তুমিময় মরীচিকা

তুমিময় মরীচিকা

তুমিময় মরীচিকা

হাসিস না তো তোর ভাং*ঙ্গা দাঁতের ভ*য়ংক*র হাসি দেখলে আমার ভয় লাগে জবার কথা শুনে জুঁইয়ের হাসি হাসি মুখটা নিমিষেই আঁধার এসে ভর করলো। জুঁই আর ওখানে দাঁড়ালো না ছলছল চোখে দৌড়ে বেড়িয়ে গেলো বাড়ি থেকে। সময়টা তখন ঠিক দুপুর গ্রামের রাস্তাঘাট ফাঁকা কাকপক্ষীটির দেখা নেই। জুঁই নদীর চরে হিজল গাছের ছায়ার নিচে বসে রইলো। চোখ দিয়ে তখনো পানি পড়ছে। সে কান্নার কোনো শব্দ নেই নিঃশব্দে বোবা কান্না।
এই তো গত বছর কলপাড়ে পিছলিয়ে পড়ে গিয়ে সামনের দাঁত ভাংঙ্গলো। সেই থেকে হাসলেই সবাইকে জুঁইকে নিয়ে হাসাহাসি করে। কত কটুক্তি হজম করেছে। কিন্তু প্রতি বারই ওর এমন কান্না পায়। কিন্তু আজ যখন শুনলো বড়বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে বড়লোক ছেলের সাথে তাই তো তখন জুঁই হাসি হাসি মুখে জবাকে জিজ্ঞেসা করেছিল
--আপা তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে ওরা তো মেলা বড়লোক তোমাকে সুখী রাখবে। তুমি বিয়ে তে খুশি তো?
জবার মনমেজাজ খারাপ তাই তো তখন ক্ষিপ্ত হয়ে উপরোক্ত কথাটি বলেছে। জবা কখনো জুঁইকে ভাংঙ্গা দাঁত নিয়ে কিছু বলে না উল্টে জবাই জুঁইকে শান্তনা দেয় অনেক কিছু বোঝায় জুঁই মনে জোর পাই। কিন্তু আজ জবার কাছে এমন কথা শুনে জুঁই ভেং*ঙ্গে গুঁড়িয়ে গেলো। তাই তো আজ এতো বেশি কষ্ট হচ্ছে।
--এই পিচ্চি তুমি কাঁদছো কেনো?
জুঁই চোখের পানি মুছে বলল
--আমি মোটেও পিচ্চি না ক্লাস নাইনে পড়ি মেলা বড় হইয়া গেছি।
রুহান নিভৃতে হাসলো বলল
--আচ্ছা তা বুড়ি আপনি কাঁদছিলেন কেনো শুনি?
জুঁই রেগে গেলো বলল
--আমি মোটেও বুড়ি না আপনি যান আপনার কাজে আমাকে কাঁদতে দিন
--আচ্ছা কাঁদো আসি
জুঁই এর এতোক্ষনে খেয়াল হলো। রুহান চেয়ারম্যানের ছেলে সেই সাথে দাঁতের ডাক্তার ও। জুঁই তারাতাড়ি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো রুহান বেশ কিছু দূর এগিয়ে গিয়েছে। জুঁই দৌড়ে গিয়ে রুহানের পথ আগলে দাড়িয়ে কাচুমাচু করে বলল
--ছোট সাহেব মাফ করিয়েন আমি ওমন ভাবে বলতে চাইনি। হয়ে গেছে। আপনি আম্মা রে কিছু বইলেন না আম্মা আমারে মা*র*বো
রুহান বুকে হাত গুঁজে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল
--তাই না-কি? আচ্ছা বলবো না।
--আপনি তো দাঁতের ডাক্তার তাই না?
--হুম। আর দাঁতের ডাক্তার কেমন শোনায় না ডেন্টিস বলতে পারো
--সে যায় হোক আচ্ছা এই দেখেন আমার সামনের দাঁত ভে*ঙে গেছে। দাঁত বড় হয় না ক্যান? আপনি আমারে দাঁত বড় করার ঔষধ দিবেন?
--দাঁত ভেঙে গেলে তো দাঁত বড় হয় না এর মেডিসিন ও নেই
--তাহলে আমার দাঁত কি হইবো? সারাজীবন এমন ভাং*ঙ্গা দাঁত নিয়ে থাকতে হবে?
--উহুম এখন তো দাঁত ডেনচার করা যায় মানে দাঁত খুলে কৃত্রিম দাঁত লাগানো যায়
