খালাতো বোন যখন পরী ( 5, 6, 7)

খালাতো বোন যখন পরী

গল্প_খালাতো বোন যখন পরী  

পর্ব (৫)

#লেখক_আরিয়ান_অভি

বাকিটা না হয় তুই তোর মায়ের কাছে শুনবি। এখন তাবিজগুলো দে। এই তাবিজগুলো এখনই আমার কাছে রাখতে হবে। নয়তো সেই জিনগুলো তোকে ক্ষতি করতে পারে।


আমি সেই চারটি তাবিজ খালামণির হাতে তুলে দিয়ে মায়ের কাছে চলে যাই। মায়ের কাছে গিয়ে আমি তাকে বলি— আচ্ছা মা, খালামণি তো কখনো বিয়ে করেনি তাই না? মা তখন আমাকে বলে— তোকে কে বলল তোর খালামণি বিয়ে করেনি? সে তো অনেক আগেই বিয়ে করেছে।


তবে কোনো মানুষকে না, সে বিয়ে করেছে একটা জিন সম্রাটকে। আর তাদের ঘরে একটা মেয়েও আছে যে কিনা একজন পরী। মায়ের মুখে এই কথা শুনে আমি বুঝতে পারি খালামণি কেন বারবার বলছিল তোর খালাতো বোন তোকে বাঁচিয়েছে। তার মানে গতকাল রাতে আমার খালাতো বোন যে কিনা একজন পরী, সে আমাকে বাঁচাতে সেই ফ্ল্যাটে এসেছিল।


আর সেদিন রাতে আমি তাকেই দেখেছিলাম সেই তালগাছের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। এখন আমার কাছে সবকিছু পরিষ্কার। আমি বুঝতে পারছি আমার একজন বোন আছে যে কিনা একটা পরী।


মা তখন আমাকে বলে, "জানিস অভী, তোর খালামণির বয়স যখন ১০ বছর ছিল, তখন থেকেই এই জীন সম্রাট তাকে ভালবাসত। ধীরে ধীরে তোর খালামণির স্বপ্নে এসে দেখা করত। তোর খালামণিও সবটা জেনেও তাকে ভালবাসে।


আর এই কারনেই তোর নানা-নানু তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমরা সবাই তাকে দুরে সরিয়ে দেই। কিন্তু সেই জীনেদের সম্রাট সে কখনই তার হাত ছাড়েনি। সে ওই জীনেদের সম্রাটের মাধ্যমে নামকরা কবিরাজ হয়ে ওঠে। মানুষদের উপকার করে আর সেখান থেকে টাকা রোজগার করে নিজের জীবনযাপন করতে শুরু করে। এতগুলো বছর তোর খালামণির সাথে আমরা কোন ধরনের যোগাযোগ করিনি। কিন্তু এখন তোর বাবার জন্য আবারও তোর খালামণির কাছে আমাদের ফিরতে হয়েছে। আর এখন আমি বুঝতে পারছি আমি আমার ছোট বোনের সাথে কত অন্যায় করেছি।"


আমি তখন আমার মাকে বলি, "মা, অতীতে যেটা ঘটে গেছে সে সবকিছু বাদ দিয়ে দাও। এখন নতুন করে আবারও শুরু কর। খালামণিকে নিজের বুকে আগলিয়ে রাখ সারা জীবন। আর কখনো নিজের থেকে দুরে সরিয়ে দিও না।"


মায়ের সাথে কথা শেষ করে আমি খালামণির সাথে দেখা করতে তার ঘরে যাই। খালামণি আমার দিকে একটা হাসি দিয়ে আমাকে বলে, "কিরে, তোর মা কি তোকে সবকিছু বলে দিয়েছে?"


আমি তখন খালামণিকে বলি, "হ্যাঁ খালামণি, মা তো সবটা বলে দিয়েছে। কিন্তু খালামণি, আমি আমার খালাতো বোনকে এখনও দেখতে পাইনি।


সেদিন চাঁদের আলোতে শুধু তার পোশাক দেখতে পেয়েছি। আর গতকাল শুধু তার হাত দুইটি আমি দেখতে পেয়েছি। আমার খুব ইচ্ছে করছে তার চেহারাটা আমি দেখব। আমি তো এখনও মানতে পারছি না আমার খালাতো বোন আছে, আর সেও আবার একটা পরি।"


খালামণি তখন আমাকে বলে, "ঠিক আছে। আজকে মধ্যরাতে তুই আমার ঘরে আসিস। আমি আমার মেয়ে অহনার সাথে তোকে দেখা করাব।"

আমি খালামণিকে বলি, "তার নাম অহনা?"


