খালাতো বোন যখন পরী ( 2,3 )

 গল্প _খালাতো বোন যখন পরী খালাতো বোন যখন পরী


পর্ব "০২

#লেখক_আরিয়ান_অভি

এই গল্পের প্রথম পর্ব পেজে দেয়া আছে না পড়ে থাকলে পড়ে আসুন


এত কিছু দেখে আমি বুঝতে পারি আমার খালা সে অনেক বড় মাপের একজন কবিরাজ। আমার বাবাকে সেই ঘরে মাটিতে শুইয়ে দেয়া হয়। খালামনি আমার বাবার চারিপাশে পবিত্র পানি দিয়ে একটা গোল দাগ কেটে দেয়। তারপর ঘরের মাঝখানে আসন পেতে বসে। খালামনি সেই দুইজন ব্যক্তিকে বলে আমার বাবার হাত-পা গুলো শক্ত করে ধরে ফেলতে। খালামনির কথা মতো সেই দুইজন ব্যক্তি এমনটাই করে।


আমার মা তখনও কান্না করছিল। আমি মাকে বলি, "এগুলো কি করছে?" মা তখন বলে, "চুপ করে দেখ, তোর খালামনি তোর বাবাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।" আমি মায়ের হাত ধরে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। খালামনি অদ্ভুত কিছু আয়াত পড়তে শুরু করে। আর সেই পড়া পানি বারবার আমার বাবার শরীরে ছিটিয়ে দিতে শুরু করে।


এভাবেই ১০ থেকে ১৫ মিনিট পার হওয়ার পর হঠাৎ করেই আমি অনুভব করতে পারি ঘরের ভেতর একটা গরম বাতাস ঘোরাফেরা করছে। হঠাৎ করেই আমাদের সবার গরম লাগতে শুরু করে। কিন্তু কিছুক্ষণ আগেও পুরো ঘরটা ঠান্ডা ছিল। আমার বাবা নড়তে চড়তে শুরু করে। এই দৃশ্য দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। এত বড় বড় ডক্টর দেখালাম কেউ কিছু করতে পারল না, কিন্তু খালামনির এই অদ্ভুত আয়াত শুনে বাবা নড়াচড়া করছে।


খালামনি আরো জোরে জোরে আয়াত পড়তে শুরু করে। বাবা তখন কথা বলতে শুরু করে। তার চোখ এখনও বন্ধ হয়ে আছে। মোটা একটা কণ্ঠে বাবা তখন খালামনির সাথে কথা বলতে শুরু করে। খালামনিকে আমার বাবা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিল। কিন্তু খালামনি কোন রাগ করছিল না, উল্টো ঠান্ডা মাথায় আমার বাবার কাছে জানতে চাচ্ছিল, "কে তুই? কোথা থেকে এসেছিস? তোর পরিচয় কি? সবকিছু বল আমাকে।"


খালামনির এসব কথা শুনে আমি আমার মাকে বলি, "খালামনি আমার বাবার কাছে পরিচয় কেন জানতে চাচ্ছে? সে তো জানে এটা তার দুলাভাই।" তখন আমার মা আমাকে বলে, "তোর খালা তোর বাবার সাথে কথা বলছে না। কথা বলছে তোর বাবাকে যে দখল করে রেখেছে, সেই ভয়ঙ্কর জ্বীনের সাথে।" আমি মায়ের কথার কোন মানে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কি বলছে মা? আমি নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছি বাবা কথা করছে, আর মা কিনা বলছে বাবা না, একটা ভয়ঙ্কর জ্বীন কথা বলছে। মা আমাকে বলে, "শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাক আর দেখতে থাক কি হয়।"


খালামনি তখন আবারো প্রশ্ন করে, "বল তোর পরিচয় কি? কোথা থেকে এসেছিস?" আমার বাবা তখন বলে, "বলবো না, কোথা থেকে এসেছি বলবো না। কি করবি? কি করবি দেখি?" এটা বলে আমার বাবা জোরে জোরে হাসতে শুরু করে। এখনো তার চোখ দুইটি বন্ধ। খালামনি তখন আমার বাবাকে বলে, "কি করব দেখতে চাস? ঠিক আছে, দেখ তাহলে।" এটা বলে খালামনি সেই ঘরের আলমারি থেকে একটা মোটা লাঠি বের করে। তারপর সেই লাঠির উপরে কিছু আয়াত পড়ে আমার বাবার দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে।