জুঁই খুশি হয়ে গেলো পরমুহূর্তে টাকার কথা ভেবে নিভে গেলো।
--মেলা টাকা লাগবো না?
--হ্যাঁ তাতো লাগবেই
--ও। আপনি সাইজাগুইজা কই যান?
--ঢাকায় যাচ্ছি।
--আবার কবে আইবেন?
--ঠিক নাই। কেনো? আমাকে তোমার মনে পড়ে?
জুঁই সহজসরল মনে বলল
--হ্যাঁ। আইচ্ছা আপনি যান গা আপনারে কত দেরি করাই দিলাম
রুহানের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো। জুঁই চলে যেতে নিলেই রুহান বলল
--তোমার এই ভা*ঙ্গা দাঁতের জন্য মন খারাপ?
জুঁই মন খারাপ করে বলল
--হ্যাঁ। জানেন ছোট সাহেব সবাই আমার হাসিকে ভয়ংকর বলে, ভয় পাই, বিরক্ত হয়, হাসাহাসি করে আমার খুব কষ্ট হয়
রুহান জুঁইয়ের কথা মন দিয়ে শুনলো বলল
--এসব মিথ্যা কথা। তোমার হাসি সুন্দর।
--আমি জানি সাহেব আপনি আমারে মন ভুলানো কথা বলতেছেন
--উহুম আমি কখনো মিথ্যা বলি না। আচ্ছা আমি যদি তোমার দাঁত ঠিক করে দি মানে ডেনচার করে দি
--সে তো মেলা টাকা ওতো টাকা আব্বা দিতে পারবো না
--টাকা আমি ই দিবো
--আপনি ক্যান শুধু শুধু এতো গুলা টাকা দিবেন?
--শুধু শুধু ক্যানো দিবো তার বদলে তোমার আব্বার কাছ থেকে তার একটা দামী জিনিস চেয়ে নিবো
জুঁই ভয় পেয়ে বলল
--না না আমার ভাংঙ্গা দাঁত ই ঠিক আছে
রুহান হেসে উঠে বলল
--আচ্ছা থাকো তবে এবার আমার সত্যি ই দেরি হয়ে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে পরে ডিস্কাস করবো
১মাস পর রুহান গ্রামে এসেছে নদীর চরে হিজল গাছের ডালে জুঁইকে দেখে বলল
--এই দুপুর বেলা গাছে উঠেছ কেনো?
--সাহেব এই দেখেন আমার দাঁত ঠিক হয়ে গেছে। সেই খুশিতে গাছে উঠেছি
রুহান অবাক হয়ে বলল
--তাই না-কি? কিভাবে হলো?
--জাদু জাদু সবই জাদু। আপনি বাড়ি যান অনেক দূর থেকে আসছেন
রুহান মাথা হেলিয়ে চলে গেলো। জুঁই কে বেশি ঘেটলো না বড্ড টাইয়াড ও। রুহান খাওয়া শেষ করে বসে রয়েছে। মা-চাচি গল্প করছে কথায় কথায় বলল
--আহারে। জুঁই মেয়েটা কেমনে চলে গেলো ভাবলেই কষ্ট লাগতেছে
রুহান অবাক হয়ে বলল
--জুঁই মানে ঔ খালেদ চাচার ছোট মেয়ে?
--হ্যাঁ রে বাবা জানিস এক সপ্তাহ আগে মেয়েটার বড় বোন জবার বিয়ে ছিলো কিন্তু জবা প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে। ছোট মেয়েটাকে ওর বাপ-মা জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে বড় বোনের ঠিক করা বরের সাথে তারাও অনেক কথা শোনালে ভাংঙ্গা দাঁতের মেয়ে তারা নিবে না এসব শুনে মেয়েটা গ*লায় দ*ড়ি দিয়ে আ*ত্ম*হ*ত্যা করলো।
রুহানের রু*হু কেঁপে উঠল। চোখের কোণে পানি জমলো বিরবির করে বলল
--তুমি আমার কাছে মরীচিকা, মরীচিকায় রয়ে গেলে? দেখা দিও আরো একবার ছুঁতে না পারি তুমিময় মরীচিকা টাকে তো দেখতে পারবো।
~সমাপ্ত~
#তুমিময়_মরীচিকা [অনুগল্প]
#তাসনিম_তামান্না



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