খালামণি বলে, "হ্যাঁ। আমার আর আমার স্বামীর আদরের রাজকন্যা। তুই তাকে দেখলে অবাক হবি। সে যেমন সুন্দর তেমনি ভদ্র।"


আমি খালামণিকে তখন বলি, "আমি অপেক্ষায় থাকব তোমার মেয়েকে দেখার জন্য। এখন আমি যাই।"


খালামণির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি আমার ঘরে ফিরে আসি। বুকের ভেতরটা ছটফট করছিল কখন রাত হবে, আর কখন আমি আমার খালাতো বোনকে দেখতে পাব।


ধীরে ধীরে চারিপাশে বিকেল হয়ে যায়। বিকেল হতেই অনেক মানুষ খালার বাড়িতে আসতে শুরু করে। আমি বুঝতে পারি তাদের সবারই চিকিৎসা করে খালামণি। খালামণি এই গ্রামে অনেক বড় একজন কবিরাজ, যে কিনা মানুষদের উপকার করে। আস্তে আস্তে চারিপাশে মাগরিবের আযান দিয়ে দেয়। মাগরিবের আযান পড়তেই আমি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে আসি।


বাড়িতে আসতে আসতে চারিপাশে সন্ধে নেমে অন্ধকার হয়ে যায়।


আমি, আমার মা আর খালামণি খাবার ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। খাবার টেবিলে আমার মা কান্না করছিল। তখন খালামণি বলে, "দেখ আপু, কান্না করে তো আর সকল সমস্যার সমাধান করা যায় না। অভি তো চারটা তাবিজ উদ্ধার করে ফেলেছে। বাকি তিনটি তাবিজও অভি খুব তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে ফেলবে।"


খালামণির মুখে এই কথা শুনে আমি তাকে বলি, "খালামণি, তোমার মাথা ঠিক আছে? বাকি তিনটি তাবিজ কোথায় আছে সেদিন যে জীনটা বলেছিল তুমি শোননি? একটা তাবিজ সেই কবরের ভেতরে লাশের মুখে আছে।


আরেকটি তাবিজ সেই দুমঘরে লাশেদের মাঝখানে আছে। আর শেষের তাবিজটা তো সেই তান্ত্রিকের কাছে আছে। আমি কিভাবে বাকি তিনটি তাবিজ উদ্ধার করব? এটা আমাকে দিয়ে হবে না খালামণি, তোমাকেই কিছু একটা করতে হবে।"


খালামণি তখন আমাকে বলে, "দেখ অভি, আমার সাথে যতগুলো জীন আছে আমি তাদেরকে দিয়ে এই কাজটা করতে পারব না। তোকে করতে হবে। আর আমার বিশ্বাস, তুই তোর বাবাকে বাঁচানোর জন্য সবকিছু করতে পারবি। আমি বাইরে থেকে যতটুকু সাহায্য করার সবটা করব। তাছাড়া তোর খালাতো বোন তোর সাথেই থাকবে।"


খালামণির মুখে এই কথা শুনে আমার মা তখন খালামণিকে বলে, "অহনা এখন কেমন আছে? কত বড় হয়েছে?"


খালামণি তখন মাকে বলে, "আপু, ও তো অনেক বড় হয়ে গেছে। এই তো ২০ বছর পার করল।"

আমার মা তখন খালামণিকে বলে, "অহনা কি তার বাবার সাথে তাদের জগতেই থাকে?"


