গল্প: খালাতো বোন যখন পরী
প্রথম পর্ব
#লেখক_আরিয়ান_অভি
আমি অভি। অভি চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছি। আমাদের অনেক টাকা পয়সা আছে। আমার বাবার এই ঢাকা শহরে বেশ কিছু ব্যবসা আছে। ভালোই কাটছিল আমাদের হাসি-خুশি পরিবারটা। আমি আমার বাবা-মার একমাত্র ছেলে। তারা আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে।
একদিন রাতে আমি আমার ঘরে ঘুমিয়েছিলাম। মধ্যরাতে বাবা-মার চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙে যায়। চাচামিচিতে আমি ঘরের বাইরে এসে দেখতে পাই বাবা পাগলামি করছে এই গভীর রাতে দরজা খুলে বাইরে চলে যাবে তাই। মা বাবার হাত দুইটি টেনে তাকে বাধা দিচ্ছিল ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে।
আমি বাবার কাছে গিয়ে জানতে চাই কি ব্যাপার বাবা দরজা খুলে বাইরে যাবে মানে এখন গভীর রাত কি এমন কাজ পড়ে গেল। বাবা আমার কথা শুনে আমার দিকে ঘুরে তাকায়। আমি তাকে দেখে দুপা পিছনে সরে আসি।
কেননা আমার বাবার চোখ দুইটি এখন ভয়ঙ্করভাবে লাল হয়েছিল। মুখটা কালছে হয়ে গেছে। বাবা একটা ভয়ঙ্কর মোটা কণ্ঠে আমাকে বলে কোথায় যাচ্ছি জানতে চাস মরতে যাচ্ছি যাবি আয় আয় আমার সাথে। বাবার এমন আচরণ দেখে আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই। মা আমাকে তখন বলে অভি তোর বাবাকে ধর তোর বাবার উপরে ভয়ঙ্কর কিছু ভর করেছে। তাকে কোনোভাবেই ঘরের বাইরে যেতে দেয়া যাবে না। তাহলেই উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলেবে।
মায়ের কথা শুনে আমি বাবার আরেকটি হাত ধরে ফেলি। বাবার সাথে আমি আর মা কোনোভাবেই পারছিলাম না। যেন তার ভেতরে অনেক শক্তি চলে এসেছে। এভাবেই ধস্তাধস্তি করতে করতে চারিপাশে ফজরের আজান দিয়ে দেয়। বাবার কানে আজানের শব্দ পড়তেই বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমি আর মা অনেক কষ্ট করে বাবাকে ধরাধরি করে ঘরে নিয়ে আসি।
সকাল হয়ে যায়। বাবার চোখ মুখে আমরা পানি ছিটা দেই। কিন্তু কোনোভাবেই বাবার জ্ঞান ফিরে আসছিল না। এটা দেখে আমরা আমাদের পরিচিত ডক্টর আঙ্কেলকে ফোন দেই। ডক্টর আঙ্কেল বাড়িতে আসে। তারপর আমার বাবাকে চেকআপ করতে শুরু করে।
সে কিছুক্ষণ চেকআপ করে আমাকে অবাক হয়ে জানায় তোমরা এখনই তাকে আমার সাথে মেডিকেলে নিয়ে আসো। তারপর দেখি আমরা আরো কিছু করতে পারি কিনা। ডক্টর আঙ্কেলের কথামতো আমরা বাবাকে নিয়ে তখনই মেডিকেলে এডমিট করাই। কিন্তু অনেক ডক্টর মিলিয়েও বাবার ঘুম ভাঙাতে পারছিল না। সবাই হার মেনে দেয়। আর আমাদেরকে জানায় সে কোমাতে চলে গেছে। সে যতদিন না জেগে উঠছে ততদিন মেডিকেলেই রাখতে হবে। এভাবেই এক সপ্তাহ পার হয়ে যায়।
কিন্তু বাবার ঘুম কোনভাবেই ভাঙে না। আমার মাকে আর আমাকে ডক্টর আঙ্কেল তার চেম্বারে ডাকে। সে আমাদেরকে বলে দেখো আমাদের ডক্টরি ভাষায় আমরা যতটুকু পারতাম সবকিছু করেছি। কিন্তু কোনভাবেই তো ভাইজানকে এই কোমা থেকে বের করতে পারছি না। আমার মনে হচ্ছে বিষয়টা অন্য কিছু। আমাকে তোমরা শুরু থেকে বলতো কিভাবে ভাইজান অজ্ঞান হয়ে গেল।
তখন আমি আর মা সে রাতের কথা ডক্টর আঙ্কেলকে খুলে বলি। সবটা শুনে ডক্টর আঙ্কেল আমাদেরকে বলে এই পৃথিবীতে অলৌকিক অনেক কিছুই আছে। আমার মনে হয় রায়হান সাহেবের উপরে ভয়ঙ্কর কিছু ভর করেছে। দেখো অভি তোমাদের তো টাকা পয়সার অভাব নেই। তাই হয়তো তোমার বাবার উপরে কেউ কালো জাদু করেছে। ভাবি আপনি বড় কোন হুজুর বা কবিরাজ দেখান। পাশাপাশি আমরা তো আছি দেখি কি করা যায়। আমার মা তখন আমাকে বলে দেখলি তো সেদিন রাতে আমি তোকে বলেছিলাম তোর বাবার উপরে ভয়ঙ্কর কিছু ভর করেছে।
মা আমাকে নিয়ে চেম্বার থেকে বের হয়ে আসে। তারপর আমাকে বলে তোর বাবাকে মেডিকেলে রেখে কোন লাভ হবে না। এখন তোর বাবার ঘুম ভাঙাতে পারবে আমার ছোট বোন। তার কাছেই তোর বাবাকে নিয়ে যাব।