আমি তখন বেশ ভয় পেয়ে যাই। খালামনি কি তাহলে তার দুলাভাইকে আঘাত করবে? আমি বাধা দেয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু মা তখন বলে, "কিচ্ছু করবি না, চুপ করে দেখ।" আমি না চাইতেও সবকিছু দেখছিলাম। খালামনি আমার বাবার কাছে যায় আর আমার বাবাকে বলে, "দেখ তাহলে কি করতে পারি আমি।" এটা বলে সে মাটিতে জোরে জোরে আঘাত করতে থাকে আর সেই পানির ছিটা আমার বাবার শরীরে ছেটাতে থাকে।


আমার বাবা তখন আর্তচিৎকারে চিৎকার পাড়তে শুরু করে, যেন তার শরীরেই আঘাত করা হচ্ছে। বাবা সেখান থেকে নড়াচড়া করছিল, উঠার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সেই দুইজন লোক শক্ত করে আমার বাবার হাত-পা গুলো মাটির সাথে ধরে রেখেছিল। খালামনি তখন আবারো প্রশ্ন করে, "এখনো সময় আছে, তুই তোর আসল পরিচয়টা বল, নয়তো তোকে আমি মেরে ফেলবো।" তখন সেই জ্বীনটা আমার খালামনিকে বলে, "আমি এখানে একা না।


দেখ, এই লোকটাকে আমরা সাতজন ভর করেছি। তুই শুধু আমাকেই ডাকতে পেরেছিস। বাকিরা আমার থেকেও বেশি শক্তিশালী। তুই যদি আমাকে মেরেও ফেলিস, তারপরেও এই লোকটা মুক্ত হতে পারবে না। কেননা তার উপরে ভয়ঙ্কর একটা কালো জাদু করা হয়েছে।"


খালামনি তখন আমার বাবার ভেতরে থাকা সেই জ্বীনটাকে প্রশ্ন করে, "কে করেছে এমনটা? বল, তার নাম বল।" আমার বাবার ভেতরে থাকা সেই ভয়ঙ্কর জ্বীনটা তখন বলে, "তার নাম হচ্ছে ইন্তেহাজ।" বাবার ভেতরে থাকা সেই জ্বীনটির মুখে এই নাম শুনে আমি আর আমার মা অনেক বেশি অবাক হয়ে যাই। কেননা ইন্তেহাজ আমার বাবার খুব কাছের একজন বন্ধু। সে পড়ার সময় আমাদের বাড়িতে আসা-যাাওয়া করত। আমার মাকে অনেক সম্মান করত, আমাকে অনেক আদর করত।


আমি আমার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলি, "ইন্তেহাজ আঙ্কেল? না, সে এমনটা করতে পারে না।" আমার মা তখন আমাকে বলে, "মানুষ সবকিছু করতে পারে। মানুষ হচ্ছে ভয়ঙ্কর হিংস্র প্রাণীর থেকেও অনেক গুণ বেশি ভয়ঙ্কর।"


আমার খালামনি তখন সেই জ্বীনটাকে আবারো প্রশ্ন করে, "কিভাবে কালো জাদু করেছে? বল, আমাকে বল।" সেই জ্বীনটা তখন বাঁচার জন্য বলতে থাকে কিভাবে আমার বাবার উপরে কালো জাদু করা হয়েছে। জ্বীনটা বলে, "ইন্তেহাজ পড়ার সময় তাদের বাড়িতে আসা-যাাওয়া করত। আর এভাবেই তাদের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে ওঠে। কিন্তু তার মনে এই লোকটার জন্য অনেক বেশি হিংসে ছিল। তার কথা, তারা একই ব্যবসা করে, কিন্তু তার ব্যবসায় সে সবসময় লস করলেও অভির বাবা সে সবসময় লাভবান হতো নিজের ব্যবসায়। আর এটার জন্যই সে হিংসে করতে শুরু করে।