খালামণি তখন বলে, "হ্যাঁ, দিনের বেলায় ওর বাবার সাথেই থাকে। কিন্তু রাতের বেলায় আমার কাছে এসে আমার সাথেই ঘুমায়। আজকে যখন অহনা আসবে আমি তোমার কাছে পাঠিয়ে দেব, তুমি দেখ আমার মেয়েটা কতটা লক্ষ্মী।"


মা তখন বলে, "ঠিক আছে। আমি তো জেগেই আছি। রাতে অহনাকে আমার ঘরে পাঠিয়ে দিস।"

আমরা তিনজনেই খাবার শেষ করে যে যার ঘরে ঘুমাতে চলে যাই। কিন্তু আমার দুই চোখে কোন ঘুম নেই। অপেক্ষায় আছি কখন আমার খালাতো বোন অহনা পরির সাথে আমার দেখা হবে।


মধ্যরাত হয়ে আসে। আমি আর পারছিলাম না অপেক্ষা করতে। ছটফট করে আমি ঘর থেকে বের হয়ে যাই। খালামণির ঘরের দরজার কাছে এসে আমি বাইরে থেকে খালামণিকে ডাকতে শুরু করি। খালামণি উঠে এসে দরজাটা খুলে দেয়। আমি ঘরে প্রবেশ করি। ঘরে প্রবেশ করতেই একটা ঠান্ডা বাতাস আর একটা মিষ্টি ফুলের গন্ধ আমি পেতে শুরু করি।


"কি ব্যাপার অভি, তুই এখনো ঘুমাসনি?"

আমি তখন খালামণিকে বলি, "ভুলে গেলে তো? তুমি না বললে আমাকে মধ্যরাতে আমার বোনের সাথে দেখা করাবে? কই, তোমার মেয়েটা কোথায় দেখি?"


খালামণি তখন বলে, "এই তো আমার সাথেই ঘুমিয়ে ছিল। তোর ডাক শুনে অদৃশ্য হয়ে গেছে।"

আমি তখন খালামণিকে বলি, "দৃশ্যমান হতে বলো। আমিও তো দেখি তোমরা কি সত্য বলছ নাকি মিথ্যা বলছ।"


খালামণি তখন বলে, "ঠিক আছে। তুই তোর চোখ দুইটি বন্ধ কর। আমি যখন বলব তখন তাকাবি।"

খালামণির কথামত আমি আমার চোখ দুইটি বন্ধ করে ফেলি। এক থেকে দুই মিনিট পর খালামণি আমাকে বলে, "এইবার চোখ দুইটি খুলতে পারিস।"


আমি চোখ খুলে কি দেখতে পারলাম তা আপনারা আগামী পর্বে জানতে পারবেন


আজ আমি লেখক আরিয়ান অভি বিদায় নিলাম আল্লাহ হাফেজ ওয়ালাইকুম আসসালামু ❤️

গল্প_খালাতো বোন যখন পরী

পর্ব (৬)

#লেখক_আরিয়ান_অভি


এইবার চোখ দুইটি খুলতে পারিস। আমি ধীরে ধীরে আমার চোখ দুইটি খুলে ফেলি। আমি তখন দেখতে পাই খালামণির পাশে খুবই সুন্দরী একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটির পরণে সাদা রঙের খুবই দামী একটা পোশাক।


দুধে আলতা গায়ের বরণ। চেহারাটা খুবই মায়াবী। চোখের কিনারায় কাজল দেওয়া। গোলাপী দুইটি ঠোঁট আর ঠোঁটের নিচে কালো একটা তিল। আমি তো এত অপরূপ সুন্দরী মেয়েকে দেখে হতবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছি। আর মনে মনে ভাবছি আকাশের চাঁদটা কি ঘরে নেমে এলো? তখনই খালামণি সেই মেয়েটাকে বলে এটা তোমার খালাতো ভাই। সালাম দাও?


সেই সুন্দরী মেয়েটা তখন তার মধুর কণ্ঠে আমাকে সালাম দেয়। আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন ভাইয়া? তার কণ্ঠটা এতটা সুন্দর ছিল যে আমি ভুলেই যাই সে আমাকে সালাম দিয়েছে। খালামণি আমাকে ধমক দিয়ে বলে, এই অভি তোর বোন তোকে সালাম দিয়েছে।


সালামের উত্তর দে। আমি তখন আমতা আমতা করে সালামের উত্তরটা দেই।


খালামণি আমাকে বলে দেখলি তো এইটাই আমার মেয়ে। ওর নাম হচ্ছে অহনা পরী। এখন যা তুই তোর ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়। অনেক রাত হয়েছে। আমার সেই ঘর থেকে বের হতে ইচ্ছেই করছিল না। মনে হচ্ছিল সেখানে দাঁড়িয়ে সারাটা রাত অহনা পরীকে দেখে যাই।


