গল্প _খালাতো বোন যখন পরী
পর্ব (৪)
#লেখক_আরিয়ান_অভি
সেই পুটলিটা খালামনি আমার হাতে দেয় আর বলে এই পুটলির ভেতরে মরা মানুষের কঙ্কালের কিছু ছাই আছে। তুই একটা কাজ করবি এই ছাই গুলো বাড়ির চারিপাশে ছিটিয়ে দিবি। আর মাটিতে যেসব জায়গায় তাবিজ আছে সেখানে এই ছাই গুলো পড়তেই রক্তের মত লাল হয়ে যাবে। আর তুই বুঝতে পারবি সেখানেই তাবিজ লুকানো আছে।
আমি তখন খালামনি কে বলি আচ্ছা খালামনি এই তাবিজগুলো উদ্ধার করতে গেলে আমাকে আবার সেই জিন গুলো ক্ষতিকরবেনা তো?
খালামনি তখন বলে সেই সাতটি জিন তোর বাবার শরীরে আছে। তারা তোর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু সেই তাবিজের পাহাড়ায় কিছু জিন তোদের বাড়ির চারিপাশে ঘোরাফেরা করছে সেই তান্ত্রিকের আদেশে।
আমি তো এই কথা শুনে বেশ ভয় পেয়ে যাই। খালামনি কে বলি আমাকে যদি তারা মেরে ফেলে?
খালামনি তখন আমার হাতে একটা তাবিজ বেঁধে আমাকে বলে তারা তোকে মারতে পারবে না কিন্তু দূর থেকে ভয় দেখাতে পারবে। তুই ভয় পাস না। আর হ্যাঁ সেখানে তুই একা থাকবি না। তোকে সাহায্য করার জন্য আরেকজন থাকবে।
আমি খালামনি কে বলি কার কথা বলছো তুমি?
খালামনি বলে সেটা তুই সময় এলেই দেখতে পারবি। এখন বের হয়ে যা। ঢাকায় যেতে যেতে রাত হয়ে যাবে।
আমি খালামনি আর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তখনই দিনাজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করি। ঢাকায় আসতে আসতে আমার রাত ১০টা বেজে যায়। কিন্তু তখনই আমি বাড়িতে যাই না। আমি অপেক্ষা করতে থাকি কখন মধ্যরাত হয়ে যাবে। আমি আমার এলাকার চারিপাশে হাঁটাহাঁটি করতে শুরু করি। ধীরে ধীরে ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে শুরু করে। আস্তে আস্তে রাত ১টা বেজে যায়। আমি ধীর পায়ে আমার বাড়ির কাছে যাই।
বাড়ির দরজার সামনে দারোয়ান চাচা আমাকে দেখে আমাকে বলে এত রাতে ভাতিজা তুমি কোথা থেকে এলে?
আমি চাচাকে বলি চাচা অনেক দরকারে এসেছি। চাপুন আমাকে ভেতরে যেতে দিন। আমি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করি।
চাচা আমাকে বলে আমি কি আসবো?
আমি বলি না চাচা আপনি গেটেই বসে থাকুন। যা করার আমাকে একাই করতে হবে।
আমার বাবা-মা গাছপালা খুবই পছন্দ করে তাই বাড়ির চারিপাশে অনেক সুন্দর সুন্দর ফুল গাছ লাগানো। আমি চারিপাশে সেই কালো পুটলি থেকে ছাই গুলো ছিটিয়ে দিচ্ছিলাম। কিন্তু কোথাও আমি তাবিজের সন্ধান পাচ্ছিলাম না। এভাবেই পুরো বাড়িতে ঘুরে ঘুরে আমি ছাই গুলো ছিটিয়ে দিচ্ছিলাম।
আমি একটা সময় লক্ষ্য করি আমাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে মোটা একটা আম গাছের নিচে ছাই গুলো পড়তেই সেখান থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে। মাটির ভেতর থেকে এভাবে রক্ত বের হতে দেখে আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু নিজেকে সামলিয়ে আমি বুঝতে পারি সেখানেই আছে প্রথম তাবিজটা। আমি মাটি খুঁড়তে শুরু করি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আম গাছের গোড়া থেকে আমি একটা কালো সুতোয় বাঁধা তাবিজ উদ্ধার করি।
তারপর আমি দ্বিতীয় তাবিজটা খুঁজতে শুরু করি। এভাবেই ধীরে ধীরে আমি দ্বিতীয় তাবিজটাকেও খুঁজে পাই। কিছু ফুল গাছের মাঝখানে আমি যখন সেই ছাই গুলো ছিটিয়ে দেই তখনই মাটি থেকে আবারো আগের মত করে রক্ত বের হতে শুরু করে। সেখানে খোদাই করে দ্বিতীয় তাবিজটাও উদ্ধার করে ফেলি। তারপর তৃতীয় তাবিজটাও আমি উদ্ধার করতে পারি। কিন্তু শেষ তাবিজটা আমি কোনভাবেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
তখনি কেউ যেন একটা আমার কানের কাছে বলল বাড়ির বাইরে না, ঘরের মাঝে তোমার বাবার বালিশের ভেতরে লুকানো আছে।
আমি চারিপাশে তাকাই কিন্তু কাউকে দেখতে পাই না। কে? কেউ কি আছো? কে কথা বলল? কণ্ঠটা একটা মেয়ের ছিল কিন্তু আশেপাশে আমি কোন মেয়েকেই দেখতে পাই না। আমি অনেকক্ষণ বাড়ির বাইরে খুঁজে শেষমেষ উপায় না পেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেই।