হিংসের বশে পড়ে ইন্তেহাজ অনেক বড় একজন তান্ত্রিকের কাছে যায়। তান্ত্রিক তাকে বলে, 'তুমি যদি আমাকে টাকা দাও আর কিছু জিনিসের ব্যবস্থা করে দাও, তাহলে অভির বাবাকে খুব সহজেই হত্যা করতে পারবে।' তান্ত্রিকের মুখে এই কথা শুনে ইন্তেহাজ তাকে অনেকগুলো টাকা দেয়। আর তান্ত্রিক বলে দেয় কি কি জোগাড় করতে হবে।


তান্ত্রিক বলে, অভির বাবার মাথার একটা চুল আর তার পরনের পোশাকের কিছুটা অংশ জোগাড় করে আনতে।


ইন্তেহাজ যেহেতু আপনার বোনের বাসায় সচরাচর আসা-যাাওয়া করত, তাই তার জন্য এমনটা করা ছিল খুবই সহজ। সে খুবই কৌশলে অভির বাবার মাথা থেকে একটা চুল ছিঁড়ে ফেলে। তারপর তাদের বাড়িতে এসে তার পরনের একটা জামা থেকে কিছুটা অংশ কেটে সেই তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যায়।


তান্ত্রিক সেসব জিনিসের উপরে কালো জাদু করে সাতটি তাবিজ তৈরি করে। আর আমাদের সাতজন জ্বীনকে লাগিয়ে দেয় এই ব্যক্তির উপরে। আমাদেরকে আদেশ করা হয় যতদিন না এই ব্যক্তি মারা যাচ্ছে, ততদিন তাকে ভয় দেখাতে। আমরা সাতজন সেই তাবিজে বন্দী, তাই চাইলেও আমরা এই শরীরকে ছাড়তে পারব না।"


আমার খালামনি তখন বলে, "সে তাবিজগুলো এখন কোথায় আছে বল?"


আমার বাবার ভেতরে থাকা সেই জ্বীনটা তখন বলে, "চারটি তাবিজ তাদের বাড়ির চারপাশে পোঁতা আছে। আর তিনটি তাবিজ এমন তিনটি জায়গায় সেই তান্ত্রিক রেখে এসেছে যেখান থেকে সেই তাবিজগুলো উদ্ধার করা অসম্ভব।"


আমার খালামনি তখন বলে, "সম্ভব না অসম্ভব সেটা আমি বুঝে নেব। তুই বল, বাকি তিনটি তাবিজ কোথায় রেখেছে সেই তান্ত্রিক তা বল।


বাকি ৩টা তাবিজ যে জায়গায় আছে শুননে আওনিও অবাক হবেন।

গল্প_খালাতো বোন যখন পরী

পর্ব "০৩

#লেখক_আরিয়ান_অভি


তুই বল, বাকি তিনটি তাবিজ কোথায় রেখেছে সে তান্ত্রিক। আমার বাবার ভেতরে থাকা সে জিনটা তখন বলে, প্রথম তাবিজটা রাখা আছে তাদের বাড়ির পাশেই একটা কবরস্থানে। সেই কবরস্থানে একটা পরিত্যক্ত কবরের ভেতরে লাশের মুখে সেই তাবিজটা রাখা আছে। যেই সেই তাবিজটা উদ্ধার করতে যাবে, তাকে সে লাশটা টেনে নিয়ে যাবে সেই কবরে। খালামনি তখন বলে, ফালতু কথা বলা বন্ধ কর।


সেটা আমি বুঝে নেব। এখন বল, বাকি যে দ্বিতীয় তাবিজটা, সেটা কোথায় আছে? জিনটা তখন বলে, দ্বিতীয় তাবিজটা তাদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটা নামকরা মেডিকেলের ডুম ঘরে রাখা আছে। যেই ঘরকে পাহারা দিচ্ছে মৃত মানুষদের আত্মা। তারা কখনোই সে তাবিজটাকে উদ্ধার করতে দেবে না। খালামনি আবারও ধমক দিয়ে বলে, সেটা আমার বিষয়। তোকে ভাবতে হবে না। এখন বল, শেষ তাবিজটা কোথায় রেখেছে সে তান্ত্রিক। আমার বাবার ভেতরে থাকা জিনটা তখন বলে, শেষ তাবিজটা তান্ত্রিক তার গলায় বেঁধে রেখেছে।


