#উঁচকপালি_খুশবু||২||
#তাসনীম_তামান্না
এক ভাঙাচোরা মানুষকে তার অবস্থান জেনেও তাকে না বুঝে উল্টো সকলে মিলে যখন আবারও তাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে চাই। তখন সে আর কোনো রাস্তা পায় না একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়। খুশবুর ও তেমন অবস্থা কেউ তাকে বুঝতে চাই না। তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। সকলে যখন নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে ব্যস্ত সে এসব শুনতে শুনতে তিক্ত হয়ে উঠে চিৎকার দিয়ে বলল “কী সমস্যা তোমাদের? আমি একজন বিধবা সাতদিন হয়েছে আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। তোমরা আমার অবস্থা বুঝতে পারছো না। আমার কী এতো তাড়াতাড়ি তাকে হারিয়ে ফেলার কথা ছিলো? আমি তার সাথে পনেরো মাস সংসার করেছি। তাকে আমি ভালোবাসি। সে আমাকে যতোটা ভালোবাসে কেউ কখনো অমন ভালোবাসেনি আর বাসতেও পারবে না। তার জায়গায় আমি আর কাউকে বসাতে পারব না। আমি বিয়ে করব না। আমি একটু শান্তি দাও। আমি যদি তোমাদের বোঝা হয়ে থাকি তাহলে বলো চলে যায়। তোমরা থাকো। আমাকে নিয়ে এতোই যখন অসুবিধা। আমি আর নিতে পারছি না এসব। দোহাই লাগে আমাকে একা থাকতে দাও।”
কথাগুলো বলতে বলতে ও গলা ছেড়ে কাঁদতে লাগলো৷ খাদিজা বেগম কিছু বলতে নিলে সাইমন ইশারায় না করলো ওনি রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় আছে। আজ সে বেঁচে আছে কাল থাকবে না তখন মেয়েটার কী হবে কার ভরসায় পৃথিবীতে রেখে যাবে। ওনার সাথে রাজিয়া সুলতানা ও রিনাও বের হয়ে গেলো। সাইমন ওর মুখোমুখি বসে বলল “আমি তোমাকে বুঝতে পারছি সবাইকে বুঝিয়ে বলবো। আমি তোমার পাশে আছি খুশবু। কোনো দরকার হলে আমাকে একটা কল বা ম্যাসেজ দিও আমি হাজির হবো। কখনো নিজেকে একা ভাববে না। তুমি রেস্ট করো এসব এতো প্রেশার নিলে তোমার ও বেবি দুজনেরই ক্ষতি। আসছি নিজের খেয়াল রেখো।”
সে চলে গেলো। খুশবু বালিশের নিচ থেকে আয়মানের একখানা ছবি বের করে বুকের সাথে চেপে ধরে বলল “আয়মান, সবাই কেমন অপরিচিতদের মতো বিহেভিয়ার করছে সবাই পাল্টে গেছে। এতো সবাই থেকেও আমি একা কেনো তুমি আমাকে একা করে চলে গেলে? আমাকে কেনো সাথে নিলা না।”
খুশবু কাঁদতে কাঁদতে একসময় ঘুমিয়ে গেলো।
সাইমন রুমের বাইরে আসতেই খাদিজা বেগম ওর হাত চেপে ধরে বলল “সাইমন তুমি আমার মেয়েকে সত্যি বিয়ে করবে?”
–হ্যাঁ মামি। খুশবু রাজি থাকলে…
–হ্যাঁ, হ্যাঁ ও রাজি
রিনা বলল “আম্মা আপনার মেয়ে পাগলামি করছে দেখছেন না!”
–মামী, ভাবী তোমরা এখন খুশবুকে কোনো রকমের প্রেশার ক্রিয়েট করো না। এই শোকের ধকলটা কাটিয়ে উঠুক তারপর আস্তে ধীরে সব ভাবা যাবে। ওকে আমি রাজি করিয়ে নিবো। তোমরা এসব নিয়ে ভেবো না।
–আর বাচ্চা…
–সে আসুক পৃথিবীতে আমার সমস্যা নেই আমার সন্তান হয়ে থাকবে।
–তাহলে যে কথা রটবে। আর আপনাদের বাচ্চা হলে তখন এ বাচ্চাটার প্রতি গাফিলতি করে যে আমাদের ওপরে চাপিয়ে দিবেন তা কিন্তু মেনে নিবো না। তাই আগে থেকে সব ক্লিয়ার বলে দিলাম।
–ভাবি চিন্তা করবেন না। এমন কিছুই হবে না। আমি আপনাকে পরে বুঝিয়ে বলবো।
–কী বলবেন?
–এখন সময় নেই। বাসায় ফিরতে হবে কাজ আছে কিছু। আর মামি ভাবি তোমরা খুশবুর খেয়াল রেখো। মা চলো।
রাজিয়া সুলতানা থমথমে মুখে ছেলের সাথে সাথে সিএনজিতে উঠে বসলো। মায়ের মুখ দেখে আন্দাজ করতে পেরে বলল “মুখটা এমন করে আছো কেনো?”
