গল্প_খালাতো বোন যখন পরী
শেষ পর্ব
#লেখক_আরিয়ান_অভি
কাল থেকে এই পেজে আর কোনো গল্প আসবে না
তাই যারা জ্বীন পরীর গল্প পড়তে চান আমার নতুন পেজটা ফলো করে রাখুন সেখানেই আমার লেখা সকল গল্প আসবে।
এটা আমার নতুন পেজের লিংক এখানে টাচ করুন
লেখক রোমান্টিক =আরিয়ান অভি
চলুন এবার গল্পে ফিরে যাক ।
আমার মুখে এসব কথা শুনে অহনা পরী বুঝতে পারে কিছুটা হলেও যে আমি তাকে ভালোবাসি।
ঠিক আছে অভি এখন থেকে তোমাকে নাম ধরেই ডাকবো আমি তাহলে আসি ওইদিকে তোমার খালা মনে ঘুম থেকে উঠে গেলে আমার খবর আছে
আল্লাহ হাফেজ।
এভাবেই প্রতি রাতে আমি ছাদে উঠে অহনা পরীর সাথে কথা বলতে শুরু করি। একদিন রাতে আমি অহনা পরীকে আমার মনের কথা বলে দেই। আমি যখন তাকে বলি আমি তাকে ভালোবাসি, তখন অহনা পরী আমাকে বলে, "আমি এই বিষয়টা অনেক আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম যে তুমি আমাকে পছন্দ করো। কিন্তু অভি, তুমি আমার খালাতো ভাই।
তাছাড়া তুমি একজন মানুষ। তোমার জগত আর আমার জগত অনেক ভিন্ন। আমি চাইলেও তোমাকে ভালোবাসতে পারি না। তোমার মা, মানে আমার খালা কখনোই আমাদের সম্পর্ক মেনে নেবে না।"
আমি তখন অহনা পরীর হাত দুইটি ধরে তাকে বলি, "সবাইকে রাজি আমি করাবো। খালামণিকে, আমার বাবা-মাকে, তোমার বাবাকে, সবাইকে। কিন্তু তুমি আমাকে কষ্ট দিও না। দয়া করে আমার ভালোবাসা গ্রহণ করো।"
অহনা পরী আমাকে বলে, "ঠিক আছে। এই বিষয়ে আমি আরো দুইটা দিন ভাবি, তারপর তোমাকে আমি জানাবো।" এই কথা বলে অহনা পরী আবারও আমার চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এভাবেই আরও দুইটা দিন পার হয়ে যায়।
তিন দিনের সময় অহনা পরী আমাকে বলে, "জানো অভি, আমারও মনে হয় আমি তোমাকে ভালোবাসি। কেননা এই দুইটা দিন যে আমি তোমার সাথে দেখা করতে আসিনি, আমি অনুভব করতে পেরেছি আমি তোমাকে কতটা মিস করেছি। তাই আজকে আমার বলতে আর কোনো দ্বিধা নেই যে তোমার ভালোবাসা আমি স্বীকার করছি আর তোমাকেও আমি ভালোবাসি।"
আমি তো অহনা পরীর মুখে এই কথা শুনে অনেক বেশি খুশি হই আর তাকে জড়িয়ে ধরে তার কপালে একটা চুমু দিয়ে বলি, "সারা জীবন তোমার হাত আমি শক্ত করে ধরে রাখবো। কেউ কোনোদিন আমাদের হাত বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।" এভাবেই শুরু হয় আমার খালাতো বোন অহনা পরীর সাথে আমার ভালোবাসার সম্পর্ক। ধীরে ধীরে আমাদের এই মধুর সম্পর্ক আরো গভীর হতে শুরু করে।
এক মাস পার হয়ে যায়। একদিন রাতে অহনা পরী আমার সাথে দেখা করতে আসে। আজকে তাকে খুবই চিন্তিত মনে হচ্ছিল। চেহারায় কোনো হাসি নেই। সেই সুন্দর মায়াবী চেহারাটা কালো হয়ে আছে। সে মন খারাপ করে আমার কাছে এসে বলে, "অভি, আমার দেয়া সেই জাদুর ময়ূরের পাখাটা আমাকে ফিরিয়ে দাও।"
তার মুখে এই কথা শুনে আমি অবাক হয়ে তাকে বলি, "কেন? সেই জাদুর পাখা কেন ফিরিয়ে দেব?"