সেটা উদ্ধার করতে হলে তান্ত্রিকের সাথে যুদ্ধ করতে হবে। তার বাড়িতে যেতে হবে। কিন্তু তান্ত্রিক একা না। তার কাছে আছে শক্তিশালী অনেক জিন। যাদেরকে কখনোই তুই হারাতে পারবি না। আমার খালামনি তখন বলে, ঠিক আছে, সেটা না হয় সময়ের মাধ্যমেই দেখা যাবে। এখন তুই আমার দুলাভাইয়ের শরীর থেকে বের হয়ে আয়। তারপর দুলাভাইকে জাগিয়ে তোল।


তার সাথে আমি কিছু কথা বলব। সেই জিনটা তখন বলে, আমি এমনটা করতে পারব না। খালামনি তখন আবারও মাটিতে আঘাত করতে শুরু করে। জিনটা আঘাত সইতে না পেরে খালামনিকে বলে, ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমি শুধু ১০ মিনিটের জন্য এই ব্যক্তির শরীর থেকে আমার সকল সাথীদেরকে নিয়ে দূরে সরে যাচ্ছি।


তবে মনে রাখিস, ১০ মিনিট পর আমরা না চাইতেও এই শরীরে ফিরে আসব। আর এই ব্যক্তি আবারও ঘুমের দেশে বন্দি হয়ে যাবে। আমার খালামনি বলে, ঠিক আছে। তুই তাহলে সেটাই কর। সেই জিনটা তখন তার বাকি ছয়জন সাথীকে নিয়ে আমার বাবার শরীর থেকে দূরে সরে যায়। জেগে ওঠে আমার বাবা। আমার বাবা ঘুম থেকে জাগার পরেই কান্না করতে শুরু করে।


আমার মা আমার বাবাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। বাবা কান্না করতে করতে আমার মাকে বলে, আমাকে তারা অনেক ভয় দেখাচ্ছে। আমি কোনোভাবেই ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারছি না। আমাকে তোমরা বাঁচাও।


আমার মা তখন বাবাকে বলে, "তুমি ভয় পেয়ো না। আমরা তো তোমার সাথে আছি। আর দেখো, তোমাকে আমরা আমার বোনের কাছে নিয়ে এসেছি। সে তোমাকে অবশ্যই এই বিপদের হাত থেকে বাঁচাবে।" আমার বাবা তখন খালামণিকে তার কাছে ডাকে। খালামণি তার পাশে গিয়ে বসে। বাবা খালামণিকে বলে, "রত্না বোন আমার, আমাকে মাফ করে দিস। তোর সাথে আমরা অনেক অন্যায় করেছি। এতগুলো বছর তোর সাথে কোনো যোগাযোগ করিনি।


আমাকে তুই মাফ করে দিস বোন।" খালামণি তখন বাবাকে বলে, "ছি ছি দুলাভাই! কি বলছেন এগুলো? আমি আপনার ওপরে রাগ করিনি। আর শুনুন, আপনার কিচ্ছু হবে না। এই কালো জাদু আমি নষ্ট করবোই করবো।" বাবা তখন খালামণির হাত দুইটি ধরে কান্না করে দেয়। আর তাকে বলে, "তুই জানিস বোন, স্বপ্নের মাঝে তারা আমাকে অনেক ভয় দেখায়। আমি বারবার ঘুম থেকে জেগে ওঠার চেষ্টা করি, কিন্তু কোনোভাবেই ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারি না।


তুই আমাকে বাঁচা বোন।" এরই মাঝে সেই জ্বিনগুলো আবারো আমার বাবার ভেতরে প্রবেশ করে। সাথে সাথেই আমার বাবা আবারো ঘুমিয়ে পড়ে, মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। खाলামণি উঠে দাঁড়ায়। আর আমার মাকে বলে, "আপু, তুই কান্না করিস না। আমার ওপরে ভরসা কর।" খালামণি সেই ঘরে থাকা সেই দুইজন লোককে আদেশ করে, "যাও, দুলাভাইকে ধরে শোয়ার ঘরে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও।" সেই দুইজন ব্যক্তি তখন আমার বাবাকে ধরে শোয়ার ঘরে নিয়ে যায়।


