও জানি তুই যে আমার লুকানো সেই ছয়টি তাবিজ উদ্ধার করেছিস। আর এখানে এসেছিস এখন শেষের তাবিজ—আমার গলায় থাকা এই সাত নাম্বার তাবিজটা উদ্ধার করতে। তবে তুই তোর মৃত্যুকে খুঁজতে খুঁজতেই এখানে চলে এসেছিস। তুই কি ভেবেছিস? তোর সাথে থাকা তোর খালাতো বোন অহনা পরী আমাকে আটকাতে পারবে? আমি এতটা দুর্বল না। দেখবি আমার সাথে কে কে আছে?"


কথাটা বলেই তান্ত্রিক বিলবিল করে একনাগাড়ে কিছু মন্ত্র পড়তে শুরু করে। আর মিনিটেই তার পেছনে এসে দাঁড়ায় ভয়ঙ্কর ১০টি জ্বিন। তাদের চেহারাগুলো খুবই ভয়ঙ্কর ছিল। তাদের আকৃতি অনেক বিশাল, আর তাদের শরীর পাহাড়ের মতো ছিল।


আমি বুঝতে পারি এই ১০টি জ্বিনের সাথে কোনোভাবেই আমার খালাতো বোন অহনা পরী পেরে উঠবে না। আমি আবারো অহনা পরীকে বলি, "তুমি এখান থেকে চলে যাও। দেখতেই তো পারছ তান্ত্রিক তার কাছে কি ভয়ঙ্কর জ্বিনদের পুষে রেখেছে। তারা তোমাকে হত্যা করতে পারে।"


ঠিক তখনই অহনা পরী একটা হাসি দিয়ে বলে, "আমার জন্য আমার মায়ের আদেশ সবার উপরে। আর আজকে যদি আমার মৃত্যু হয়, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। তুমি এসেছ তোমার বাবাকে বাঁচাতে, আর আমি এসেছি আমার মায়ের কথা রাখতে। চলো, সামনে আগাও।"


অহনা পরীর কথা শুনে আমি সেই তান্ত্রিকের দিকে এগিয়ে যাই। তান্ত্রিক তখন তার পেছনে থাকা সেই জ্বিনগুলোকে আদেশ করে, "যাও, এই ছেলেটাকে আমার চোখের সামনে হত্যা করো।"


আদেশ পাওয়ার সাথে সাথেই সেই জ্বিনগুলোর মধ্যে দুইটি জ্বিন আমার দিকে এগিয়ে আসে। আর এটা দেখে অহনা পরী তাদেরকে আটকানোর জন্য এগিয়ে যায়। কিন্তু তারা ছিল খুবই শক্তিশালী। তাদের মাঝে একজন অহনা পরীকে ধরে দূরে ছিটকে মারে। অহনা পরী দূরে একটা মোটা গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তার ঠোঁট ফেটে রক্ত পড়তে শুরু করে। এক ফোঁটা রক্ত যখন মাটিতে পড়ে তখনই আকাশে থাকা পূর্ণিমার চাঁদের আলোটা কালো মেঘে ঢেকে যায়।


হঠাৎ করেই চারিপাশে ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। এই বাতাস দেখে সেই দুইটি জ্বিন আবারো তান্ত্রিকের পেছনে লুকিয়ে পড়ে। সেই তান্ত্রিক তখন তার পোষা জ্বিনদের কাছে জানতে চায়, "তোমরা এভাবে ভয় পাচ্ছ কেন?"


তখন সেই জ্বিনগুলো বলে, "এটা কোনো সাধারণ ঝড়ো বাতাস না। অনেক শক্তিশালী কোনো জ্বিনের আহ্বান ঘটছে। আমরা তোমাকে বাঁচাতে পারবো না। এখন আমাদের নিজের জানকে নিয়েই টানাটানি পড়ে গেছে। সাথীরা, পালাও এখান থেকে! নয়তো সেই শক্তিশালী জ্বিন আমাদেরকে হত্যা করবে।"