অহনা পরী আমাকে বলে, "এত কিছু বলতে পারব না। আমার পাখা আমাকে ফিরিয়ে দাও।" আমি তখন সেই জাদুর পাখা তাকে ফিরিয়ে দেই। পাখাটা তার হাতে পেতেই সে কিছু না বলেই হঠাৎ করে চোখের সামনে অদৃশ্য হয়ে যায়। সে এমনটা কেন করল আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমি অনেকবার তাকে স্মরণ করি, কিন্তু অহনা পরী সে রাতে আমার সাথে আর দেখা করতে আসে না।
পরের দিন সকালেই আমি খালামণিকে ফোন দেই আর তার কাছে জানতে চাই, অহনা পরীর কি কিছু একটা হয়েছে?
খালামণি তখন আমাকে বলে, "হ্যাঁ, তার বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছে। আমি আজই তোদেরকে ফোন দিয়ে জানাতাম। আসলে তাদের জগতে তার বাবার এক বন্ধুর ছেলের সাথেই তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। কিন্তু তুই কি করে জানলি যে অহনা পরীর কিছু একটা হয়েছে কিনা?"
আমি তখন আর কোনো কিছু লুকাতে পারি না। না চাইতেও আমি তখন তাকে বলে দেই আমি আর অহনা পরী একে অপরকে কতটা ভালোবাসি, এই কয়দিন যে আমরা একে অপরের সাথে দেখা করেছি, আমাদের ভালোবাসা কতটা গভীর—সবকিছু। আমার মুখে সবকিছু শুনে আমার খালামণি আমাকে বলে, "দেখ অভি, তুই আমার বোনের ছেলে। আমি যদিও তোকে অনেক পছন্দ করি, তোদের ভালোবাসার সম্পর্ক আমি মেনে নিলেও আমার স্বামী, তোর খালুজান কখনোই এই সম্পর্ক মেনে নেবে না। তাই সব থেকে ভালো হবে তুই অহনা পরীকে ভুলে যা।"
আমি কান্না করতে করতে ফোনে তখন খালামণিকে বলি, "এটা সম্ভব না। আমি তাকে অনেক বেশি ভালোবাসি আর আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম সবাইকে আমি রাজি করব। খালুজানকে আমি বোঝাবো যেন আমাদের ভালোবাসা মেনে নেয়।"
খালামণি তখন আমাকে বলে, "তোর খালু এই জগতে আসতে পারবে না। কেননা সে অনেক শক্তিশালী একটা সম্রাট। তার কাঁধে অনেক দায়িত্ব। আগামী সপ্তাহে বিয়ের দিন রাতে আমাকেও সেখানে যেতে হবে। তাই তোর হাতে এক সপ্তাহ সময় আছে। তোকে আজকে রাতেই সেই জগতে যেতে হবে। সেই জগতে গিয়ে তোর খালুজানকে বোঝাতে হবে যেন তোদের ভালোবাসা সে মেনে নেয়।"
আমি তখন খালামণিকে বলি, "কিন্তু আমি একটা মানুষ হয়ে সেই জ্বীনদের জগতে কীভাবে যাব?"
খালামণি তখন আমাকে বলে কীভাবে মানুষের জগত থেকে জ্বীনদের জগতে আসা-যাওয়া করা যায়। খালামণি আমাকে একটা জায়গার নাম বলে, যে জায়গাটা ছিল পাহাড়ি এলাকায়। সেখানে একটা বিশাল নদী ছিল। সেই নদীতেই নাকি একটা অলৌকিক নৌকা চলাচল করে, যে নৌকাটা গভীর রাতে পানির নিচ থেকে ভেসে ওঠে। সেই নৌকার মাঝিই মানুষদেরকে এই জগত থেকে ওই জগতে নিয়ে যেতে পারে। খালামণি আমাকে বলে সেই জায়গায় গিয়ে নৌকার অপেক্ষা করতে।