খালামণি আমাকে আর আমার মাকে বলে, "তোমরা আসো। কান্না থামাও, আমি তো আছি। সারাটা দিন নিশ্চয়ই কিচ্ছু খাওনি। আসো, একসাথে আজকে রাতের খাবার খাবো।" আমি, খালামণি আর মা একসাথে রাতের খাবার খাই। তারপর মা চলে যায় বাবার ঘরে ঘুমাতে। খালামণি আমাকে একটা ঘর দেখিয়ে দেয় রাতে থাকার জন্য। আর আমাকে বলে, "অভি, ভেবেছিলাম তোর সাথে আর কখনোই দেখা হবে না। সেই ছোট্ট থাকতে তোকে দেখেছিলাম।


তুই আমাকে মা মা বলে ডাকতি। তোকে দেখে ভালোই লাগছে। শোন অভি, কান্না করবি না একদম। নিজেকে শক্ত কর। তোর মাকে বোঝা। আমি তো আছি। আগামীকালই তুই কিন্তু তোর বাড়িতে যাবি। সেই প্রথম চারটি তাবিজ তুই উদ্ধার করে নিয়ে আসবি।" আমি তখন খালামণিকে বলি, "কিন্তু খালামণি, আমি তো জানি না আমাদের বাড়ির চারপাশে কোন কোন জায়গায় তাবিজ পোঁতা আছে।


খালামণি তখন বলে, "কিভাবে তুই জানতে পারবি, সেটা আমি তোকে বলে দেবো। এখন যা, আজকের রাতের মতো ঘুমিয়ে পড়। সকালে এই বিষয়ে কথা বলবো। অনেক রাত হয়ে গেছে।" খালামণি আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তার ঘরে চলে যায়। আমিও দরজা বন্ধ করে বিছানায় চলে আসি ঘুমানোর জন্য। আমার একটা খুবই বাজে স্বভাব ছিল—নতুন কোনো জায়গায় প্রথম রাতে কোনোভাবেই আমি ঘুমাতে পারতাম না। তাই সেদিন রাতেও আমি অনেক চেষ্টা করার পরেও ঘুমাতে পারছিলাম না। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছিলাম।


এভাবেই মধ্যরাত পার হয়ে যায়। হুট করেই আমার কানে আমি নূপুরের শব্দ শুনতে পাই। হালকা নূপুরের শব্দটা যেন বাইরে থেকে আসছে। আমি বিছানায় উঠে বসি। ভালো করে শোনার চেষ্টা করি আসলেই কি নূপুরের শব্দ শুনতে পাচ্ছি, নাকি আমার মনের ভুল? আমি চুপটি করে সেই শব্দটা শোনার চেষ্টা করি। ধীরে ধীরে সেই শব্দটা আরো তীব্র হতে শুরু করে। কেউ একজন বাড়ির আশেপাশে নূপুর পায়ে হাঁটাহাঁটি করছে। আমি বিছানা থেকে উঠে সেই রুমের বারান্দায় চলে যাই।


বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি চারিপাশে দেখার চেষ্টা করি কেউ কি বাড়ির আশেপাশে নূপুর পায়ে ঘোরাফেরা করছে কিনা। আমি চারিপাশে সেই অজানা মানুষটাকে খুঁজছিলাম। ঠিক তেমন সময় আমি দেখতে পাই বাড়ির দরজার সামনে, সেই তালগাছের গোড়ায় একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চাঁদের আলোতে তাকে আমি আবছা আবছা করে দেখতে পাচ্ছিলাম। তার পরনে একটা সাদা সুন্দর পোশাক। চাঁদের আলোতে তার পোশাকটা দেখা গেলেও তার চেহারাটা আমি এত দূর থেকে দেখতে পাচ্ছিলাম না।


তবে এটা বুঝতে পারছিলাম সেই মেয়েটি আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ধীর পায়ে আস্তে আস্তে অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। মেয়েটি চলে যাওয়ার পর আমি তাকে নিয়ে ভাবতে থাকি, এত রাতে এই মেয়েটি কোথা থেকে এলো? ভাবতে ভাবতে চারিপাশে ফজরের আজান দিয়ে দেয়। আজানের পর আমি ফজরের নামাজ পড়ে বাবার জন্য উপরওয়ালার কাছে সাহায্য চাই।