খালামণি আমাকে আবারও একটা ধমক দিয়ে বলে, কি ব্যাপার অভি? বললাম না ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়। আমি না চাইতেও তখন আমার ঘরে চলে আসি। আর খালামণি তার দরজাটা লাগিয়ে দেয়।


ঘরে এসে আমি খাটের উপরে বসে এখনও সেই মেয়েটাকে নিয়ে ভাবছি। আমার খালাতো বোন এত সুন্দরী একটা পরী! তার মায়াবী চেহারা আর সেই মিষ্টি হাসি আমি যেন কোনোভাবেই ভুলতে পারছিলাম না। আমি তাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে সুন্দর একটা ঘুম দেই।


পরের দিন সকালে খালামণি আমাকে ঘুম থেকে জাগায়। খালামণি আমাকে বলে, দেখ অভি আমাদের হাতে সময় অনেক কম। আজকে রাতেই তোকে যেতে হবে সেই কবরস্থানে। তারপর সেই পরিত্যক্ত কবরের ভেতর থেকে লাশের মুখ থেকে উদ্ধার করতে হবে পাঁচ নাম্বার তাবিজটা।


আমি তখন খালামণিকে বলি, আচ্ছা খালামণি এমনটা কি দিনের আলোতে করলে হয় না? রাতের অন্ধকারেই করতে হবে? খালামণি তখন আমাকে বলে ধরে নে তুই দিনের বেলায় সে কবরস্থানে গেলি। তারপর সে কবরটা খুড়ে সেই লাশটার দেখা পেলি।


কিন্তু তুই হাজার খুজেও সে তাবিজটা দেখা পাবি না। রাত হলেই তুই তাবিজের দেখা পাবি। তাই এই কাজটা তোকে রাতের বেলায় করতে হবে।


আমি খালামণিকে বলি, খালামণি আমার খুব বেশি ভয় করছে। খালামণি তখন আমাকে বলে ভয় পেতে হবে না। আজকে রাতে তোর সাথে তোর খালাতো বোন অহনা পরীও যাবে। আর হ্যাঁ এখন তোকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করতে হবে না। রাতের বেলায় তোর বোন তার শক্তির মাধ্যমে পলকেই সেই কবরস্থানে তোকে নিয়ে যাবে। এখন তুই নিজের মত করে প্রস্তুতি নিয়ে রাখ। নিজেকে শক্ত কর। যেন রাতের যুদ্ধে তুই বিজয় লাভ করতে পারিস। খালামণি কথাগুলো বলে তার ঘরে চলে যায়।


আমি ঘরে বসে ভাবছিলাম অহনা পরী আমার সাথে যাবে? তাহলে আবার কিসের ভয়! আমি সেই তাবিজটা উদ্ধার করতে পারব। এভাবেই সারাটা দিন পার হয়ে যায়।


মধ্যরাতে খালামণি আমার দরজার কাছে এসে আমাকে ডাকতে শুরু করে। আমি দরজা খুলে দেই। দেখতে পাই খালামণি আমার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সে একা না। তার পাশে তার কন্যা অহনা পরীও দাঁড়িয়ে আছে। অহনা পরীকে নিয়ে খালামণি ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। আর আমাকে বলে, অহনা পরী তার শক্তি ব্যবহার করে তোকে সেই কবরস্থানের কাছে নিয়ে যাবে।


তারপর বাকিটা তোকে একাই করতে হবে। সে পরী হলেও তোর সাথে কবরস্থানের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। বাইরে সে অপেক্ষা করবে। যে করেই হোক তোকে সেই তাবিজটা উদ্ধার করে বাইরে আসতে হবে।


তারপর অহনা পরী তোকে আবারও এখানে নিয়ে আসবে। এই কথা বলে খালামণি অহনা পরীর দিকে তাকায় আর বলে, তুমি তাকে নিয়ে যাও। আর দেখো তোমার ভাইয়ের যেন কোনো ক্ষতি না হয়। এটা বলে খালামণি তার ঘরে ফিরে যায়।


অহনা পরী তখন আমাকে তার মিষ্টি কণ্ঠে বলে, অভি ভাইয়া তাহলে চলুন আপনাকে নিয়ে সেই কবরস্থানে যাওয়া যাক। আমি অহনা পরীকে বলি, কিন্তু কিভাবে? কবরস্থানটা ঢাকায়।