গভীর রাতে যখন সেই নৌকাটা ঘাটে ফিরে আসবে, তখন সেই নৌকায় উঠে বসতে আর সেই নৌকার মাঝিকে খালামণির পরিচয় বললেই নৌকার মাঝি আমাকে তাদের জগতে নিয়ে যাবে। খালামণি আমাকে বলে, "কিন্তু সাবধান! আমি সেই জগতে গিয়ে যেন তাড়াহুড়ো না করি। কারণ সেই জগতে কোনো মানুষ বসবাস করে না, যেকোনো জ্বীন আমাকে হত্যা করতে পারে। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে যে করেই হোক আমি যেন আমার খালুজানের সাথে সর্বপ্রথম দেখা করি। তারপর তাকে বিস্তারিত খুলে বলি। সে যদি রাজি হয় তাহলেই যেন আমি সেই রাজ্যে অপেক্ষা করি, খালামণি এসে বাকি কথা বলবে। তবে খালুজান যদি কোনোভাবেই আমাদের সম্পর্ক মেনে নিতে না চায়, তাহলে যেন আমি কোনো কিছু না ভেবে আবারও আমাদের জগতে ফিরে আসি।"
খালামণির সকল শর্তে আমি রাজি হয়ে যাই আর তাকে বলি, "ঠিক আছে খালামণি, আমি এমনটাই করব। তুমি চিন্তা করো না।"
সেদিন বিকেলেই আমি ব্যাগপত্র গোছগাছ করে গাড়িতে উঠে পড়ি। আমি সেখানে যাচ্ছি, সেই জায়গায়, যে জায়গার কথা খালামণি আমাকে বলেছিল। সেখানে আসতে আসতে সন্ধে নেমে আসে। আমি গাড়ি থেকে নেমে ঘন জঙ্গল ধরে ভেতরের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করি। কিছুটা বন-জঙ্গল পাড়ি দেয়ার পর একটা ছোট উঁচু পাহাড় আমি দেখতে পাই। সেই পাহাড় পাড়ি দিয়ে আমি এসে দাঁড়াই একটা নদীর পাড়ে। নদীর পাড়ের চারিপাশে ঘন জঙ্গল।
বিশাল এই নদীর পাড়ে আমি অপেক্ষা করতে শুরু করি— সেই অলৌকিক নৌকাটা কখন ঘাটে আসবে। এভাবেই রাত দুইটা বেজে যায়। চারিপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, দূর থেকে শেয়াল ডাকাডাকি করছে। আশেপাশে কোনো ঘন বসতি নেই। আমি ভয় পাচ্ছিলাম না, কেননা যে করেই হোক আমাকে নদীর ওপারে যেতেই হবে। খালুজানকে বোঝাতেই হবে যে আমাদের ভালোবাসা কতটা পবিত্র
দেখতে দেখতেই মধ্যরাত হয়ে আসে। সেই জাদুর নৌকা নদীর মাঝখানে ভেসে ওঠে— একটা কাঠের নৌকা। আর সে নৌকাটাকে বাইছে একজন বৃদ্ধ মাঝি। সেই বৃদ্ধ মাঝি নৌকাটাকে পাড়ে নিয়ে আসে। সে আমাকে দেখে মোটেও অবাক হয়নি। আমার সাথে কোনো কথা বলছিল না, যেন সে আমাকে দেখেও দেখতে পাচ্ছিল না।
আমিও কোনো কথা না বলেই সেই নৌকায় উঠে বসি আর মাঝির কাছে গিয়ে আমার খালামণির পরিচয় দেই। এটা বলি, আমি তাদের জগতে তাদের মহারাজ আমার খালুজানের সাথে দেখা করতে চাই, আমাকে যেন নদীর ওপারে তাদের জগতে নিয়ে যায়। মাঝি ইশারায় আমাকে দেখিয়ে দেয় নৌকার ভেতরে সেই ছনের মাঝে ঢুকে পড়তে। আমি নৌকার মাঝখানে সেই কাঠের ছনে ঢুকে পড়ি। মাঝি নৌকা চালাতে শুরু করে। সে আমাকে মোটা একটা কণ্ঠে বলে, "চোখ দুইটি বন্ধ করে ফেলো।"
আমি তার কথা মতো আমার চোখ দুইটি বন্ধ করে ফেলি। নৌকা চলছে, কিন্তু আমার মনে একটা অজানা ভয়। জ্বীনদের জগতে আমি কীভাবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে...অহনা পরী কে নিয়ে আসব ।
প্রথম সিজনের গল্পটা এতটুকুই ছিল
আপনারা সবাই চাইলেন অবশ্যই এই গল্পের দ্বিতীয় সিজন লেখব যেখানে থাকবে অভি কি করে অদৃশ্য জগৎ থেকে তার ভালোবাসাকে ফিরিয়ে আনবে
সে সব কিছু তবে সেটা এই পেজে আসবে না
আমার নতুন পেজে আসবে ।
তাই সবাই এখনি আমার নতুন পেজটাকে ফলো দিয়ে আসুন ।
আর কমেন্ট করে আপনাদের সকলের মতামত জানিয়ে দিন।
আমি লেখক আরিয়ান অভি বিদায় নিলাম আল্লাহ হাফেজ!
0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য 😊 আপনার কমেন্ট আমাদের উৎসাহ দেয়।