কথাটা বলে সেই ১০টি জ্বিন অন্ধকারে পালাতে শুরু করে। তান্ত্রিক বুঝতেই পারছিল না তার জ্বিনগুলো কাকে দেখে ভয় পাচ্ছে। সেই ১০টি জ্বিন যখন বেশ কিছুটা দূরে চলে যায়, তখনই তাদের আর্তচিৎকার ভেসে আসে। কেউ বা কারা তাদেরকে ধরে ফেলেছে এবং এক এক করে তাদেরকে হত্যা করছে। তাদের সেই মৃত্যু চিৎকার আমি, অহনা পরী আর তান্ত্রিক শুনতে পাচ্ছিলাম। তান্ত্রিকও তখন ভয়ে কাঁপতে শুরু করে।


আমি তখন দেখতে পাই তান্ত্রিকের বাড়ির চারিপাশে অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসে সাদা পোশাকধারী কিছু অবয়ব। অবয়বগুলো দেখেই আমি বুঝতে পারি এরা কোনো মানুষ না। তাদের আকৃতি অনেক বিশাল ছিল। তাদের পরনে সাদা পোশাক, মাথায় পাগড়ি, আর হাতে একটি করে তলোয়ারি। তারা সবাই তান্ত্রিকের বাড়িটা ঘিরে ফেলে আর আস্তে আস্তে তান্ত্রিকের কাছে চলে আসে।


তান্ত্রিক এত শক্তিশালী জ্বিনের একটা বহরকে দেখে অনেক বেশি ভয় পেয়ে যায় এবং তাদের কাছে নিজের জান ভিক্ষা চাইতে শুরু করে। সে দুই হাত জোড় করে অনুরোধ করছিল, "আমাকে মাফ করে দাও। আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। আমাকে প্রাণে মেরো না।"


সেই জ্বিনগুলো তখন তান্ত্রিককে বলে, "এক কাজ করো। তোমার গলার সেই তাবিজটা খুলে এখনই সেই ছেলেটার হাতে তুলে দাও। আর যাকে তুমি আঘাত করেছ, সেই অহনা পরীর কাছে ক্ষমা চাও। আর তোমার বিচার আমরা করবো না, তোমার বিচার আমাদের মহারাজ করবে। তুমি জানো না তোমার জ্বিনগুলো কাকে আঘাত করেছে। যাও, এখনই যেটা বলছি সেটা করো।"


সেই তান্ত্রিক তখন তার জীবন বাঁচানোর জন্য গলা থেকে সেই সাত নাম্বার তাবিজটা খুলে আমার কাছে চলে আসে। তাবিজটা আমার হাতে দিয়ে দুই হাত জোড় করে আমার কাছে ক্ষমা চায়। তারপর সে অহনা পরীর কাছে তার পায়ে ধরে মাফ চায়।

অহনা পরী তাকে বলে, "দেখো, আমার বাবা তোমাকে ক্ষমা করে কিনা।"


এটা বলে অহনা পরী আমার কাছে এসে আমাকে বলে, "চলো, আমাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমাদেরকে যেতে হবে।"


সেই শক্তিশালী জ্বিনগুলো তান্ত্রিককে তার বাড়ি থেকে উঠিয়ে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে যায়। আমি অহনা পরীকে বলি, "তান্ত্রিককে তারা কোথায় নিয়ে গেল?"

অহনা পরী তখন বলে, "তান্ত্রিককে আমার বাবার কাছে নিয়ে গেছে, সেই তার বিচার করবে। আসো, এখন আমাদেরকে যেতে হবে।"


অহনা পরী তার শক্তি ব্যবহার করে আমাকে আবারো আমার খালামণির বাড়িতে নিয়ে আসে। খালামণির হাতে সাত নাম্বার তাবিজটা তুলে দিতেই খালামণি সকল তাবিজগুলো একসাথে করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে।


সাথে সাথে আমার বাবা ঘুম থেকে জেগে ওঠে। তার মাথার পাকা সাদা চুলগুলো আবারো ঘন কালো হয়ে যায়।


তারপর____গল্প_খালাতো বোন যখন পরী

পর্ব (১০)