–জানিস না কেনো! তুই অন্যর বাচ্চা কেন পালবি। খুশবুকে বিয়ে করবি তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বাচ্চা মানব না।
–আগে থেকে এতসব ভেবে বসে থেকো না। শুধু দেখো কী হয়
–কী আর দেখবো। তুই খুশবু খুশবু করে নিজের বউটাকে তাড়াইলি। মানছি আমি ভাইকে তোর কথা বলি নাই। তাই বলে নিজের সংসারটাকে ভাংবি। বলি যদি খুশবুর জামাইটা না মরতো। তুই ওকে কখনো বিয়ে করতে পারতিস না।
সাইমন হেসে মাকে জড়িয়ে ধরে বলল “সবই ভাগ্য বুঝলে মা। আল্লাহ আমার সহায় আছে বলেই হয় তো। আমি খুশবুকে পাবো।”
–কিন্তু বাচ্চা…
–বললাম তো এতো ভেবো না। বাচ্চা থাকলে কী হবে থাকলো। এমনিতেও এতোদিন আমার আর খুশবুর বিয়ে হলে আমাদের বাচ্চা থাকতো।
~~~
খুশবু ঘুম ভাঙলো সন্ধ্যার পরে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলো মা খাবার এনে বসে আছে তাকে দেখে হাসিমুখে বলল “দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? আয় খেয়ে নে। খুব বাচ্চা বাচ্চা করছিস এভাবে থাকলে বাচ্চা সুস্থ থাকবে।”
–হঠাৎ এমন ভোল পাল্টে গেলো কীভাবে আম্মু। একটু আগে বাচ্চাকে মেরে ফেলার জন্য জোরজবরদস্তি করলে আর এখন আমার বাচ্চার কথা ভেবে খাবার এনেছ।
মুহুর্তেই ওনার চোখের কোনে অশ্রু জমলো বলল “তুই আমাকে বুঝবি না। তোর ভালো করতে গিয়ে আমি খারাপ হয়ে যায়। আমি খারাপ খারাপই ভালো।”
–আম্মু, সাইমন ভাই আমাকে বিয়ে করবে শুনে তুমি খুব খুশি হয়েছো। জানি, তবে আমি তাকে বিয়ে করব না।
–সাইমন ভালো ছেলে খারাপ কী! যাই হোক তোর যা মন চাই করিস। আমি কিছু বললেই তো খারাপ হয়ে যাবো। শুধু তুই সুস্থ থাক এটাই চাই।
–সাইমন ভাই খারাপ না তবে আমি আয়মানকে মনে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না আমার বাচ্চাকে আমি আমার পরিচয়ে বড় করব।
–আচ্ছা তুই যা বলবি। তবে সুস্থ থাক। বাড়িতে চোখের সামনে থাক বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা বলিস না।
তারপরের কয়েকদিন খুশবুর মানসিক চাপ কমেছে বাসার সবাই আর বিয়ে বা বাচ্চা নষ্ট করার কথা তোলে নি। স্বাভাবিক ব্যবহার করছে যেনো কিছুই হয় নি। খুশবু নিজেকে ধাতস্থ করে গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
রিনা রাতের সকল কাজ কর্ম গুছিয়ে ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো হোয়াটসঅ্যাপে সাইমন ভাইয়ের ম্যাসেজ সে লিখেছে "ভাবি ফ্রি হলে একটু কথা বলিয়েন।"
রিনার খেয়াল হলো সাইমন ভাই যাওয়ার সময় কিছু একটা বলে চেয়েছিলেন তাড়া থাকায় না বলে চলে গেছিলো পরে বলবে এটাও বলেছিল। এখনো রিনার খেয়াল আসলো নাহলে আগেই কল দিয়ে জিজ্ঞেসা করে নিতো। ও চটজলদি ম্যাসেজ দিল "হ্যাঁ ভাইয়া বলুন। কেমন আছেন? সেদিন গেলেন আর তো খবর নেই।"
ওপাশ থেকে কয়েক সেকেন্ডেের মধ্যে রিপ্লাই আসলো "আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনারা সবাই খুশবু কেমন আছে?"
--সবাই ভালো। আপনি কী যেনো বলতে চেয়েছিলেন ভাইয়া।
--আপনি কী আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবেন?
--কেনো? হঠাৎ? আপনি কী খুশবুকে বিয়ে করতে চান না?
--না না এমন নয়। আমার কিছু দেওয়ার আছে। খুশবুকে আর কিছু কথাও আছে যেগুলো সামনা-সামনি বলাটাই ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে।
--আচ্ছা কাল ছেলেকে স্কুল থেকে আনার সময় দেখা করলে হবে না?
--হবে।
--ঠিক আছে ভাইয়া লোকেশন কোথায় জানাবেন
চলবে…

0 Comments
ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য 😊 আপনার কমেন্ট আমাদের উৎসাহ দেয়।