আর এখান থেকে ঢাকায় যেতে হলে অনেক সময় লাগবে। খালামণি তো বারবার বলছিল আপনি আপনার শক্তি ব্যবহার করে আমাকে নিয়ে যাবেন। কিন্তু কিভাবে যে চোখের পলকেই সেখানে আপনি আমাকে নিয়ে যাবেন এইটাই বুঝতে পারছি না।


অহনা পরী তখন মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে আমাকে বলে, কিভাবে নিয়ে যাব সেটা এখনই দেখতে পাবেন। আগে আমার হাত দুইটি ধরেন তো। এটা বলে তার সুন্দর নরম দুইটি হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। আমি তার হাত দুইটি স্পর্শ করি।


তার হাত দুইটি ধরতেই আমার বুকের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে আসে। অহনা পরী তখন আমাকে বলে, অভি ভাইয়া এখন তাহলে চোখ দুইটি বন্ধ করেন। আমি আমার শক্তি ব্যবহার করে আপনাকে সেখানে নিয়ে যাব। আমি তার কথা মত চোখ দুইটি বন্ধ করি। এভাবেই ১০টা মিনিট পার হয়ে যায়। তারপর আমার খালাতো বোন আমাকে বলে, অভি ভাইয়া এখন তাহলে চোখ দুইটি খোলেন।


আমি চোখ দুইটি খুলি। কিন্তু দেখতে পাই এখন আমি আমার ঘরে দাঁড়িয়ে নেই। আমি দাঁড়িয়ে আছি সেই কবরস্থানের দরজার কাছে। আমি আমার খালাতো বোনের কাছে জানতে চাই, এটা কিভাবে সম্ভব? তখন অহনা পরী আমাকে বলে, পরীদের কাছে অনেক কিছুই সম্ভব। এখন মধ্যরাত। আর কিছুক্ষণ পরেই রাত শেষ হয়ে যাবে। আপনি যান।


কাজটা করে দ্রুতই আবার ফিরে আসুন। এই কথা বলে অহনা পরী তার শক্তি ব্যবহার করে আমার হাতে একটা কোদাল ধরিয়ে দেয়। আর আমাকে বলে, সাবধান! সে কবরটা কিন্তু আপনার অপেক্ষায় আছে।


আমি অহনা পরীকে বলি, এতগুলো কবরের মাঝে আমি কিভাবে বুঝতে পারব কোন কবরে সেই তাবিজটা রাখা আছে? অহনা পরী তখন বলে, অভি ভাইয়া কবরস্থানের ভেতরে আপনি ঢুকলেই দেখতে পারবেন সেই অভিশপ্ত কবরটা কোথায় আছে। যান এবার ভেতরে যান।


আমি আপনার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছি।

আমি বিসমিল্লাহ বলে কবরস্থানের ভেতরে ঢুকে পড়ি। হাতে ফোনের আলোটা জ্বালিয়ে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।


চারিপাশে খুটখুটে অন্ধকার। কতগুলো কবর আমার চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আমি খুজছি সেই অভিশপ্ত কবরটা। কিছুক্ষণ খোজার পর একটা কবরের দিকে আমার নজর পড়ে। আমি দেখতে পাই এতগুলো কবরের মাঝে একটা কবরের ভেতরে আগুন জ্বলছে দাউদাউ করে।


আমি বুঝতে পারি সেই কবরের মাঝেই আছে সেই তাবিজটা। আমি ধীরে ধীরে সেই কবরের কাছে এগিয়ে যাই। কবরটার কাছে আসতেই ভেতরে থাকা আগুন নিমিষেই নিভে যায়।


চারিপাশ আবারও অন্ধকার হয়ে আসে। আমি আমার ফোনের আলো জ্বালিয়ে দেই। তারপর ফোনটাকে কবরের পাশে রেখে ধীরে ধীরে কোদাল দিয়ে কবরের মাটি সরাতে শুরু করি।

১০ মিনিট পর আমি সকল মাটি সরিয়ে ফেলি। বাঁশের চাটাই আমি দেখতে পাই। এক এক করে আমি বাঁশের চাটাই সবগুলো উঠিয়ে ফেলি।


তারপর দেখা পাই একটা লাশের. কিন্তু লাশটা দেখে আমার শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করে। কেননা লাশের চোখ দুইটি খোলা আর মুখটা হা করে আছে। মুখের মাঝখানে কালো সুতায় বাঁধা সেই তাবিজটা। আমি কাঁপা কাঁপা শরীরে কবরে নেমে আসি। তারপর যখন আমি আমার হাত বাড়িয়ে দেই সেই লাশের মুখের দিকে, হঠাৎ করেই সেই লাশটা আমার হাত দুইটি ধরে বসে।