#লেখক_আরিয়ান_অভি

রানিং এই ২টা গল্প শেষ হলে এই পেজে আর

নতুন গল্প আসবে না পেজ টা বিক্রি হয়ে গেছে

যারা আমার লেখা গল্প পড়তে পছন্দ করেন এখনই আমার নতুন পেজে ফলো দিয়ে আসুন

এখানে নতুন গল্প চলছে আর এখন থেকে সেই পেজেই গল্প আসবে।

এটা আমার নতুন পেজ এই খানে টাচ করুন

লেখক রোমান্টিক =আরিয়ান অভি

চলুন এবার গল্প ফিরা যাক।


আমার মা খালামণিকে ধরে কান্না করতে শুরু করে

বোন আজকে তোর জন্যই আমার স্বামী প্রাণে বেঁচে গেল ।


আমার খালামণি তখন আমার মাকে বলে আমি কিছুই করিনি যা করেছে তোর ছেলে আর আমার মেয়ে করেছে তারা না থাকলে কিছুই হতো না ।


আমার মা তখন আমার খালাতো বোনকে ধরে কান্না করতে করতে তার কপালে একটা চুমু খেয়ে বলে, তুমি অনেকদিন বেঁচে থাকো মা, আমি মন থেকে দোয়া করব। অহনাতো পরি তখন তার মাকে বলে, তাহলে মা এখন আমি আসি, আর কিছুক্ষণ পরেই তো আজান দিয়ে দেবে। কথাটা বলে অহনাতো পরি ঘর থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়, তাদের জগতে চলে যায়।


আমি আমার খালামনিকে সবকিছু বলি, সেই তান্ত্রিকের বাসায় যা যা ঘটেছে। আমার খালা তখন আমাকে বলে, এখন তো বুঝতে পারছিস, তখন আমি কেন বলেছিলাম? হ্যাঁ, আমি চাই সেই তান্ত্রিকের সাথে থাকা জিনগুলো আমার মেয়েকে আঘাত করুক।


কেননা আমি জানতাম, অহনাতোর শরীরে আঘাত পড়ার সাথে সাথেই তার বাবা টের পেয়ে যাবে। আর তার বাবা মানে তোর খালু কোন সাধারণ জিন না, সে একটা জিনেদের সম্রাট। তার কাছে আছে ৫০,০০০ জিনের একটা বিশাল বহর। সে যখন টের পায় তার মেয়ের গায়ে হাত তোলা হয়েছে, তখন সে তার সাথী শক্তিশালী জিনের একটা বহরকে তার মেয়েকে উদ্ধার করতে পাঠিয়ে দেয়। আর তাদেরকেই তুই দেখতে পেয়েছিলি। এখন যা তোর ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।


আমি আমার ঘরে ফিরে আসি, আর কিছুক্ষণ পরেই ফজরের আজান দেবে। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে অহনাতো পরির কথা ভাবছিলাম, কেননা আর কিছুক্ষণ পরেই তো আমি চলে যাব, বাবা সুস্থ হয়ে গেছে, এখন বাবা আমাদেরকে নিয়ে ঢাকায় চলে যাবে। আমি হয়তোবা অহনাতো পরিকে আর কখনোই দেখতে পাবো না। ঠিক তখনই আমার বারান্দায় এসে আমার পেছনে দৃশ্যমান হয় আমার খালাতো বোন অহনাতো পরি।


আমি ঘুরে তাকিয়ে তাকে দেখতে পেয়ে তাকে বলি, তুমি যাওনি এখনো? তখন যে খালামনিকে বললে তুমি তোমার জগতে চলে যাচ্ছো? অহনাতো পরি তখন বলে, হ্যাঁ চলেই তো যাচ্ছিলাম কিন্তু তখনই মনে পড়ল সকাল হতেই তুমি আবারও ঢাকায় চলে যাবে, তাই তোমার সাথে শেষ বিদায় নেওয়ার জন্যই আবারও ফিরে এলাম।


আমি অহনাতো পরিকে বলি, এভাবে বলো না, শেষ বিদায়ের কথাটা শুনতেই আমার খুব কষ্ট লাগছে। অহনাতো পরি তখন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, আচ্ছা অভি ভাইয়া, তুমি ঢাকায় গিয়ে আমাকে ভুলে যাবে তাই না? আমি অহনাতো পরিকে বলি, কখনোই সম্ভব না, আমি চাইলেও এই মায়া ভরা মুখটা কখনোই ভুলতে পারব না। আর সেই মিষ্টি হাসি, তুমি জানো অহনাতো, যখন তুমি হাসো, তখন তোমার গোলাপি রঙের ঠোঁটের নিচে সেই ছোট্ট কালো তিলটা কত যে সুন্দর লাগে! আমাকে প্রতিবারই মুগ্ধ করে তোমার ওই হাসি।