দরজা খুলে আমি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করি। তারপর আমি বাবার ঘরে যাই। বাতিগুলো আমি জ্বালিয়ে দেই যেন আমি ভয় না পাই। বাবার বালিশে আমি সেই কিছু ছাইয়ের অংশ ছিটাতেই বাবার বালিশটা রক্তে ভিজে যায়। আমি বুঝতে পারি আসলেই সেই অদৃশ্য কণ্ঠটা ঠিকই বলেছিল। শেষের তাবিজটা তো এখানেই লুকানো আছে। আমি বালিশের ভেতর থেকে সেই তাবিজটা উদ্ধার করি।
তারপর যখন ঘর থেকে বের হতে যাব ঠিক তেমনি সময়ে বাড়ির সকল লাইটগুলো নিজে থেকেই অফ হয়ে যায়। আর ঘরের মেইন দরজাটা বাইরে থেকে ধুপ করে লেগে যায়। আমি জোরে জোরে দারোয়ান চাচাকে ডাকছিলাম কিন্তু সে আমার কোনো কথাই শুনতে পাচ্ছিল না। ঠিক তখনই ঘরের বাতিগুলো আবারো জ্বেলে ওঠে। আমি হাঁপাতে হাঁপাতে ভাবি এখন বোধহয় সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। আমি ঘরের বাইরে আসার জন্য দরজায় হাত রাখি। কিন্তু দরজাটা এখনো বাইরে দিয়ে লাগানো। আমি অনেক চেষ্টা করি দরজাটা খুলতে কিন্তু দরজাটা আমি কোনভাবেই খুলতে পারছিলাম না।
এমন সময় পেছন থেকে আমার বাবা-মার কণ্ঠস্বর আমি শুনতে পাই। সাথে সাথে আমি পেছনে ঘুরে তাকাই আর দেখতে পাই বাবা-মা তাদের ঘরে ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছে। তবে তাদের কোনো কষ্ট হচ্ছে না। তারা আমার দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে হাসছে। আমি বুঝতে পারছিলাম না এখন আমি কি করব।
আমার চোখের সামনে আমি যা দেখছি এগুলো কি সত্য নাকি কোন মায়া এটাও আমি বুঝতে পারছিলাম না। আমার বোধহয় হার্টবিট অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছিল। আমি এখনই বোধহয় হার্টঅ্যাক্ট করে মারা যাব।
ঠিক তেমন সময়ে এক জোড়া নরম হাত পেছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে। আর আমাকে বলে অভি ভাইয়া আমি চলে এসেছি। তুমি ভয় পেয়ো না। চোখের সামনে যা দেখছো সবই তোমার কল্পনা। এটা হচ্ছে মায়া। সেই খারাপ জিনগুলো তোমাকে ভয় দেখিয়ে মারার চেষ্টা করছে। নিজেকে শান্ত করো। হার্টবিট কমে যাবে। আমাকে ভয় পেতে হবে না। আমি তোমার খালাতো বোন।
এই কথা বলে সেই মেয়েটি তার দুই হাতে একটা তালি দেয়। সাথে সাথে ঘরের বাতিগুলো আবারো বন্ধ হয়ে যায়। এক মিনিটের মধ্যেই আবারো সকল বাতি নিজে থেকেই চালু হয়ে যায়। এবার পুরো ঘরটা ফাঁকা। আমি কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলাম না। না ছিল আমার বাবা-মার মত দেখতে সেই ভয়ঙ্কর অবয়বগুলো, না ছিল সেই মেয়ে কণ্ঠ। দরজাটা নিজে থেকেই আবার খুলে যায়। আমি বের হয়ে আসি আমার বাড়ি থেকে।
দারোয়ান চাচার কাছে এসে আমি রাগান্বিত হয়ে তাকিয়ে তাকে বলি চাচা আপনাকে আমরা কত ভালো জানি। মাসে মাসে মাইনেটাও তো ঠিকঠাক ভাবে দিয়ে দেই। কিন্তু আপনি এই বিপদের দিনে আমাকে বাঁচাতে এলেন না?
দারোয়ান চাচা আমার মুখে এসব কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে আমাকে বলে অভি ভাতিজা তুমি কি বলছো? আমি তো তোমার কোনো কথাই শুনতে পাইনি। তুমি কখন আমাকে ডাকলে?
আমি বুঝতে পারি দারোয়ান চাচা হয়তোবা সত্যিই আমার কোনো ডাক শুনতে পায়নি। আমি আর তার সাথে কোনো কথা বলি না। শুধু বলি বাড়ির ভালো করে দেখাশোনা করবেন। খুব তাড়াতাড়ি বাবা-মাকে নিয়ে আমি আবার ফিরে আসবো। কথাটা বলে আমি আবারো দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা করে দেই। আমার ব্যাগে সেই চারটি তাবিজ। যে তাবিজগুলো আমি কিছুক্ষণ আগেই উদ্ধার করেছি।
সকাল হতেই আমি আবারো খালামনির বাড়িতে ফিরে আসি। খালামনিকে আমি গতকাল রাতে যা যা ঘটেছে আমার সাথে সবকিছু খুলে বলি। খালামনি সবটা শুনে আমাকে বলে দেখ অভি সেই জিনগুলো তোকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু সঠিক সময়ে তোর খালাতো বোন তোকে বাঁচিয়ে ফেলেছে।
আমি খালামনির মুখে এই কথা শুনে অনেক বেশি অবাক হই আর তাকে বলি খালাতো বোন মানে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তুমি কি বলছো খালা?
খালা তখন বলে বাকিটা না হয় তুই তোর মায়ের কাছে শুনবি। এখন তাবিজগুলো দে।
তারপর_____next --------
0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য 😊 আপনার কমেন্ট আমাদের উৎসাহ দেয়।