তারপর কিছুটা ঘুমিয়ে নেই। সকাল ৯ টার সময় খালামণি আমার ঘরে আমার জন্য চা নিয়ে আসে। সে আমাকে ঘুম থেকে ডাকে। কিন্তু সারারাত অঘোরে ঘুমা আমি, এত সহজে কি আর ঘুমটা ভাঙে? খালামণি আমাকে বেশ কিছুক্ষণ ডেকে আমার ঘুমটা ভাঙায়। আমি উঠে বসি। তখন খালামণি আমাকে বলে, "কীরে, তোর চোখ দুইটি লাল কেন? রাতে ঘুম হয়নি?" আমি তখন খালামণিকে বলি, "খালামণি, তুমি জানো? রাতের বেলায় আমি নূপুরের শব্দ পেয়েছিলাম।


আর সেটা দেখার জন্যই আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। ওই তালগাছের সামনে একটা মেয়েকে আমি দেখতে পেয়েছিলাম। মেয়েটি আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল। তারপর হুট করেই সেখান থেকে অন্ধকারের দিকে হাঁটতে হাঁটতে চলে যায়।" খালামণি আমার মুখে এই কথা শুনে আমাকে বলে, "দেখ অভি, তুই এই বাড়িতে প্রথম এসেছিস। তাই অনেক কিছুই জানিস না।


সেই মেয়েটি তোর খুবই কাছের একজন আত্মীয়।" খালামণির মুখে এই কথা শুনে আমি তাকে বলি, "আমার আত্মীয় হয়? কে হয় খালামণি?" ঠিক তেমন সময় আমার মায়ের ঘর থেকে একটা চিৎকার ভেসে আসে। খালামণি আর আমি দৌড়ে চলে যাই সেই ঘরে। আমি দেখতে পাই মা বাবাকে ধরে অঝোরে কান্না করছে।


খালামণি মায়ের কাছে জানতে চায়, "কীরে আপু, কি হয়েছে? এভাবে কান্না করছিস কেন?" আমার মা তখন আমাকে আর খালামণিকে বলে, "দেখ, ওর মাথার চুল সবগুলো এক রাতের মাঝেই পেকে গেছে।" মায়ের কথা শুনে আমি আর খালামণি বাবার দিকে তাকাই। দেখতে পাই সত্যিই তো, এক রাতের মাঝেই আমার বাবার ঘন কালো চুল সবগুলো সাদা হয়ে গেছে।


খালামণি এই দৃশ্য দেখে আমাদেরকে বলে, "সর্বনাশ করেছে! এর মানে সেই কালো জাদুর মেয়াদ খুব তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছে। যা করার এক সপ্তাহের মধ্যেই করতে হবে। যদি এক সপ্তাহের মধ্যে সেই সকল তাবিজ আমরা উদ্ধার না করতে পারি, তাহলে তোর বাবাকে আর বাঁচাতে পারবো না অভি। শোন অভি, তুই এখনই এখান থেকে বের হয়ে ঢাকায় তোদের বাড়িতে চলে যাবি।


আর হ্যাঁ, মধ্যরাতেই সেই তাবিজ চারটি উদ্ধার করতে হবে।" আমি খালামণিকে আবারো বলি, "কিন্তু খালামণি, তুমি তো বলে দিলে না কিভাবে আমি বুঝতে পারবো বাড়ির কোন কোন জায়গায় সেই তাবিজগুলো লুকানো আছে?" খালামণি তখন আমাকে বলে, "তুই একটা মিনিট দাঁড়া, আমি এখনই আসছি।" এই কথা বলে খালামণি সেই ঘরটায় চলে যায়, যে ঘরে গতকাল সেই জ্বিনটাকে খালামণি স্মরণ করেছিল। দুই থেকে তিন মিনিট পর খালামণি সেই ঘর থেকে বের হয়ে আসে। তার হাতে একটা কালো পুটুলি।


পুটুলিটা আমার হাতে দিয়ে বলে ,,,


খালামণি কি বলল আর আমি কি পারব প্রথম চারটি তাবিজ উদ্ধার করতে ?

আজ বিদায় নিলাম আল্লাহ হাফেজ ❤️



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