গল্প _খালাতো বোন যখন পরী

পর্ব (০৭)

#লেখক_আরিয়ান_অভি


আমি যখন লাশের মুখ থেকে তাবিজটা নেয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দেই, তখন লাশটা আমার হাত শক্ত করে ধরে বসে। এই দৃশ্য দেখে আমার শরীর ভয়ে থরথর করে কাঁপতে শুরু করে। কিন্তু এখন ভয় পেলে চলবে না। যে করেই হোক এই পাঁচ নাম্বার তাবিজটা আমাকে উদ্ধার করতেই হবে।


আমার অন্য হাতে থাকা সেই কোদাল দিয়ে আমি তখন লাশের হাতে একটা কোপ বসিয়ে দেই। কোপ দেয়ার সাথে সাথেই লাশের সেই হাতটা কেটে কবরে পড়ে যায়। আমি আর সময় নষ্ট না করে লাশের মুখ থেকে সেই তাবিজটা নিয়ে কবর থেকে উঠে আসি।


আমি দৌড়াতে শুরু করি কবরস্থান থেকে বের হওয়ার জন্য। ঠিক তখনই আমি অনুভব করতে পারি আমার পেছন পেছন সেই লাশটাও আমাকে ধরার জন্য দৌড়াচ্ছে। লাশের একটি হাত, যে হাতটা আমি কিছুক্ষণ আগেই কোপ দিয়ে কবরে কেটে ফেলেছি, সেখান থেকে টলটল করে তাজা রক্ত বের হচ্ছে।


লাশটা চোখ খুলে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। আর আমাকে ধরার জন্য অন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমি এই দৃশ্য দেখে অনেক বেশি ভয় পেয়ে যাই আর আরো জোরে জোরে দৌড়াতে শুরু করি।


দৌড়াতে দৌড়াতে আমি কবরস্থানের বাইরে চলে আসি। গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল অহনা পরী। ভয়ের কারণে আমি অহনা পরীকে গিয়ে জড়িয়ে ধরি। অহনা পরী আমার কাছে জানতে চায়:

> "কী হয়েছে অভি ভাইয়া? কী হয়েছে আমাকে বলো, আমি তো আছি; কী হয়েছে?"


>

আমি তখন অহনা পরীকে বলি, "সেই লাশটা, ও আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে ধরার জন্য আমার পেছন পেছন আসছে।" অহনা পরী তখন কবরস্থানের দিকে তাকায়, কিন্তু সেখানে তখন কিচ্ছু ছিল না। অহনা পরী আমাকে বলে, "অভি ভাইয়া, সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে। সেই লাশটা চলে গেছে। তুমি চোখ খুলে তাকাতে পারো।"


আমি অহনা পরীকে ছেড়ে চোখ খুলে তাকাই। সে বলে, "অভি ভাইয়া, তুমি কি অনেক বেশি ভয় পেয়েছ?" আমি তখন অহনা পরীকে বলি, "ভয় পাবো কেন? আমি ভয় টয় পাইনি।" অহনা পরী বলে, "তাহলে আমাকে জড়িয়ে ধরলে কেন? নিশ্চয়ই ভয় পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেছ?" আমি তখন স্বীকার করতে বাধ্য হই, "হ্যাঁ, আমি ভয় পেয়েছি।


শুধু আমি না, আমার জায়গায় যদি অন্য কোনো মানুষ হতো তারাও ভয় পেত। কেননা একটা লাশ যখন কাউকে তাড়া করে, সে কি ভয় না পেয়ে থাকতে পারে? এখন এগুলো বাদ দাও। চলো আমাকে বাড়িতে নিয়ে যাও।"


অহনা পরী তখন আবারো তার সুন্দর হাত দুইটি আমার দিকে বাড়িয়ে দেয় আর বলে, "হাত দুইটি ধরে ফেলো। আমি আমার শক্তি ব্যবহার করে আবারো তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি।" আমি হাত দুইটি বাড়িয়ে দেই। অহনা পরী আমার হাত ধরে আমাকে চোখ বন্ধ করতে বলে। চোখ বন্ধ করার কিছুক্ষণ পরেই আমি অনুভব করতে পারি আমি আবারো আমার খালামণির বাড়িতে চলে এসেছি।