অহনাতো আমার কথা শুনে অনেক বেশি লজ্জা পায়। আর সে তার শক্তির মাধ্যমে একটা খুব সুন্দর ময়ূরের পাখা আমাকে উপহার দেয়। আর আমাকে বলে, এই পাখাটা তুমি তোমার কাছে রাখো ভাইয়া, যখনই তুমি এই পাখাটাকে তোমার বুকের কাছে নিয়ে আমাকে স্মরণ করবে, যতদূরেই থাকি না কেন, আমি তোমার কাছে ছুটে আসব। তুমি ভালো থেকো, এখন আমাকে যেতেই হবে ভাইয়া, আর কিছুক্ষণ পরেই তো আজান দিয়ে দেবে। কথাটা বলেই অহনাতো পরি আমার চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। সে চলে যেতেই চারিপাশে ফজরের আজান দিতে শুরু করে। নামাজ পড়ে আমি কিছুটা ঘুমিয়ে নেই।


সকাল দশটার সময় আমার খালামনি আমাকে ডাকতে আসে আর বলে, আয় অভি, সবাই মিলে আজকে একসাথে নাস্তা করব। আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি, তারপর খালামনি, আমার বাবা, আমার মা, সবাই মিলে খাবার টেবিলে নাস্তা করি। নাস্তা করার পর বাবা-মা খালামনির কাছে বিদায় নেয়, আর বলে, এখন আমাদেরকে যেতে হবে বোন। কিন্তু তোকে কথা দিচ্ছি, আজকের পর থেকে তোর সাথে আমরা সবসময় যোগাযোগ করব, আর পড়ার সময় তোর বাড়িতে আসা-যাওয়া করব। আর হ্যাঁ, তোকেও কিন্তু ঢাকায় আমার বাড়িতে আসতে হবে। খালামনি আর বাবা-মায়ের মাঝে সেই এতোদিনের পুরনো সম্পর্ক এক হতে দেখে আমারও অনেক ভালো লাগছিল।


খালামনি আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার কপালে একটা চুমু খেয়ে আমাকে বলে, অভি, তুই ভালো থাকিস বাবা। তোর ওপরে আমি অনেক খুশি হয়েছি, কেননা তোর মতো সাহসী ছেলে খুব কম দেখা যায়। সম্ভব হলে খালামনিকে মনে রাখিস। আমি খালামনিকে বলি, মনে রাখিস মানে? আমি আগামী মাসে আবারও আসব এখানে, তোমার কাছে বেড়াতে। খালামনি আমাকে বলে, আমি তো তোর ছোট মা, আমার বাড়ির দরজা তোর জন্য সবসময় খোলা। আমরা সবাই খালামনির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে আবারও ঢাকায় ফিরে আসি


ঢাকায় ফিরতেই আমার বাবা তার বন্ধু ইন্তেহাজকে একটা ফোন দেয়। ইন্তেহাজ আঙ্কেল ফোনটা ধরতেই যখন আমার বাবার কণ্ঠ শুনতে পায়, সে অনেক বেশি অবাক হয়। কেননা সে তো ধরেই নিয়েছিল, আমার বাবা কালো জাদুর মাধ্যমে মারা যাবে। আমার বাবা আঙ্কেলকে এতটুকুই বলে, ইন্তেহাজ, তোকে আমি আমার ভাইয়ের মতো ভেবেছিলাম, কিন্তু তুই এমনটা করবি আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আজকের পর থেকে আমার সাথে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখবি না, এখন থেকে তোকে আমি চিনি না আর তুই আমাকে চিনিস না। এটা বলে বাবা ফোনটা রেখে দেয়। আমি আমার বাবাকে বলি, তুমি একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছো বাবা।


সেদিন রাতে আমি আমার বাড়িতে আমার ঘরে বসে ছিলাম। বাবা-মা তার ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। আমার ভালো লাগছিল না, বারবার আমার খালাতো বোন অহনাতো পরির কথা খুব বেশি মনে পড়ছিল। আর এই কারণে আমি গভীর রাতে আমার বাড়ির ছাদে উঠে পড়ি। ছাদের একটি অন্ধকার স্থানে গিয়ে সেই ময়ূরের পাখাটা বের করি, যেই জাদুর পাখাটা আমাকে অহনাতো পরি উপহার দিয়েছিল।