মায়ের মুখে এতগুলো বছর পর খালামনির কথা শুনে আমি বেশ অবাক হই। আর তাকে বলি তুমি তো খালামনির সাথে কোন যোগাযোগ করো না।
কতগুলো বছর পার হয়ে গেছে। আমাদেরকেও যোগাযোগ করতে দাও না। সেই ছোটবেলায় একবার দেখেছিলাম তাকে। তারপর এতগুলো বছর পার হয়ে গেছে। তাকে তো একবারও দেখিনি। কেন মা। মা তখন আমাকে বলে আমি যেটা করেছি তোদের ভালোর জন্যই করেছি। আমি ইচ্ছে করেই তাকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। আমার কি কষ্ট হয় না বল। এই পৃথিবীতে বাবা-মা চলে যাওয়ার পর আপন বলতে একমাত্র আমার ছোট বোন। তারপরেও তাকে আমি আমার জীবন থেকে দূরে রেখেছি।
নিশ্চয়ই তার পেছনে অবশ্যই কোন বড় কারণ ছিল তাই না। আমি তখন মাকে বলি কি এমন কারণ ছিল আমাকে বলো। মা তখন আমাকে বলে সময় এলে সবকিছু জানতে পারবি। এখন তোর বাবাকে গাড়িতে উঠা। আমাদেরকে আজকের মধ্যেই দিনাজপুর যেতে হবে। মায়ের কথা মতো ডক্টর আঙ্কেলকে বলে একটা অ্যাম্বুলেন্স আমি ব্যবস্থা করি। সেই অ্যাম্বুলেন্সের করে আমি বাবাকে উঠিয়ে মায়ের সাথে রওনা করি দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে।
চার ঘন্টা জার্নি করার পর অ্যাম্বুলেন্সটা দিনাজপুরের সেই ছোট্ট গ্রামে প্রবেশ করে। মা গ্রামবাসীদের কাছে জানতে চায় আমার খালামনির বাড়িটা কোথায়। সবাই আমার খালামনিকে চেনে। সবাই দেখিয়ে দেয় বাড়িটা আসলে কোন পথে। আমাদের গাড়িটা খালামনির বাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। মা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। আর তার বোনের নাম ধরে ডাকতে শুরু করে।
আমি গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াই। চারিপাশটা একটা বার দেখি। আমি খুব অবাক হই। এই গ্রামে সবার বাড়ি থেকে ভিন্ন আমার খালামনির বাড়িটা। বাড়িটার আশেপাশে অন্য কোন বাড়িঘর নেই। চারিপাশে মোটা মোটা কিছু তালগাছ দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে আসে আমার খালামনি। এতগুলো বছর পর খালামনি তার বড় বোনকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাকে জড়িয়ে ধরে। আমার মা সেও কান্না করছিল। সে কান্না করতে করতে খালামনিকে বলে বোন আমার তোর দুলাভাইকে বাঁচা।
তার উপরে ভয়ঙ্কর কিছু ভর করেছে। এক সপ্তাহ ধরে তাকে ঘুমের দেশে বন্দি করে রেখেছে। তুই কিছু একটা কর বোন তুই কিছু একটা কর। খালামনি তখন তার চোখের পানি মুছে আমাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। সে আমার দিকে তাকায়।
আর আমাকে বলে চিন্তা করিস না তোর বাবা ঠিক হয়ে যাবে। খালামনি পিছনে ঘুরে বাড়ির ভেতর থেকে দুজন ব্যক্তিকে ডাকে। দুজন ব্যক্তি বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে আসে। তাদের ছিল সুঠাম দেহ। তারা দুজন আমার বাবাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। খালামনি আমাকে বলে অভি তুই আয় আমার সাথে। আমি আর আমার মা খালামনির সাথে তার বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করি।
খালামনি আমাদেরকে নিয়ে একটা ঘরে আসে। ঘরটা দেখে আমি তো হতবাক হয়ে যাই। ঘরটা খুবই অদ্ভুতভাবে সাজানো। ঘরে কোন বাতি নেই।
চারিপাশে মোমবাতি জ্বলছে। মোমবাতির আলোতে আমি দেখতে পাই কিছু পশুপাখির কঙ্কাল চারিপাশে বাধা। আর ঘরের মাঝখানে একটা বিশাল কাটা গরুর মাথা যেটা কিনা এখন কঙ্কাল হয়ে গেছে। এতকিছু দেখে আমি বুঝতে পারি আমার খালামণি সাধারণ কোন মানুষ না সে একজন কবিরাজ তাহলে খালামণি কি পারবে আমার বাবাকে সুস্থ করতে .?
সবটাই জানতে পারবেন পরবর্তী পর্ব।
আমি লেখক আরিয়ান অভি আজ বিদায় নিলাম আল্লাহ হাফেজ ❤️
0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য 😊 আপনার কমেন্ট আমাদের উৎসাহ দেয়।