অহনা পরী আমাকে বলে, "অভি ভাইয়া, তাহলে আমি আসি।" আমি তাকে বলি, "দিনের বেলায় তুমি কোথায় থাকো?" সে আমাকে বলে, "দিনের বেলায় আমি আমাদের জগতে আমার বাবার কাছেই থাকি। রাত হলেই আমি আমার মায়ের কাছে চলে আসি। কেননা তাকে জড়িয়ে না ধরলে আমার ঘুমই আসে না।" আমি তখন আমার খালাতো বোনকে বলি, "বিয়ের পর তখনও কি মায়ের সাথে ঘুমাবে?


সে আমাকে বলে, "অভি ভাইয়া, তুমি কিন্তু অনেক দুষ্টু আছো। আমি গেলাম। মায়ের কাছে এই তাবিজটা দিয়ে দিও। তারপর যা করার সেই করবে। রাতে দেখা হবে। আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম।"


আমি সালামের উত্তর নেই। অহনা পরী আমার চোখের সামনেই অদৃশ্য হয়ে যায়। আমার খালাতো বোন অহনা পরীর জন্য আমার মনের ভেতর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছিল। আমি ধীরে ধীরে তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। তার ঐ মায়াবী চোখ, গোলাপী ঠোঁট, আর সেই ঠোঁটের নিচে সুন্দর তিলটার প্রেমে আমি পড়ে গিয়েছিলাম।


কিন্তু এ কথা আমি তাকে বলতে পারছিলাম না। কেননা শত হলেও সে আমার খালাতো বোন। সে যদি খালামণিকে বলে দেয়, তাহলে তো আমার সর্বনাশ হয়ে যাবে।


চারিপাশে ফজরের আজান দিতে শুরু করে। আমি ফজরের নামাজ পড়ে খালামণির সাথে দেখা করি। তার হাতে আমি পাঁচ নাম্বার তাবিজটা তুলে দেই। খালামণি আমাকে বলে, "তুই তাহলে浅 পাঁচ নাম্বার তাবিজটা উদ্ধার করতে পেরেছিস? তোর সাথে কিছু ঘটেনি?" আমি তখন খালামণিকে বলি, "কিছু ঘটেনি আবার! তুমি জানো একটা মৃত মানুষ যখন জেগে ওঠে, আমার হাত চেপে ধরে, আমাকে তাড়া করতে শুরু করে? তখন কি ভয় না পেয়ে থাকা যায় বলো?"


খালামণি আমাকে বলে, "তুই খুবই সাহসী। তোর সাহস দেখে আমি আসলেই অনেক মুগ্ধ হয়েছি। এখন তোকে ছয় নাম্বার তাবিজটা উদ্ধার করতে হবে। যেটা কিনা সেই নামকরা মেডিকেলের ডুম ঘরে আছে।"


I আমি খালামণিকে বলি, "কবরে তো একটা লাশ ছিল, কিন্তু সেই ডুম ঘরে তো অনেকগুলো লাশ আছে। আমি কি পারবো এতগুলো লাশের মাঝখান থেকে সেই civilisation ছয় নাম্বার তাবিজটাকে উদ্ধার করতে?" খালামণি তখন আমাকে বলে, "তুই পারবি। তুই তোর বাবাকে অনেক ভালোবাসিস। আমি জানি তুই তোর বাবার জন্য সবকিছু করতে পারবি। আর এই কাজে তো তোর খালাতো বোন অহনা আছে। অহনা তোকে সবসময় সাহায্য করবে, তুই চিন্তা করিস না।"


আমি তখন খালামণিকে বলি, "ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করে দেখছি। আজকেই আমি ঢাকায় যাবো। আর সেই ডুম ঘরে যে ডুম কাজ করে তার সাথে দেখা করবো। দেখো খালামণি, সেটা অনেক নামকরা একটা মেডিকেল। সেখানে আমি যখন তখন ঢুকতে পারবো না। আমি যদি ডুমকে কিছু টাকা দেই, তাহলে সে এই কাজে আমাকে সাহায্য করতে পারবে।" খালামণি বলল, "ঠিক আছে, তোর যেটা ভালো মনে হয় কর। কিন্তু মনে রাখিস, কালো জাদুর মেয়াদ খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। সময়মতো যদি আমরা তাবিজগুলো উদ্ধার করতে না পারি, তাহলে তোর বাবাকে আর কখনোই বাঁচাতে পারবো না।" আমি আমার খালামণিকে বলি, "আমি আমার বাবাকে বাঁচানোর জন্য সবকিছু করতে পারবো।"