জাদুর পাখাটা আমি আমার বুকে স্পর্শ করে চোখ বন্ধ করে বারবার অহনাতো পরিকে স্মরণ করি। কিন্তু দুই থেকে তিন মিনিট পার হয়ে যাওয়ার পরেও অহনাতো পরির দেখা আমি পাই না। আর এটা দেখে আমার মনটা খারাপ হয়ে যায়। মনে মনে ভাবি, হয়তোবা অহনাতো পরি আমার সাথে মিথ্যে কথা বলেছে।


এটা ভেবে আমি যখন ছাদ থেকে আবারও নিচে নেমে আসব, ঠিক তখনই পেছন থেকে আমার হাত ধরে বসে কেউ একজন। ঘুরে তাকিয়ে দেখি অহনাতো পরি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সে আমাকে বলছে, অভি ভাইয়া রাগ করলে? মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছিলাম, আর এমন সময়ে তুমি আমাকে স্মরণ করছিলে। তুমি তো জানো, তোমার খালামনি কতটা চালাক! তার চোখ ফাঁকি দিয়ে আসাটা কি এতটা সহজ? কোনোভাবে তার চোখ ফাঁকি দিয়ে তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি, আর এটা করতে গিয়েই তো কিছুটা সময় দেরি হয়ে গেছে।

আমি অহনাতো পরিকে বলি, ও আচ্ছা। কিন্তু আমি তো ভেবেছিলাম, তুমি বোধহয় আমার সাথে দেখা করতে আসবে না আর কখনোই। হয়তোবা আমাকে মিথ্যে বলেছিলে।


অহনাতো পরি বলে, মিথ্যে কথা মানুষেরা বলতে পারে, পরিরা জিনের কখনোই মিথ্যে কথা বলে না। আমি আর অহনাতো পরি ছাদের সেই অন্ধকার স্থানে দাঁড়িয়ে গল্প করতে শুরু করি। অহনাতো পরি আমার কাছে জানতে চায়, আমার বাবা এখন কেমন আছে। আমি তাকে বলি, তারা এখন অনেক ভালো আছে। আসো, তাদের সাথে দেখা করে যাও।


অহনাতো পরি তখন বলে, না না, এখন যদি খালামনি আর খালুজানের সাথে দেখা করি, তাহলে তারা মাকে বলে দেবে। আর মা যদি জানতে পারে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি, তাহলে আমার খবর আছে। তাই চাইলেও এখন আমি খালামনি আর খালুজানের সাথে দেখা করতে পারব না। তবে অন্য আরেকদিন মায়ের সাথে এসে তাদের সাথে অবশ্যই দেখা করব।


এভাবেই আরও বেশ কিছুক্ষণ আমি আর অহনাতো পরি গল্প করি। আমি অহনাতো পরিকে বলি, একটা অনুরোধ করতে পারি? অহনাতো পরি বলে, হ্যাঁ, তুমি আমার খালাতো ভাই, একটা অনুরোধ তো করতেই পারো। আমি অহনাতো পরিকে বলি, তুমি আমাকে ভাইয়া বলবে না, তুমি আমাকে শুধু আমার নাম ধরে রাখবে। পারবে তো?


অহনাতো পরি আমাকে বলে, কিন্তু তুমি আমার থেকে বড়, তাছাড়াও আমার খালাতো ভাই। আমি তোমার নাম ধরে ডাকব, এটা কি ভালো দেখায়? আমি অহনাতো পরির চোখের দিকে তাকিয়ে তখন বলি, সবার মুখে ভাইয়া ডাক শুনতে ভালো লাগে না। জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে, যাদের মুখে নিজের নামটা শুনতে পারলে বুকের ভেতরে একটা শান্তি কাজ করে। আর তুমি আমার জীবনে ঠিক তেমন একজন ব্যক্তি। আমার মুখে এই কথা শুনে অহনাতো পরি কিছুটা হলেও বুঝতে পারে, আমি যে তাকে পছন্দ করি।


তারপর ______


Next _____

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