সেদিনই আমি ঢাকায় ফিরে আসি। সে নামকরা মেডিকেলে আমি খোঁজখবর নিতে শুরু করি। আমি জানতে পারি সেখানে ডুম ঘরে কাজ করে টুকু দাস নামক একটা ডুম। আমি টুকু দাসের সাথে দেখা করি আর তার হাতে ২০,০০০ টাকা তুলে দেই। আর বিনিময়ে তাকে আমাকে এই কাজে সাহায্য করতে বলি। টাকার লোভে পড়ে টুকু দাস এই কাজে আমাকে সাহায্য করতে রাজি হয়ে যায়। সে বলে:

> "দেহেন স্যার, আমি আপনার এই কাজে সাহায্য করতে পারমু। কিন্তু কয়েকটা দিন আপনারে আমার লগে মেডিকেলে আহা-যাওয়া করতে হইবো। যেন ডাক্তার মশাইরা বুঝতে পারে আপনে আমার ভাতিজা। আর হ্যাঁ, আমাগো মতোই কথাবার্তা কইতে হইবো। যেন পরবর্তীতে আপনারে নিয়া রাইতের বেলা যখন আমি ডুম ঘরে যামু, কেউ যেন মনে করেন আমাগো সন্দেহ না করতে পারে।"

>


আমি টুকু দাসকে বলি, "ঠিক আছে, আপনি যেমনটা বলবেন তেমনটাই হবে। তারপরেও আমাকে এই কাজে সাহায্য করুন। সেই তাবিজটা আমাকে উদ্ধার করতেই হবে।"


এভাবেই টুকু দাসের সাথে আমি তার মতো করে পোশাক পড়ে, তার মতো করে কথা বলে দুই একটা দিন সেই লাশ কাটার ঘরে আসা-যাওয়া করি। আমার সামনেই টুকু দাস টেবিলে লাশ উঠিয়ে কাটাকাটি করতে শুরু করে। যেগুলো দেখে আমি কয়েকবার বমি করে দিয়েছি। এত ভয়ংকর ছিল সেই দৃশ্যগুলো যে আমি বলে বোঝাতে পারব না। এভাবেই তিন চার দিন পার হয়ে যায়। আমার হাতে আর মাত্র দুইটা দিন আছে। কোনোভাবেই আর সময় নষ্ট করতে পারব না। আমি টুকু দাসকে বলি, "আজকে রাতেই সেই তাবিজটা উদ্ধার করতে হবে।"


টুকু দাস বলে, "আইচ্ছা আইচ্ছা, হেডাই হইবো, চিন্তা কইরেন না। আজকে রাইতে ১০টার পরে আপনে আর আমি মেডিকেলের ডুম ঘরে যাইমু। ১০টার পরে ডাক্তার মশাইরা সবাই বাইর হইয়া যাইবো।"


সেদিন রাতেই টুকু দাসের সাথে আমি মেডিকেলে ঢুকে পড়ি। রাত ১২টার সময় আমি আর টুকু দাস সেই ডুম ঘরে ঢুকে পড়ি। ঘরের ভেতরে সাদা দুইটি বাতি জ্বলছিল। অগণিত লাশ, যারা কিনা আত্মহত্যা করে মারা গেছে, এক্সিডেন্টে মারা গেছে, তাদের লাশগুলো লাইন বাই লাইন সাজিয়ে রাখা হয়েছে।


টুকু দাস আর আমি যখন ডুম ঘরে ঢুকি, তখন আমরা দেখতে পাই লাশ কাটার স্থানে একজন ব্যক্তি টেবিলের উপরে লাশ কাটাকাটি করছে। পরনে টুকু দাসের মতোই একটা সাদা লুঙ্গি আর একটা সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি। চাপাতি দিয়ে সে লাশের বুক কাটছিল। টুকু দাস এই দৃশ্য দেখে চেঁচিয়ে ওঠে আর তাকে বলে...


তারপর ====

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